| |

হিটলারের নির্দেশে জার্মানীতে ‘ইয়াবার’ সৃষ্টি নির্মূলে দরকার সম্মিলীত প্রচেষ্টা ও জনসচেতনতা

আপডেটঃ 2:20 pm | September 10, 2018

Ad

স্টাফ রিপোর্টারঃ মাদকের ভয়াবহতা থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য বাংলাদেশ সরকার চূড়ান্তব্যবস্থা গ্রহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ^াস করে তাদের কর্ম তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। সারাদেশ ব্যাপী কিছুদিন পূর্ব্ওে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক গ্রহনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের বন্ধুক যুদ্ধে নিহত হয়েছে অনেক ব্যাক্তি। কিন্তু তার পরেও মাদককে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে না। এর জন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা বৃদ্ধি।

 

স্কুল কলেজ ও পারিবারিকভাবে মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারলে এর স্থায়ী সমাধান সম্ভব। মাদক বিশেষ করে ‘ইয়াবা’ নগর মহানগর থেকে গ্রামগঞ্জ পর্যন্ত এর ব্যবহারের ব্যাপ্তি ঘটেছে। অনেক চেষ্টার পরেও মাদককে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ হিসেবে ‘ইয়াবা’র মূল আমদানী কারকরা ধরা ছুয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

 

যার ফলে মাদক থেকে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ‘ইয়াবা’র মূল ব্যবসায়ীরা স্থায়ী নয়। শুধুমাত্র খুচরা বিক্রেতা ও ব্যবহার কারীদের গ্রেফতার করে কিংবা ক্রস ফায়ার করে একে নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব নয়। যেহেতু ‘ইয়াবা’ সহজে বহন করা যায় এবং তৃণমূল পর্যায়ে পৌছানো সহজ হয় বিধায় একে নিয়ন্ত্রন করা কঠিন। তাছাড়া রয়েছে পুলিশের পর্যাপ্ত জনবলের অভাব।

 

এবং কিছু অসাধু পুলিশ ‘ইয়াবা’ ব্যবাসায়ীদের পূর্ব থেকেই সতর্ক করে দেওয়াও ‘ইয়াবা’ সম্পূর্ণভাবে নির্মূল না হওয়ার মূল কারণ। তারপরেও সরকার ও পুলিশ ফাস্ট প্রাইরটি দিয়ে মাদক নির্মূলের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। মাদক নির্মূলের জন্য অভিবাবক থেকে শুরু করে প্রতিটি নাগরিকের সার্বিকভাবে প্রচেষ্ঠা চালাতে হবে। মাদক নির্মূলের জন্য অনেক কঠোর আইন আছে।

 

যাবৎজীবন থেকে শুরু করে মৃত্যুদন্ড পর্যন্ত। অপরদিকে পুলিশ আসামীদের গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠালেও আইনের ফাক দিয়ে অপরাধীরা ম্ক্তু হয়ে এসে আবার পূর্বের ন্যায় মাদকের ব্যবসা ও ব্যবহার শুরু করে। তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায় ‘ইয়াবা’ দেশের অন্যান্য এলাকা থেকে ময়মনসিংহ মহানগরে যাত্রীবাহী বাস,ট্রেন,ট্রাকসহ বিভিন্ন পরিবহনের মাধ্যমে শহরে প্রবেশ করে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক গ্রহন কারীদের নিকট পৌছায়। এখন মাদক ‘ইয়াবা’ সম্পর্কে আলোকপাত করতে চাই।

 

‘ইয়াবা’র সৃষ্টি হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধের সময় জার্মানীতে। জার্মান প্রেসিডেন্ট অ্যাডলফ হিটলার দীর্ঘ সময় ধরে যাতে জার্মান সৈন্যদের ক্লান্তি না আসে উদ্দিপনার সহিত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে, যুদ্ধ বিমানের পাইলটদের নিদ্রাহীনতা ও মনকে উৎফুল্ল এবং চাঙ্গা রাখার জন্য জার্মান রসায়নবীদদের একটি ঔষধ তৈরি করার আদেশ দেন।

 

পাঁচ মাস রসায়নবীদরা পরিক্ষা নিরিক্ষা করে তৈরি করেন একটি ঔষধ যার নাম ‘ইয়াবা’। অ্যামফিটামিন ও ক্যাফিইনের সংমিশ্রনে তৈরি হয় ‘ইয়াবা’। আজ হিটলার নেই কিন্তু রয়ে গেছে জীবন ধ্বংশকারী সেই ‘ইয়াবা’ ভয়ংকর মাদক হিসেবে। বর্তমানে বাংলাদেশে যে সমস্ত ‘ইয়াবা’ পাওয়া যায় তার অধিকাংশ আসে মিয়ানমার থেকে।

 

বাংলাদেশে মিয়ানমারে তৈরিকৃত ‘ইয়াবা’ চল্লিশটি সীমান্তপয়েন্ট দিয়ে প্রবেশ করে। প্রতিদিন ত্রিশ লাখ করে মাসে প্রায় দশ কোটি ‘ইয়াবা’ প্রবেশ করে বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে। ৭-৮ জনের হাত বদলে ‘ইয়াবা’ পৌছে যায় দেশের বিভিন্ন এলাকায়। বহনকারীরা জানেনা তারা কার আমদানীকরা ‘ইয়াবা’ বহন করছে।

 

তাই প্রকৃত ‘ইয়াবা’ ব্যবসায়ীদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়না। নিত্যনতুন কৌশলে মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও টেকনাফ থেকে ঢাকাসহ সারাদেশে ‘ইয়াবা’র চালান পাঠায় মাদক ব্যবসায়ীরা। বিমানে, জাহাজে, লঞ্জে, ট্রেনে, বাসে, এমনকি কোরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ‘ইয়াবা’ ছড়িয়ে পরছে সারাদেশে।

 

পুরুষ নারী এমনকি শিশুদের ব্যবহার করা হচ্ছে ‘ইয়াবা’ ব্যবসায়। ব্যবসায়ীরা নতুন নতুন কৌশলে পুলিশের চোখ ফাকি দিয়ে গাড়ির ইঞ্জিনের মধ্যে, কম্পিউটারের সিপিইউর ভিতরে, মাছের পেটে, জুতা, কাঠাল, তরমুজ, মিষ্টি কোমড়ার ভিতরে অবিনব কায়দায় ‘ইয়াবা’ ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে দেশের একপ্রান্ত থেকে অপরপ্রান্তে। সাধারনত ৩ থেকে ৪ মিলিমিটার ব্যাস আড়াই থেকে তিন সেন্টিমিটার পুরু গোলাকৃত টেবলেটের আকারে এটি তৈরি করা হয়। রং সাধারনত লালচে, কমলা কিংবা সবুজাভ হয়।

 

আঙ্গুর, কমলা, বেনিলা প্রভৃতি স্বাধের ন্যায় এটি। এটির গায়ে “ডব্লিও ওয়াই” “আর” “ও.কে” “এম.ওয়াই” প্রভৃতি লগো অক্সিকত থাকে। ‘ইয়াবা’ পাউডার আকারে তৈরি হয়। ‘ইয়াবা’ সেবন করলে দুই থেকে তিন ঘন্টার মধ্যে ¯িœয়ু উত্তেজক ক্র্র্র্র্র্র্র্র্রিয়া শুরু করে।

 

প্রায় দশ থেকে বার ঘন্টা স্থায়ী হয়। ব্যবহারকারী শারিরীক ও মানষিকভাবে এমন এক জগতে অবস্থান করে যেখানে ক্ষুদা, বেদনা, ক্লান্তি ও অবসাধ নেই। অতিরিক্ত উত্তেজন মিশ্রিত ‘ইয়াবা’ কোন সাধারন ও দূর্বল মানুষের উপরে প্রয়োগ করা হলে হার্টফেল ও ব্রেইনস্ট্রোকের মত ঘটনা ঘটে। ‘ইয়াবা’ মস্তিস্কের সূক্ষ্ম নালীগুলোকে ধ্বংস করে ব্রেইনস্ট্রোক ঘটাতে সাহায্য করে।

 

‘ইয়াবা’ কোকেনের চেয়ে মারাত্মক। এর ক্রিয়া কোকেনের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী। এর কারন হলো ‘ইয়াবা’র মূল উপাদান মেথামফিটামিন কোকেনের চেয়ে ধীর গতিতে মেটাবলাইজ হয়। সাধারনত গৃহীত মাত্রা বা পরিমানের উপর ‘ইয়াবা’র প্রতিক্রীয়া নির্ভর করে। ‘ইয়াবা’র প্রতিক্রীয়ার মধ্যে উল্লেখ হলো: ইউফোরিয়া বা চরম শিহরনমূলক আনন্দ, উচ্ছলতা প্রগলতভতা, অনিদ্রা, ক্ষুধামন্দা, অরুচি ও বমিভাব, শরীরে গরম অনুভ’মি,মুখের মধ্যে শুষ্কভাব, ঘাম, ছটফটানি, চপলতা, স্নয়ুর অসম্ভব জাগ্রতা সংবেদনশীলতা, হৃদস্পন্দনবৃদ্ধি, রক্তচাপ বৃদ্ধি, শ্বাস প্রশ্বাস বৃদ্ধি ইত্যাদি।

 

দীর্ঘদিন ও বেশি মাত্রায় ‘ইয়াবা’ ব্যবহারের ফলে যেসব বিরুপ প্রতিক্রীয়া দেখা যায় সেগুলো হলো: শরীরে অতিমাত্রায় শিহরন ও কম্পন, দৃষ্টিবিভ্রম, নানা রকম মনস্তাত্তিক বিকৃতি, তীব্র হতভম্বতা, মানসিক বিভ্রম, স্থায়ী অনিদ্রা, মেজাজে অসহিষ্ণতা, উন্মত্ততা, আক্রমণাত্মকভাব, মারমুখী ও ধ্বংসাত্মক আচরন, উদ্বেগ, দুশ্চিতা, খিচুনি, অসহায়বোধ, স্মৃতিভ্রম, স্মৃতিভ্রষ্টতা, হাইপার টেনশন, উচ্চ রক্তচাপ, মস্তিকের ভারসাম্য নষ্ট করে পারকিনসন,স এর মত মাথায় ও শরীরে কম্পন রোগ সৃষ্টি করে।

 

‘ইয়াবা’সহ মেথাফিটামিন যেকোনো উপযোগ বা উৎপাদিত পণ্য মধ্যম থেকে উচ্চ মাত্রায় সেবক করলে প্রত্যাহারজনিত প্রতিক্রীয়াসহ মারাত্মক শারিরীক ও মানসিক আসক্তি সৃষ্টি হয়। ‘ইয়াবা’ ব্যবহারকারীর মনে হয় যেন সারা শরীরের চামড়ার নিজ দিয়ে ছাড়পোকা কিলবিল করে নড়ে বেড়াচ্ছে। ব্যবহারকারীরা এদের টিপে বের করার জন্য উন্মক্ত আচরন করতে থাকে।

 

তরুন ও কিশোরদের কাছে ‘ইয়াবা’ কর্মোদ্দীপক, ক্লান্তিবিনাশী এর যৌন উত্তেজন ট্যাবলেট হিসেবে পরিচিত। তাই এদের মাঝে ‘ইয়াবা’র আকর্ষন বেশি। বিশেজ্ঞদের মতে, ‘ইয়াবা’ আসক্তি প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ অনেক সহজ। ‘ইয়াবা’ আগ্রাসন থেকে দেশের যুবসমাজকে রক্ষা করতে প্রয়োজন সামগ্রিক প্রতিরোধ।

 

‘ইয়াবা’র ব্যবহার সমাজে এমন এক পর্যায়ে পৌছেছে মাদন নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে এককভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। ‘ইয়াবা’ প্রতিরোধে প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন ও জনসচেতনতা সৃস্টি।

ব্রেকিং নিউজঃ