| |

ঘুষ একটি সর্বগ্রাসী সামাজিক ব্যাধি

আপডেটঃ ১২:৫১ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ১১, ২০১৮

Ad

প্রদীপ ভৌমিকঃ ঘুষ বা উৎকোচ একটি সর্বগ্রাসী সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং প্রশাসনিক কাঠোমায় এমনভাবে ঘুষের প্রভাব পরেছে যে দেশের তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় অবস্থা পর্যন্ত এর প্রভাব অপরিসীম। ঘুষ উৎকোচ বা উপহার না হলে কোন লক্ষে পৌছানো যায়না। বর্তমান সমাজ এবং দেশের দিকে তাকালে বুঝা যায় ঘুষ কত শক্তিশালী মাধ্যম। ঘুষের প্রচলন এবং প্রয়োগ এমন এক পর্যায়ে পৌছেছে যে, জীবনযাপনের জন্য মানষ ঘুষ ছাড়া চিন্তাও করতে পারেনা। সামাজিক জীবন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক, রাষ্ট্রীয়, অর্থনৈতিক সকল পর্যায়ে ঘুষের প্রভাব প্রকট আকার ধারন করেছে। অপ্রিয় হলেও সত্য আমরা একসময় সাহসী ত্যাগী জাতি হিসেবে পরিচিত ছিলাম। এদেশে যারা রাজনীতি করত তারা সর্বদা প্রস্তুত থাকত ত্যাগের জন্য। এখন তারা সদা প্রস্তুত ভোগের জন্য। অতীতে যে সমস্ত রাজনীতিবীদ ও জনপ্রতিনিধি ছিল তাদের মৃত্যুর পর অনেকের সৎকাজ করার মত অর্থ থাকত না। কিন্ত বর্তমানে এমপি, মন্ত্রী এমনকি রাজনৈতিক দলের নেতাদের যারা অতীতে রিক্সা কিংবা সাইকেলে করে চলাচল করত তারা এখন কোটি টাকার গাড়িতে চড়ে, বিলাসবহুল বাড়ীতে থাকে। তাদের ছেলেমেয়ে ও আত্বীয়স্বজনরা বিলাসীতায় নিমগ্ন হয়ে জীবনযাপন করে। টেন্ডারবাজী, কমিশণ, সংগঠনে পদবানিজ্য, ভর্তী বানিজ্য, চাদাবাজী প্রভৃতি যেন নেতাদের মৌলিক অধিকার হয়ে দাড়িয়েছে। আমলা ও সরকারী পর্যায়ের উচ্চ কর্মচারীসহ সবাই ঘুষ ছাড়া সাধারনত কোন কাজ করতে চায়না। সমাজের কর্তাব্যক্তিদের অতীত থেকে বর্তমান সময়ের তুলনা করলে তার প্রমাণ পাওয়া যায়। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে রয়েছে দূর্নীতির ছোঁয়া। এর পরিবর্তন দরকার। তা নাহলে সমাজ এবং রাষ্ট্র ধ্বংষের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে দাড়াবে। দূর্নীতির পরিবর্তনের জন্য মানুষের মন ও মানষিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। সততা ও কর্তব্যনিষ্ঠা হওয়া উচিত প্রত্যেকটি মানুষের ধ্যাণ ধারনা। দূর্ণীতিবাজ বা ঘুষখোর যেই হউক না কেন তাকে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে পরিত্যাগ করতে পারলেই ঘুষ বা উৎকোচ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

ব্রেকিং নিউজঃ