| |

যথাযোগ্য মর্যাদায় সারাদেশ ব্যাপী পালিত হলো জেল হত্যা দিবস

আপডেটঃ ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ | নভেম্বর ০৪, ২০১৮

Ad

আলোকিত ডেস্কঃ যথাযোগ্য মর্যাদায় সারাদেশ ব্যাপী পালিত হলো জেল হত্যা দিবস। ৭৫ এর ১৫ই আগষ্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপরিবারে হত্যার পর দ্বিতীয় হত্যাকান্ড হলো এই দিনটি। ১৫ই আগষ্টের নির্মম হত্যাকান্ডের পর তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধের অন্যতম বীর সেনানী জাতিয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, এ এইচ এম কামরুজ্জামান এবং ক্যাপ্টেন মুনসুর আলীকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

 

এর আগে এই চার জাতীয় নেতাকে তৎকালীন মোস্তাক সরকার কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠায়। জাতি গতকাল মুক্তিযোদ্ধের অন্যতম বীর সেনানী চার জাতীয় নেতাকে যথাযোগ্য শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে ইতিহাসের অন্যতম বর্বরচীত এই কালো দিনটিকে স্বরণকরে। রাষ্ট্রীয়ভাবে এবং আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে পালিত হয় শোকাবহ এই দিনটি।

 

তৎকালীন সঘোষিত রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোস্তাক আহমেদ ও উচ্চ বিলাসী কিছু জুনিয়র সেনা কর্মকর্তা যারা কারা অভ্যন্তরে নির্মমভাবে জাতীয় বীরদের হত্যাকরে তাদেরকে জানায় ঘৃণা ও নিন্দা। মুক্তিযোদ্ধকালীন মুজিব নগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাজউদ্দিন আহমেদ একটি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

 

বঙ্গবন্ধুর অপর ঘণিষ্ঠ সহযোগী এ.এইচ.এম কামরুজ্জামান ও ক্যাপ্টেন মনসুর আলী বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিশেষ অবদান রাখেন। মুক্তিযোদ্ধকালীন সময়ে বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের অন্যতম মোস্তাক আহমেদ জানতেন মুক্তিযোদ্ধকালীন সময়ের এই চার জাতীয় বীরকে কখনো মুজীব আদর্শের সাথে বেঈমানী করানো সম্ভব হবেনা বিধায় ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে পাকিস্তানীদের নির্দেশে বিপথগামী সেনা কর্মকর্তাদের দ্বারা রাতের আধারে চার নেতাকে হত্যা করে জাতিকে নেতৃত্বশূন্য করার অপচেষ্ঠায় লিপ্ত হয়।

 

কারণ মোস্তাক ও পাকিস্তানী ধূসররা জানতেন বাংলাদেশে যদি স্বাধীনতার পক্ষে কোন পাল্টা অভ্যুত্থান হয় তবে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, মনসুর আলী এবং কামরুজ্জামানরা সেই অভ্যুত্থানের সাথে একাত্ত্বতা ঘোষনা করে জাতিকে নেতৃত্ব দিবেন। সেই ধারনা থেকেই এই জাতীয় চার নেতাকে কারাগারে হত্যা করা হয়।

 

শোকাবহ ৩রা নভেম্বর জেলখানা হত্যাদিবস উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শোকবার্তা প্রদান করেছেন এবং বাংলাদেশ আঃলীগের সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পনের মধ্যে দিয়ে দিবসটির সূচনা করেন। আঃলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বনানী গোরস্থানে বীর শহিদদের কবর জিয়ারত করেন ও পুষ্পস্তবক অর্পনের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

 

এই উপলক্ষে ময়মনসিংহে জেলা ও মহানগর আঃলীগের উদ্যোগে চার নেতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পন ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মহানগর আঃলীগের উদ্যোগে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

 

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ জেলা আঃলীগের সহ সভাপতি ও গৌরিপুর উপজেলা থেকে নির্বাচিত মাননীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ, জেলা ও মহানগর আঃলীগের নেতৃবন্দ ময়মনসিংহ মহানগর আঃলীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম, এড. কবির উদ্দিন ভূইয়া, এড. ফরিদ আহমেদ, জেলা আঃলীগের সাধারন সম্পাদক এড. মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইকরামুল হক টিটু, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান,

এড. পিযুষ কান্তি সরকার, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক কাজী আজাদ জাহান শামীম, হোসাইন জাহাঙ্গীর বাবু, শওকত জাহান মুকুল, অধ্যক্ষ আবু সাইদ দীন ইসলাম ফখরুল, রেজাউল হাসান বাবু, শাহজাহান পারভেজ, জেলা সেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি নুরুজ্জামান খোকন প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতাসহ সকল শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা ও তবারক বিতরন করা হয়।

 

ব্রেকিং নিউজঃ