| |

ময়মনসিংহের রাজনীতিতে যোগ্য, ত্যাগী ও সর্বজন গ্রহনযোগ্য নেতাকর্মীরা স্থান পায় না কমিটিতে। রাজনীতি আজ বিক্রয়যোগ্য ভোগ্য পণ্যে পরিণত হয়েছে

আপডেটঃ 11:10 pm | October 28, 2018

Ad

প্রদীপ ভৌমিকঃ গত ২৫ অক্টোবর দৈনিক মাটি ও মানুষ পত্রিকায় আমার প্রিয় সহকর্মী বিভাগীয় প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি আশিক চৌধুরীর “ময়মনসিংহ আর ভালো হল না” শীর্ষক একটি লেখার কয়েকটি লাইন দিয়ে ময়মনসিংহের বর্তমান রাজনীতি সম্পর্কে লেখাটি শুরু করতে চাই। আশিক ভাইয়ের সাথে আমার চিন্তা চেতনা, ভাললাগা ভালবাসার মিল-অমিল দুইটিই রয়েছে।

 

কিছু কিছু ক্ষেত্রে তার সাথে আমার ভাবনার প্রচন্ড মিল আছে যেমন দৈনিক মাটি ও মানুষে একটি প্রতিবেদনে তিনি লিখেছেন গনতান্ত্রিক আদর্শ সমূহ ময়মনসিংহের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রা দিয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক আদর্শীক পথ পরিক্রমায় কর্তৃত্ব পরায়নতার যুগ শুরু হয়েছে। রাজনীতিতে প্রতিক্রীয়াশীলতার উদ্ভব ঘটেছে। রাজনীতি হয়ে উঠেছে বিক্রয়যোগ্য ভোগ্য পণ্য।

 

এক্ষেত্রে শান্তির ঐতিহ্যে ছন্দপতন ঘটেছে। অস্থিরতা বাড়ছে এখানেও অবশ্য পরিবর্তনের প্রস্তাবনা থাকছে। যার প্রতি জনগনের বিরূপ প্রতিক্রীয়া রয়েছে। যার পরিনাম ভাল নয়। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গণে শঙ্কা ও উদ্ভেগ বাড়ছে। যথার্থ লিখেছেন আমার অগ্রজ সাংবাদিক আশিক ভাই। ময়মনসিংহের রাজনৈতিক পথ পরিক্রমায় কর্তৃত্ব পরায়নতার যুগ শুরু হয়েছে। যা আমরা একটু লক্ষ্য করলেই অনুধাবন করতে পারি ময়মনসিংহের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির কমিটি গঠন পক্রিয়ার মধ্যে।

 

বিএনপি ও জাতীয় পার্টিতে ঘন ঘন নেতা ও কমিটি গঠন কার্যক্রম চলে। আওয়ামী লীগে তা না হলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর কেন্দ্র থেকে গঠনতান্ত্রিক নিয়মের পাশ কাটিয়ে অগনতান্ত্রিকভাবে মনোনিত বিভিন্ন কমিটির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক, আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়করা তাদের নেতৃত্বকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার জন্য নিঃশ্বার্থে দলের ভিতর নিজস্ব বলয় সৃষ্টি করে যার ফলে তাদের একান্ত নিজস্ব অনুসারীদের দিয়ে কমিটি গঠন করে।

 

ফলশ্রুতিতে যোগ্য, ত্যাগী ও সর্বজন গ্রহনযোগ্য নেতাকর্মীরা স্থান পায় না কমিটিতে। এতে দল ক্ষতিগ্রস্থ হয়, দলের ভাবমূর্তী ক্ষুন্ন হয়। আশিক ভাই এক জায়গায় লিখেছেন রাজনীতি আজ বিক্রয়যোগ্য ভোগ্য পণ্যে পরিণত হয়েছে।

 

নিকট অতীতে ময়মনসিংহ আওয়ামী লীগে জেলা ও মহানগর কমিটিতে যার প্রমাণ রয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে পূর্নাঙ্গ কমিটি অনুমোদন লাভ করার পর সাধারন তৃণমূল কর্মীদের মাঝে কমিটিগুলি নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

 

দলে বহিরাগত অন্য দল থেকে আগত যারা ইতিপূর্বে কোনদিন মুজিব আদর্শের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলনা এমন ব্যক্তিরাও ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ কমিটিতে স্থান পেয়েছে। অভিযোগ আছে কমিটি গুলিতে পরিবারতন্ত্র কায়েম করা হয়েছে। একি পরিবার থেকে একাধিক ব্যক্তিকে কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। সব দিক মিলিয়ে আশিক চৌধুরীর মতামত সত্য বলে প্রতিয়মান। শুধু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নয় বিএনপি ও জাতীয় পার্টির কর্মীদের মাঝেও এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়।

 

রাজনৈতিক দলগুলি এ ধরনের অবক্ষয় গনতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য ক্ষতিকারক বলে বিবেচিত। রাজনীতিতে নেতৃত্বের বিকল্পহীনতা সঠিক নয়। রাজনীতির চলমান প্রক্রিয়ায় নতুন নেতৃত্বের সৃষ্ঠি হয়। নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিবর্গ যারা এটাকে মেনে নিতে পারেনা তাদের সাথেই সংঘাত অনিবার্য হয়ে পরে ফলে সৃষ্টি হয় সংঘাত ও অশান্ত অবস্থার।

 

ময়মনসিংহের রাজনৈতিক দলগুলির মাঝে বর্তমানে এই অবস্থা প্রচন্ডভাবে দৃশ্যমান। আধিপত্যবাদ নিজস্ব বলয় সৃষ্টির প্রবণতা ময়মনসিংহের রাজনীতিকে গ্রাস করে ফেলেছে। যার ফলে ময়মনসিংহের সরকারী দল আওয়ামী লীগ সহ সমস্ত রাজনৈতিক দলসমূহে অশান্ত অবস্থা বিরাজ করছে।

 

দলগুলি বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির নেতৃত্বে তাদের কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। নেতাকর্মীরা অর্থ, সন্ত্রাস ও আদর্শহীনতায় নিমজ্জিত হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে দলের আদর্শ ও ভাবমূর্তী আজ হুমকির মুখে। এই অবস্থা থেকে ময়মনসিংহের মুক্তির জন্য দরকার রাজনৈতিক দলগুলির ভিতরে সাংগঠনিক নিয়ম মেনে সুষ্ঠ গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার।

ব্রেকিং নিউজঃ