| |

কেউ বলতে পারবে না, কারো গলা টিপে ধরেছি: প্রধানমন্ত্রী

আপডেটঃ ১:২০ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৮

Ad

গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কথা বলার স্বাধীনতা সবারই আছে। কেউ বলতে পারবে না, কারো গলা টিপে ধরেছি। বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে অসুস্থ, অসচ্ছল ও দুর্ঘটনাজনিত কারণে আহত এবং নিহত সাংবাদিক পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক সহায়তা, ভাতা ও অনুদানের চেক তুলে দেয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা সাংবাদিকদের জন্য পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। আমরাও সেটি বজায় রেখেছি। কিন্তু স্বাধীনতা ভালো, তবে বালকের হাতে স্বাধীনতা মানায় না।

সাংবাদিকদের কল্যাণে বঙ্গবন্ধুর নেওয়া নানা পদক্ষেপ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু বেকার সাংবাদিকদের সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। তিনি সাংবাদিকদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করেছিলেন। অথচ তারাই পঁচাত্তরের পর বঙ্গবন্ধুর সমালোচক হয়ে উঠেছিল। তারা বলা শুরু করল জাতির জনক গণমাধ্যম রাষ্ট্রীয়করণ করে স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছেন। অথচ তাদের গণমাধ্যম পরিচালনার মতো অবস্থা কিন্তু তখন ছিল না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৯৬ সালে যখন ক্ষমতায় আসি তখন দেশে শুধু সরকারি একটি টিভি চ্যানেল ও একটি রেডিও ছিল। আমরা টেলিভিশন চ্যানেল, সংবাদপত্র ও রেডিও বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেই। একটাই উদ্দেশ্য ছিল, অবাধ তথ্য প্রবাহ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে আরো ২০ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করে দিয়েছি। এই ফান্ডে আমি কিছু টাকা দিয়েছিলাম। পত্রিকার মালিকরা এই ফান্ডে কোনও টাকা দেননি। মাত্র দুজন টেলিভিশন মালিক ফান্ডে সহায়তা করেছেন। সেখানে এখন ১৪ কোটি টাকা আছে। আমি আরো ২০ কোটি টাকা দেবো। এসময় সংবাদমাধ্যম মালিকদের কল্যাণ ট্রাস্টে অনুদান দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমি মনে করি, এটি আমার একটা দায়িত্ব। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যা যা করা দরকার আমরা তা করছি।

অনুষ্ঠানে অসুস্থ, অসচ্ছল ও দুর্ঘটনাজনিত কারণে আহত এবং নিহত ১১৩ জন সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের হাতে ৮৫ লাখ টাকা অনুদানের চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিশেষ অতিথি প্রধানমন্ত্রী তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম রহমতউল্লাহ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, বিএফইউজের মহাসচিব মোল্লা জালাল, সাধারণ সম্পাদক শাবান মাহমুদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু জাফর সূর্য, সাধাররণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী প্রমুখ।