| |

ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামীলীগের রাজনীতির আকাশ ছেয়ে গেছে কালো মেঘে

আপডেটঃ ৭:১৮ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০৪, ২০১৮

Ad

স্পষ্টভাষীঃ ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামীলীগের রাজনীতির আকাশ ছেয়ে গেছে কালো মেঘে। দীর্ঘদিন যাবৎ কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক মনোনিত সভাপতি এহতেশামুল আলম ও সাধারন সম্পাদক মোহিতুর রহমান শান্ত ছাড়া কেন্দ্র কর্তৃক অনুমোদিত কোন বৈধ কমিটি নেই ময়মনসিংহ মহানগরের। যার ফলে সংগঠনটির কার্যক্রম সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক কেন্দ্রীক হয়ে পরেছে।

 

দলের ত্যাগী পরিক্ষীত ও নিবেদিত প্রাণ নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে বিতর্কীত হাইব্রিড ও অনুপ্রবেশকারীদের দিয়ে ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি প্রায় এক বছর আগে জমা দিলেও অনুমোদন করেনি হাই কমান্ড। জমাকৃত কমিটিতে সাবেক শহর আঃলীগের সাধারন সম্পাদক সাদেক খান মিলকি টজু ও মেয়র ইকরামুল হক টিটুর অনুসারীদের কাউকে রাখা হয়নি।

 

সাবেক জেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ময়মনসিংহ পৌরসভার প্যানেল চেয়ারম্যান ঐতিহ্যবাহী আওয়ামী পরিবারের সদস্য কমিশনার নজরুল ইসলাম বলেন, ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে ৩১ জন কোন না কোন ভাবে বিতর্কিত। ২০১৬ সালের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ময়মনসিংহ মহানগর আঃলীগ কমিটির সভাপতি/সাধারন সম্পাদকের নাম কেন্দ্র কর্তৃক ঘোষনা করা হয়। এই কমিটির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান এহতেশামুল আলম ও মোহিতুর রহমান শান্ত।

 

পরবর্তীতে এক বছরের মাথায় ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট প্রস্তাবিত কমিটি কেন্দ্র বরাবর পেশ করেন নেতৃদ্বয়। প্রস্তাবিত কমিটি কেন্দ্রে জমা হওয়ার পরে ময়মনসিংহ মহানগরের আঃলীগ দলীয় ত্যাগী, তৃণমূল নেতা ও কর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রীয়া পরিলক্ষিত হয়। নতুন কমিটিতে স্থান পায় জামাত শিবিরের আত্মীয় থেকে শুরু করে সাবেক বিএনপি নেতাদের অনেকে।

 

এ নিয়ে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে একাধিক অভিযোগ জমা পরে। বিষয়টি হাই কমান্ড ওয়াকিবহাল হওয়ার পর কেন্দ্রীয় কমিটি এখনো অনুমোদন দেয়নি বর্তমান মহানগরের প্রস্তাবিত কমিটিকে। তাই বর্তমানে মহানগর আঃলীগ ঐক্যবদ্ধভাবে কোন দলীয় কর্মসূচি পালন করতে সক্ষম নয়। যার রেশ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উপর পরেছে। মহানগরে তারাও পৃথক পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করে।

 

জানা যায়, ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির ৩১ জনের বিরুদ্ধে নানারূপ অভিযোগ রয়েছে। তার মধ্যে এমন সদস্য আছেন যারা কোনদিন ময়মনসিংহ শহরে প্রত্যক্ষভাবে কোন দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করেন নাই। বর্তমানে সংগঠনটির সাধারন সম্পাদক ও ধর্মমন্ত্রীর ছেলে মোহিতুর রহমান শান্ত ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগের সদস্য আজাদ শেখ হত্যা মামলার প্রধান আসামী হয়েছে। ময়মনসিংহ কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রথমে মামলাটি নিতে না চাইলেও প্রায় এক মাস পর হাইকোর্টের নির্দেশে বাধ্য হয়ে মামলাটি গ্রহন করেছেন কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ।

 

আজাদ হত্যাকান্ডের পর আজাদের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার দিলু পুলিশ মামলা গ্রহন না করায় সাংবাদিক সম্মেলন করে এবং আজাদের সহকর্মী আত্মীয় স্বজন ও তার সমর্থিত দলীয় নেতা কর্মীরা ডিআইজির কার্যালয়ের সামনে ও শহরের প্রধান প্রধান সড়কে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে এবং ডি.আই.জি ও পুলিশ সুপার বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করে। এহেন পরিস্থিতিতে মহানগর আঃলীগের সভাপতি আলহাজ¦ এহতেশামুল আলম পবিত্র হজ¦ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কা শরীফে অবস্থান করছেন।

 

সাধারন সম্পাদক মোহিতুর রহমান শান্ত আজাদ হত্যার বিতর্কে পরেন। যার ফলে শোকের মাস আগষ্টে মহানগর আঃলীগের উদ্যোগে কোন কর্মসূচি পালিত হয়নি। এমনকি ২১ আগষ্টের মত শোকাবহ দিনটিতেও দলীয় কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন, মিলাদ ও কোনো প্রকার আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়নি। প্রসঙ্গত উল্লেখ থাকে যে, আজাদ শেখ কে মহানগর যুবলীগে সদস্য হিসেবে স্থান করে দিয়েছিল মোহিতুর রহমান শান্ত। পরবর্তীতে তার সাথে মতবিরোধ হওয়ায় সে শান্তর পক্ষ ত্যাগ করে ও অন্য পক্ষে যোগদান করে।

 

ময়মনসিংহের আঃলীগের রাজনৈতিক ইতিহাসে কোন নেতার বিরুদ্ধে হত্যা মামলার বিচার চেয়ে রাজপথে মিছিল এটাই প্রথম। সাবেক শহর আঃলীগের তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কেন্দ্র যখন মহানগর সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেছিল তখন উভয় নেতা ত্যাগী রাজপথের কর্মীদের নিয়ে কমিটি গঠন করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছিল কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।

 

এহেন অবস্থায় ময়মনসিংহের মহানগর আঃলীগের ঐক্যবদ্ধ কর্মকান্ড ব্যাহত হচ্ছে। বিভক্তির সুর সর্বত্ত শুনা যাচ্ছে। তাই অভিজ্ঞজনেরা বলেন নতুন কমিটির সভাপতি / সাধারন সম্পাদক কেন্দ্রকর্র্তৃক মনোনয়নের পূর্বে ময়মনসিংহ শহর আঃলীগে যে অবস্থা ছিল এখন মহানগর আঃলীগে সেই অবস্থা বিরাজ করছে ও আজাদ শেখ হত্যার পর নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। আঃলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত জনেরা মনে করেন ময়মনসিংহ মহানগর আঃলীগের আকাশ আবার কালো মেঘে ছেয়ে যাচ্ছে।

ব্রেকিং নিউজঃ