| |

যুবলীগ নেতা আজাদ শেখের হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহ আঃলীগে বিভক্তি

আপডেটঃ ৭:০৪ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮

Ad

স্পষ্টভাষীঃ ময়মনসিংহ সদর থানার আকুয়ার মড়ল পাড়ার আকাশে ড্রোন ও পুলিশের ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে সন্ত্রাস দূর করতে পারেনি পুলিশ। প্রতিপক্ষের হাতে প্রকাশ্য দিবালোকে ৩১ জুলাই নিহত হলো ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগ নেতা আজাদ শেখ। যে কারণে ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর আঃলীগের বর্তমানে অনৈক্য ও অশান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

 

এজন্য অনেকেই পুলিশ প্রশাসনের এ ব্যর্থতাকে দায়ী করে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক পূর্ব মূহুর্তে এ ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা আঃলীগের জন্য ক্ষতিকারক। আঃলীগের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মতৎপরতা ভালোই চলছিল।

 

জেলা ও মহানগরে কেন্দ্র কর্তৃক মনোনীত সভাপতি/সাধারন সম্পাদক পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবিত কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় কমিটি বরাবর জমা দেওয়ার পর কমিটিতে স্থান না পাওয়া তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের অভিযোগ ও সমালোচনা ছাড়া আর তেমন কোন সমস্যা ছিল না আঃলীগে।

 

কিন্তু ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগের সদস্য আজাদ শেখ হত্যার পর দলটি বিভক্তির মূখে পরে। যার ফলে নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সমর্থক ও সাধারন মানুষের মধ্যে নেতীবাচক প্রভাব পরেছে। বর্তমানে অশান্ত পরিবেশ রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরাজমান।

 

যে আজাদ শেখ কে নিয়ে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে সে শহীদ মিন্টু মেমোরিয়াল কলেজের সামনে রেললাইনের পাড় ঘেষে গড়ে উঠা অস্থায়ী অবৈধ বাজারটিতে বিভিন্ন ধরনের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিল। ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সময় যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটিতে সদস্য হিসেবে অন্তুর্ভূক্ত হয় মহানগর আঃলীগের সাধারন সম্পাদক ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের পুত্র মোহিতুর রহমান শান্তর হাত ধরে।

 

শুরু হয় আজাদ শেখের রাজনৈতিক জীবন। বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে শান্তুর নাম সম্মিলিত ব্যান্ড মাথায় বেধে বিশাল বিশাল মিছিল নিয়ে দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে দেখা যায় তাকে। আজাদ শেখ পরিচিত হয়ে উঠে একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে। কিছুদিন যেতে না যেতেই আজাদ শেখের সাথে তার রাজনৈতিক স্রষ্টা মোহিতুর রহমান শান্তর বিরোধ শুরু হয়।

 

আজাদ শেখ শান্ত গ্রুপ ছেড়ে যোগ দেয় জেলা আঃলীগের সাধারন সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুলের গ্রুপে। আজাদ শেখ ও মোহিতুর রহমান শান্ত একি এলাকা আকুয়া মড়ল পাড়ায় বসবাস করত বিধায় আজাদ শেখের পক্ষ পরিবর্তনকে শান্তর অনুসারীরা ভাল চোখে নিতে পারেনি। শুরু হয় আজাদ শেখ ও তার পূর্ববর্তী সহকর্মীদের সাথে দ্বন্ধ।

 

তার একসময়ের সহকর্মী ফরিদের সাথে দূরত্ব বাড়তে থাকে। যার ফলশ্রুতিতে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। অশান্ত হয়ে উঠে আকুয়ার মড়ল পাড়া। প্রতিপক্ষ দুই গ্রুপের মধ্যে বাড়িঘড়ে হামলা থেকে শুরু করে অগ্নিসংযোগ গুলি বর্ষনের মত ঘটনাও প্রতিনিয়ত ঘটতে থাকে। আকুয়া পরিচিতি লাভ করে সন্ত্রাসের জনপদে।

 

উল্লেখ থাকে যে, আকুয়া মড়ল পাড়ায় ময়মনসিংহ জেলা আঃলীগের সাবেক সভাপতি/সাধারন সম্পাদক বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের বাড়ি। মহানগর আঃলীগের সাধারন সম্পাদক মোহিতুর রহমান শান্তও আকুয়ায় বসবাস করেন।

 

জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক এড. আজহারুল ইসলাম, জেলা মহিলা আঃলীগের সভানেত্রী, জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক, মহানগর ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক, ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান, জেলা মটরমালিক সমিতির সভাপতি মনতাজ উদ্দিন মন্তা বাস করেন আকুয়া মড়ল পাড়ায়। উল্লেখ থাকে যে, উপরোক্ত নেত্রীবৃন্দ ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের নিকট আত্মীয়। এদিকে আকুয়া মড়ল পাড়ায় দুই প্রতিদ্বন্ধী গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ব্যাপকতর রূপ ধারন করে।

সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ তৎপর হয়ে উঠে। সন্ত্রাসের মূলহোতাদের ধরতে পুলিশ আকুয়ার আকাশে ড্রোনের সাহায্যে ব্যাপক তল্লাশী চালায়। বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাবৃন্দ সহ তৎকালীন পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামের সরাসরি তত্ত¦াবধানে কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত বর্তমান কর্মকর্তা ডিবি পুলিশ সম্বনয়ে চিরনী অভিযান চালায় আকুয়া মড়ল পাড়ায়। কিন্তু সব অভিযান ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। পুলিশ কোন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়না।

 

এমনি এক সময়ে জুলাই মাসের ৩০ তারিখে মহানগর যুবলীগ নেতা আজাদ শেখকে প্রথমে গুলি ও পরে জবাই করে হত্যা করা হয়। তারপর তার বুক চিরে কলিজা বের করে নিয়ে যায় তার হত্যাকারীরা। আজাদ শেখের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার দিলু ধর্মমন্ত্রীর ছেলে মহানগর আঃলীগের সাধারন সম্পাদক মোহিতুর রহমান শান্তকে প্রধান আসামী করে ২৫জনকে অভিযোক্ত করে ২রা আগষ্ট থানায় এজাহার দায়ের করে। কিন্তু কোতোয়ালী থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম মামলাটি প্রথমে গ্রহন না করায় বাদীনি হাইকোর্টে রিট করে। হাইকোর্টের নির্দেশে কোতোয়ালী থানা পুলিশ হত্যাকান্ডের প্রায় এক মাস পর মামলাটি গ্রহন করে।

 

ইতিপূর্বে মামলাটি গ্রহন করার জন্য আজাদ শেখের স্ত্রী, পরিবারের লোকজন, স্থানীয় জনগন ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা ময়মনসিংহ বিভাগের ডি.আই.জির অফিসের সামনে মানববন্ধন করে ও ডি.আই.জি নিবাস চন্দ্র মাঝি মহোদয় এবং পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বরাবর স্বারকলীপি প্রদান করে।

 

আজাদ শেখের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার দিলু এক সাংবাদিক সম্মেলনে মোহিতুর রহমান শান্তকে অভিযুক্ত করে বলে, তার স্বামী আজাদ শেখ চাদাবাজী, মাদকব্যবসা ও অন্যান্য অনৈতিক কাজ করতে অস্মীকৃতী করায় এবং অন্যগ্রুপে রাজনৈতিক করায় মোহিতুর রহমান শান্তর নির্দেশে তার অনুসারীরা আজাদ শেখকে হত্যা করেছে।

 

এদিকে মোহিতুর রহমান শান্ত বার বার আজাদ শেখের হত্যাকান্ডের সাথে তার সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে বলেন, আজাদ চাদাবাজী ও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কারণে তিনি তাকে তার কাছ থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছিল এবং এধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছিল। সে কোনভাবেই আজাদের হত্যাকান্ডের সাথে যুক্ত নয়।

 

এটি একটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল। তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের লোকজন সুনাম নষ্ট ও তাকে বিতর্কীত করার জন্যই উদ্দেশ্যমূলক ভাবে আজাদ শেখের হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত করে তার নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। অভিজ্ঞজনেরা মনে করেন, পুলিশ যদি উপযুক্ত সময়ে বিবাদমান দুই গ্রুপের সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসত তাহলে হইত এই হত্যাকান্ডটি সংগঠিত হত না। এক্ষেত্রে পুলিশের ব্যর্থতাকেই সবাই দায়ী করছে।

 

আজাদ হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে আজাদের সমর্থকরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মাননীয় ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানকে রাজাকার বলে গালি দিয়েছে বলে অভিযোগ করে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড আজাদের স্ত্রী দিলরুবার নামে মানহানী মামলা করে। বর্তমানে আজাদের স্ত্রী জামিনে মুক্ত আছেন। কিন্তু অধ্যক্ষ মতিউর রহমানকে রাজাকার বলাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে জেলা ও মহানগর আঃলীগ এবং আঃলীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলি বিভক্ত হয়ে পরেছে।

 

এমনি অবস্থায় আগামী ১৩ই সেপ্টেম্বর মুক্তিযোদ্ধা জনতার সমাবেশ ডেকেছে মহানগর আঃলীগ। বিভিন্ন সময় আঃলীগের নেত্রীবৃন্দ পরস্পর বিরোধী অসৌজন্যমূলক বক্তব্য রেখে যাচ্ছে যা দলীয়ভাবে শিষ্টাচার বর্হিভূত। এধরনের কর্মকান্ড আত্মঘাতী কর্মকান্ডের সামিল বলে বিবেচিত হচ্ছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে এধরনের কর্মকান্ড শুধু আঃলীগকে বিভাজন নয় দলের ইমেজ ও ভাবমূর্তী ক্ষুন্ন করছে বলে মনে করেন সাধারন জনগন।

 

অনেকেই মনে করেন পুলিশ যদি সঠিক সময়ে সঠিক স্বিদ্ধান্তটি গ্রহন করতে পারত এবং কার্যকর ভূমিকা পালন করত তাহলে এই পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব হত। জঙ্গী ধরতেও পুলিশ এধরনের তৎপরতা চালায় না। যা আকুয়া মড়ল পাড়ায় পুলিশ চালিয়েছিল।

 

স্থাপন করা হয়েছিল অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প ও ডি.বি পুলিশের ব্যাপক তৎপরতা থাকার পরেও আজাদ হত্যাকান্ডটি সংগঠিত হয় যা পুলিশের ব্যর্থতার পরিচয়। আজাদ হত্যাকান্ডে পুলিশ প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে আঃলীগের সুনাম ও বিনষ্ট হচ্ছে দলীয় ঐক্য।

ব্রেকিং নিউজঃ