| |

ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগ নেতা প্রয়াত সাজ্জাদুল হাসান শেখ আজাদের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার দিলুর নামে আদালতে মানহানী মামলা

আপডেটঃ ৭:২০ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০৪, ২০১৮

Ad

ইব্রাহিম মুকুট ॥ ধর্মমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মতিউর রহমানকে রাজাকার আখ্যায়িত করায় ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগ নেতা প্রয়াত সাজ্জাদুল হাসান শেখ আজাদের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার দিলুর নামে আদালতে মানহানী মামলা দায়ের হয়েছে। ময়মনসিংহ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের যুগ্ন আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন মঙ্গলবার এ মামলাটি করেন। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল আদালতের বিচারক রোজিনা খান মামলাটি গ্রহণ করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেছে।

মামলা সুত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগ নেতা প্রয়াত সাজ্জাদুল হাসান ওরফে শেখ আজাদ হত্যাকান্ডের বিচারের দাবীতে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী গত ২৮ আগষ্ট শহরের গাঙ্গিনার পাড় থেকে ফিরোজ জাহাঙ্গীর চত্বর পর্যন্ত এলাকায় মানববন্ধন করে। মানববন্ধনে নিহত শেখ আজাদের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার দিলু সহ বক্তারা ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমানকে রাজাকার বলে আখ্যায়িত করে। মিথ্যা মর্যাদাহানীকর ও কুরুচীপুর্ণ এ সব উক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভাইরাল হয়ে দেশে বিদেশে প্রচার হওয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মতিউর রহমানকে হেয় প্রতিপন্ন, মান সম্মানের ব্যাপক ক্ষতি সাধন ও মুক্তিযোদ্ধাকে কটাক্ষ করা, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হিসাবে সংক্ষুব্দ হয়ে মোস্তাফিজুর রহমান এ মামলাটি করেন বলে দাবী করেন।

মামলায় বাদি মোস্তাফিজুর রহমান, দিলরুবা আক্তার দিলু, তুলি, হাসিনা, ইতি, আনোয়ারা বানু, ফরিদা, আলমগীর, মানিক, শেখ ছাব্বিরসহ নয় জনকে আসামী করে অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল আদালতে মামলা করেন। আদালত পর্যালোচনাশেষে একমাত্র দিলরুবা আক্তার দিলুকে আসামী হিসাবে গ্রহণ করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন। যার মামলা নং ৯০৮/২০১৮ইং। আদালতে বাদির পক্ষে মামলাটি দাখিল করেন এডভোকেট আব্দুর রহমান আল হোসাইন তাজ। এ সময় তাকে সহযোগীতা করেন এডভোকেট তাজুল ইসলাম খোকন।

উলে¬খ্য, ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগ নেতা আকুয়া এলাকার সাজ্জাদুল হাসান ওরফে শেখ আজাদকে গত ৩১ জুলাই প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে ও জবাই করে হত্যা করে। পরে খুনীরা নিহত আজাদের নিথর দেহ থেকে বুক চীরে কলিজা ছিরে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার দিলু ২ আগষ্ট কোতোয়ালী মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের ছেলে মোহিত উর রহমান শান্ত, মহানগর যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক রাসেল পাঠানসহ ২৫জনকে আসামী করা হয়। ধর্মমন্ত্রী পুত্র ও মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্তকে আসামী করায় পুলিশ মামলা গ্রহণ করেননি। অবশেষে নিহতের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার দিলু উচ্চ আদালতে রীট করে। রীটের প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ মোহিত উর রহমান শান্ত, রাসেল পাঠানসহ ২৫জনের নামে হত্যা মামলা গ্রহণ করে।

ব্রেকিং নিউজঃ