| |

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বনাম বাক স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতা

আপডেটঃ ৮:১১ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৮

Ad

প্রদীপ ভৌমিকঃ গত বুধবার জাতীয় সংসদে ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল পাশ হয়েছে। বিতর্কীত ৩২ ধারা বজায় রেখে কণ্ঠভোটে বিলটি সংসদে পাশ হয়। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পরিক্ষা নিরীক্ষা করার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত নিয়ে বিল চূড়ান্ত করে সংসদে জমা দেয় সংসদীয় কমিটি। তাই কমিটির বৈঠকে গনমাধ্যমের প্রতিনিধিরা ও আরও অনেকেই বিলটির সংশোধনীর প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু নতুন আইনের খসড়া তৈরির পর সাংবাদিক, লেখক, গবেষক, আইনজীবি, সুধী সমাজ, পেশাজীবি মহল, মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আপত্তি সত্ত্বেও বিলটিতে ৩২ নম্বর ধারা বহাল রেখে সংসদে পাশ করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির ৫৭ ধারা সহ আর কয়েকটি ধারা বাতিল করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অর্ন্তভোক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিল বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। বলা হয়েছিল বিলের ২১,২৫,২৮,৩১,৩২ ও ৪৩ ধারা বাতিল বা সংশোধন না করলে স্বাধীন সাংবাদিকতায় প্রতিবন্ধকতা দেখা দিতে পারে। সংসদীয় কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশে সেসব কথাও বলা হয়। কয়েকটি ধারার কিছু পরিবর্তন করা হয়। কিন্তু ৩২ ধারাসহ বেশিরভাগ উপধারা অপরিবর্তীত রাখা হয়েছে। বিলের ৫২(১) ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে অফিশিয়ার সিক্রেসি অ্যক্টের আওতাভুক্ত অপরাধ কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা অন্যকোন ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সংঘটন করলে বা করতে সহায়তা করলে অনধিক ১৪ বছরের কারাদ- বা অনধিক ২৫ লাখ টাকা অর্থদ- বা উভয়দ-ে দন্ডিত হতে পারে। ৩২(২) ধারায় বলা হয়েছে, ৩২(১)-এ উল্লেখিত অপরাধ পুনর্বার করলে যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবে। ২৫(খ) ধারায় বলা হয়েছে, পুনর্বার এ অপরাধের জন্য পাঁচ বছরের কারাদ- বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হতে পারে। এমন আর অনেক ধারাই নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে রয়েছে। বিভিন্ন মহল প্রতিক্রীয়া জানিয়েছেন সংসদে বিলটি পাশের পর। তারা মনে করেন বাক স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য ক্ষতিকর এই বিলটি। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা হয়রানিমূলক ছিল। সবচাইতে বেশি আপত্তি ছিল সাংবাদিকদের এই ধারাটির প্রতি। কিন্তু ৫৭ ধারার পরিবর্তে ৩২ ধারায় এটি আরও বিশদে অন্তর্ভোক্ত হয়েছে। একাডেমিক গবেষনার ক্ষেত্রে এটি বাধা হবে। এই আইন সাংবিধানিক অধিকার ও মুক্তিযোদ্ধের চেতনার বিরুধী বলে আখ্যায়িত করেছেন সাংবাদিকরা। কিন্তু সরকার মনে করেন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োজন রয়েছে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়ছে, বাড়ছে অপপ্রয়োগ। তাই সাইবার অপরাধ বাড়ছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রনের জন্য বা দমনের জন্য এই আইনের প্রয়োজনিয়তা রয়েছে বলে মনে করেন সরকার। সংবাদপত্র বা বাকস্বাধীনতা নিয়ন্ত্রনের জন্য এই আইন করা হয়নি। মত প্রকাশে যেন বাধা না দেওয়া হয় সেটি নিশ্চিত করা হয়েছে বলে অভিমত সরকারের। এখন দেখার বিষয় আইন কার্যকর করতে গিয়ে সরকার কতটুকু সতর্ক থাকে।