| |

হাইকোর্টের নির্দেশে অবশেষে আজাদ হত্যার মামলাটি থানায় নথিভূক্ত, ধর্মমন্ত্রীর পূত্র শান্ত প্রধান আসামী

আপডেটঃ ৭:৫১ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০২, ২০১৮

Ad

মো. নজরুল ইসলাম : অবশেষে হাইকোর্টের নির্দেশ পেয়ে ময়মনসিংহের যুবলীগ নেতা সাজ্জাত আলম শেখ ওরফে আজাদ শেখ হত্যার ঘটনায় মামলা নথিভুক্ত করেছে পুলিশ। মামলায় ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের ছেলে ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্তকে প্রধান আসামি করে ২৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় হত্যা মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার দিলু এই মামলার বাদী বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল ইসলাম।
আজাদ শেখকে ৩১ জুলাই শহরের নাজির বাড়ি এলাকায় প্রকাশ্যে দিবালোকে নির্মামভাবে খুন করা হয়েছে। তাকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি গুলি, জবাই করে আজাদকে হত্যার পর পেট ও বুক চিরে কলিজা ও ফুসফুস বের করে নিয়ে গেছে খুনীরা। এ ব্যাপারে ধর্মমন্ত্রীর ছেলে মোহিত উর রহমার শান্ত বলেন, “প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যাকান্ড ঘটেছে। কারা কী করেছে পুলিশ সব জানে। এ মামলায় আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।” এ হত্যাকান্ডের দু’দিন পর গত ২ আগস্ট ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় ২৫ জনকে আসামি করে একটি এজাহার দায়ের করেন নিহত শেখ আজাদের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার দিলু।
শেখ আজাদ হত্যা মামলার এজাহার গ্রহণ করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মামলা না নেওয়া কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সংশ্নিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেছেন আদালত। বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি খিজির হায়াত সমন্বয়ে গঠিত অবকাশকালীন বেঞ্চ গত বৃহস্পতিবার ৩০ আগষ্ট এ আদেশ দেন। আদেশ বাস্তবায়নের প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৪ সেপ্টেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।
এর আগে এ হত্যাকান্ডের বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন, রাস্তা অবরোধ, মৌন মিছিল, স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আজাদ সমর্থকরা।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম বলেন, “মামলা নিতে বৃহস্পতিবার হাই কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে। শুক্রবার রাতে ধর্মমন্ত্রীর ছেলে মোহিত উর রহমার শান্তকে প্রধান আসামি করে মামলা নেওয়া হয়।”
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- মহানগর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাসেল পাঠান (৩৫), জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মন্তু বাবু (৩৫), যুবলীগের কর্মী সেলিম উদ্দিন ওরফে চৌরা সেলিম (৩৫), শেখ ফরিদ (৩০), তিন সহোদর ভাই ফরহাদ (৩০), ফারুক (২৭) ও মিলন (২৪), দুই সহোদর ভাই নুরুল আমিন (২৮) ও আল-আমিন (২৪), রাজীব (২৩), তিন সহোদর ভাই লিটন (২৫), রকি (২২) ও মেহেদী (২০), রাজিব (৩২), রানা ওরফে কদু রানা (৩০), সাগর ওরফে কলা সাগর (২২), স্বপন (৩০), তিন সহোদর ভাই হাকিম (২৫), ছাত্তার (২৩) ও আব্দুল কাদির(৩৭), রতন (২৪), সাইফুর (৩৩), শ্রাবণ (২১) ও ফজলু (২৫)।
আজাদের বড় ভাই সালাহ উদ্দিন শেখ শামীম সাংবাদিকদের বলেন, আজাদ শেখ আগে শান্তর গ্রুপে রাজনীতি করতেন। কিন্তু শান্ত তাকে টেন্ডারবাজি ও মাদক ব্যবসা করতে বললে আজাদ গ্রুপ বদল করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল এবং পৌর মেয়র ইকরামূল হক টিটু গ্রুপে যোগ দেন।
আজাদের স্ত্রী দিলারা আক্তার বলেন, “নিজ দলের নেতার নির্দেশেই আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। আজ মামলা করতে পেরে স্বস্তি পাচ্ছি। তবে নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় বোধ করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের নিরাপত্তাসহ আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই।” ##

 

ব্রেকিং নিউজঃ