| |

ময়মনসিংহে শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানিয়ে লক্ষাধিক নারী-পুরুষের বিশাল আনন্দ শোভাযাত্রা

আপডেটঃ ৮:৩২ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ২৫, ২০১৮

Ad

ইব্রাহিম মুকুট: লক্ষাধীক মানুষের অংশগ্রহনের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠিত হল ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের গেজেট প্রকাশ ও ইকরামুল হক টিটুকে নবগঠিত সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নিযুক্ত করার জন্য জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শুভেচ্ছা, অভিনন্দন জানিয়ে সমাবেশ ও আনন্দ মিছিল। ময়মনসিংহ মহানগরের কৃষ্ণচূড়া চত্ত্বরে বিকাল ৩টায় সমাবেশ হওয়ার কথা থাকলেও তার আগে থেকেই ময়মনসিংহ মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে খন্ড খন্ড মিছিল এসে জমায়েত হতে থাকে সমাবেশ স্থলে। ৩টার পর থেকে কৃষ্ণচূড়া চত্ত্বরে লক্ষাধীক লোকের উপস্থিতিতে তিল ধারনের স্থান থাকে না। সমাবেশ রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্ত্বর ছাড়িয়ে মহারাজ রোড, ট্রাংপট্টি, ষ্টেশন রোড, জে.সি গুহ রোড, মালগুদাম রোড পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে। ময়মনসিংহ মহানগরে এধরনের দৃশ্য অতীতে আর কোনদিন দেখা যায়নি। বিভিন্ন ধরনের ফ্যাস্টুন, ব্যানার ও বাদ্যযন্ত্র নিয়ে মিছিলে অংশগ্রহনকারীরা সমাবেশ স্থলে এসে উপস্থিত হয়। ময়মনসিংহ মহানগর পরিণত হয় মিছিলের নগরীতে। সমাবেশে অংশগ্রহন কারীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রশাসক টিটুর প্রতিকৃতি বহন করে নিয়ে আসে। কাউকে কাউকে জাতীয় পতাকা বহন করতে দেখা যায়। মিছিলকারীরা “জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু” শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা অভিনন্দন, টিটুকে শুভেচ্ছা অভিনন্দন প্রভৃতি স্লোগান দিতে থাকে। বর্ধীত সিটি কর্পোরেশনের অর্ন্তভুক্ত এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক জনতাকে সমাবেশে যোগ দিতে দেখা যায়। সমাবেশ ও মিছিলে নারী ও এ প্রজন্মের তরুনদের মাথায় “টিটু” লিখা ব্যান্ড পরে বিপুল সংখ্যক অংশগ্রহন ছিল দেখার মত। ময়মনসিংহ শহরের রাস্তাগুলি মিছিলে মিছিলে ছেয়ে যাওয়ার ফলে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গোটা শহর স্থবির হয়ে দাড়িয়ে পরে। ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ, কৃষকলীগ, শ্রমিক লীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, মৎসজীবি লীগ, মহিলা আওয়ামী ও যুব মহিলালীগের নেতাকর্মীদের ব্যানার নিয়ে বাদ্যযন্ত্র সহকারে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীকে মিছিল সহকারে সমাবেশে যোগ দিতে দেখা যায়। তাছাড়া বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে সাধারন মানুষ প্রশাসক টিটুকে অভিনন্দন জানিয়ে ব্যানার সহকারে সভাস্থলে উপস্থিত হয়। বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন থেকেও মিছিল সহকারে সভাস্থলে যোগদান করে। তার মধ্যে জেলা মটরমালিক সমিতি, জেলা মটরযান কর্মচারী ইউনিয়ন, অটো রিক্সা সমিতি, রিক্সা মালিক সমিতি, দোকান কর্মচারী ইউনিয়ন, বাস্তহারা সমবায় সমিতি, বিভিন্ন স্কুল, কলেজের শিক্ষক ও ছাত্ররা সমাবেশে যোগ দেয় ও আনন্দ মিছিলে অংশগ্রহন করে। কিছুদিন পূর্বে সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত মহানগর যুবলীগের নেতা আজাদ শেখের সহধর্মীনির নেতৃত্বে একটি বিশাল মিছিল আজাদ হত্যার বিচার চেয়ে সমাবেশে যোগ দেয় এবং নবনির্বাচিত প্রশাসক ও জননেত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে আকুয়াবাসীর পক্ষ থেকে স্লোগান দিতে দেখা যায়। আজাদ হত্যার বিচার চেয়ে প্রশাসনের প্রতিও দাবি জানায়। সভাস্থলে আগত বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবি সংগঠনের পক্ষ থেকে নব নিযুক্ত সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক টিটুকে ফুলের তোড়া ও মাল্য দান করে অভিনন্দন জানানো হয়। এ দৃশ্য ময়মনসিংহে ইতিপূর্বে কোন জনপ্রতিনিধিকে জনসাধারনের পক্ষ থেকে প্রদান হয়েছে বলে দেখা যায়নি। সমাবেশ ও মিছিলে নেতৃত্ব দেন ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড. জহিরুল হক খোকা। সভা সঞ্চালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এড. মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল। সভায় জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও আওয়ামী লীগের সহযোগি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। সভাপতির ভাষনে এড. জহিরুল হক খোকা বলেন, অনেকেই ময়মনসিংহ বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে কৃতিত্ব দাবি করেন কিন্তুু এ দাবি করার অধিকার কারও নেই। একমাত্র বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই দাবি করতে পারেন কারন তিনি ময়মনসিংহকে বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তরিত করেছেন। আজকের এই জনসভা দেখে মনে হয় জননেত্রী শেখ হাসিনা যদি আওয়ামী লীগ থেকে প্রশাসক টিটুকে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে মনোনয়ন দেন তাহলে তার বিজয় ঠেকানোর মত কোন শক্তি নেই যদি আমরা সবাই মুজিব সৈনিকরা একতাবদ্ধ থাকি। শুভেচ্ছার জবাবে প্রশাসক টিটু বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করায় তিনি ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের জনগনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাকে বজায় রাখতে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকায় ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান। তিনি বলেন এই সরকারের আমলে ময়মনসিংহ বিভাগের উন্নয়নের জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে। তারমধ্যে ময়মনসিংহে শিক্ষাবোর্ড স্থাপন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজকে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট করন, হালোয়াঘাট স্থলবন্ধরকে পূর্নাঙ্গ স্থলবন্ধর হিসেবে রূপান্তর, ব্রহ্মপুত্র নদ খননের জন্য প্রকল্প অনুমোদন, ঢাকা ময়মনসিংহ রোডে ফোরলেন নির্মান, ব্রহ্মপুত্রের উপর তিনটি সেতু নির্মাণ অন্যতম। তিনি বলেন, আমি আপনাদের লোক হিসেবেই বেচে থাকতে চাই। আগে যেরকম ভাই ছিলাম বন্ধু ছিলাম আগামী দিনেও তেমনি থাকতে চাই। আমাকে যদি জননেত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে মনোনয়ন দেন এবং আপনারা যদি আমাকে নির্বাচিত করেন তাহলে বিগত দিনে যেরকম আপনাদের পাশে ছিলাম আগামী দিনেও আপনাদের পাশে থাকব। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দসহ অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশের পূর্বে দেশাত্ববোধক গান পরিবেশিত হয়। নেতৃবৃন্দের শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদানের পর আনন্দ মিছিল বের হয়। মিছিলের নেতৃত্ব দেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড. জহিরুল হক খোকা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এড. মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল ও ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক ইকরামুল হক টিটু। আনন্দ মিছিলটি কৃষ্ণচূড়া চত্ত্বর থেকে বের হয়ে টাউনহলে গিয়ে শেষ হয়।

ব্রেকিং নিউজঃ