| |

মৃত্যুর ঝুঁকি নেবেন, তবু ওভারব্রিজে উঠবেন না

আপডেটঃ ২:৩২ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮

Ad

শনিবার (৮ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১১টা। রামপুরা টেলিভিশন ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে দেখা যায়, ব্যস্ত রাস্তা দিয়ে ছুটে চলছে যাত্রীবাহী বাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, রিকশা। এসব যানবাহন চলার মাঝেই একের পর এক পথচারী ঝুঁকি নিয়ে রাস্তার একদিক থেকে অন্যদিকে যাতায়াত করছেন। পথচারীরা যে স্থান দিয়ে এভাবে রাস্তা পারাপার হচ্ছেন ঠিক তার পাশেই রয়েছে একটি ফুটওভার ব্রিজ। তবে বেশিরভাগ পথচারী এ ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করছেন না। শুধু রামপুরা নয়; রাজধানীর প্রায় প্রতিটি অঞ্চলেই পথচারীরা ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন।

ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপারের কারণ কী- এ বিষয়ে শনিবার জাগো নিউজের এই প্রতিবেদক কমপক্ষে ৩০ জনের সঙ্গে কথা বলেন। এদের প্রত্যেকেই জানান, ফুটওভার ব্রিজের নিচ দিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকা ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা পারাপারের প্রধান কারণ।

সরেজমিনে রামপুরা, বাড্ডা, মালিবাগ আবুল হোটেল, মতিঝিল, টিকাটুলি অঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, এ অঞ্চলগুলোর যেখানে ফুটওভার ব্রিজ আছে তার প্রতিটির নিচ দিয়ে অথবা ১৫-২০ হাত দূরে অবাধে রাস্তা পারাপারের সুযোগ আছে।

এসব রাস্তায় লোহার রডের রেলিং তুলে বা অন্য কোনো উপায়ে পথচারীদের রাস্তা পারাপারে প্রতিবন্ধকতা তৈরির কোনো দৃশ্য চোখে পড়েনি। বরং কিছু কিছু অঞ্চলের সড়ক বিভাজকে (দুদিকের রাস্তার মাঝের স্থান) লোহার রেলিং থাকলেও ফুটওভার ব্রিজের পাশেই পথচারীদের রাস্তা পারাপারের জন্য ফাঁকা রাখা হয়েছে। যে কারণে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে রাস্তা পারাপারের জন্য সেই ফাঁকা রাস্তা ব্যবহার করছেন পথচারীরা।

মালিবাগ আবুল হোটেলের সামনে অবস্থান করে দেখা যায়, একের পর এক পথচারী রাস্তার মাঝ দিয়ে পারাপার হচ্ছেন। অথচ এ স্থানটিতে বেশ পরিপাটি একটি ফুটওভার ব্রিজ রয়েছে। এমনকি এই ফুটওভার ব্রিজটির নিচে সবসময় এক বা একাধিক ট্রাফিক সদস্যও থাকেন। তবে ঝুঁকি নিয়ে পথচারীদের রাস্তা পারাপারের ক্ষেত্রে কেউ কোনো বাধা দেয় না।

ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হওয়া মো. রবিন নামের এক পথচারী বলেন, ‘ফুটওভার ব্রিজে উঠতে একটু ঘুরে যেতে হবে। আবার সিঁড়ি দিয়ে উঠতেও একটু কষ্ট হয় এবং রাস্তা পারাপারে সময় বেশি লাগে। কিন্তু নিচে দিয়ে দৌড় দিয়েই রাস্তা পার হওয়া যায়। কোনো সমস্যা হয় না। কেউ বাধাও দেয় না।’

এভাবে রাস্তা পারাপারে তো যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে- এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, ঠিকই বলেছেন। কিন্তু এখানে তো প্রায় সবাই এভাবেই যায়। কোনো দুর্ঘটনা ঘটে না। চার রাস্তার মোড় হওয়ার কারণে এখানে গাড়ির গতি কম থাকে। একটু এদিক-ওদিন তাকিয়ে সহজেই ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করেই রাস্তা পারাপার হওয়া যায়।’

রামপুরা টেলিভিশন ভবনের পাশের ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে রাস্তা পার হচ্ছিলেন রাইমা নামের এক পথচারী। তিনি বলেন, ‘ফুটওভার ব্রিজের নিচ দিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকায় এভাবে রাস্তা পার হয়েছি। এখান দিয়ে প্রায় সবাই এভাবেই রাস্তা পার হয়। তাই আমিও পার হয়েছি।’

তার মতে, রাস্তার মাঝে রেলিং থাকল এভাবে পার হওয়া যেত না। তখন সবাই বাধ্য হয়ে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করত।

ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে সবাই যে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন, তা নয়। আবুল হোটেল, রামপুরা এবং বাড্ডার ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করেও অনেককে রাস্তা পার হতে দেখা গেছে।

মধ্য বাড্ডার ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করে রাস্তা পার হওয়া সুমাইয়া আক্তার নামের এক স্কুল শিক্ষার্থী বলে, ‘আমি প্রতিদিন এই ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করে স্কুলে যাই এবং বাসায় ফিরি। আমি মনে করি, নিচ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হওয়া ঠিক না। তাই সবসময় ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করি।’

সে আরও বলে, ‘ফুটওভার ব্রিজ তো বানানো হয়েছে রাস্তা পার হওয়ার জন্য। তাহলে কেন ঝুঁকি নিয়ে আমরা নিচ দিয়ে পার হব? এক্ষেত্রে আমাদের সচেতনতার অভাব আছে। এর সঙ্গে পরিকল্পনারও অভাব আছে। ফুটওভার ব্রিজ দেয়ার পাশাপাশি এ স্থানে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হওয়ার ব্যবস্থাও বন্ধ করা উচিত ছিল।’

সে মনে করে, যদি সড়ক বিভাজকের ওপর লোহার রডের রেলিং থাকত, তাহলে কেউ ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতো না। তখন সবাই বাধ্য হয়ে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করত।’

ব্রেকিং নিউজঃ