| |

মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুলের উপলব্ধী ও ক্ষতিগ্রস্থ ত্যাগী তৃণমূল কর্মীদের প্রত্যাশা

আপডেটঃ ১২:০০ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ০৬, ২০১৮

Ad

স্পষ্টভাষীঃ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গত ২রা নভেম্বর শুক্রবার ময়মনসিংহে আগমন উপলক্ষে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এড. মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল তার বক্তব্যে বলেছেন, ময়মনসিংহের রাজনীতিতে আর কোন গ্রুপিং নয়।

 

জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন ও কেন্দ্র কর্তৃক অনুমোদনের পর সকল গ্রুপিং শেষ হয়ে গেছে। ধন্যবাদ জানাই মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুলকে এতদিন পরে হলেও উনি রাজনৈতিক গ্রুপিং যে খারাপ ফলাফল বয়ে আনে তা উপলব্ধী করতে পারার জন্য। গ্রুপিংএর ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হয় ত্যাগী তৃণমুলের নেতাকর্মীরা এটা মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল উপলব্ধী করতে পেরেছেন বলে মনে হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ থাকে যে, ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের পূর্বে রাজনৈতিক গ্রুপিং তীব্র আকার ধারন করে। ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পরে।

 

আওয়ামী লীগের বিভক্তীর সাথে সাথে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উপর এর প্রভাব পরে। এক ভাগে নেতৃত্ব দেন বর্তমান ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান এবং অন্যভাগের নেতৃত্বে ছিলেন বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড. জহিরুল হক খোকা। অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের পক্ষে ছিলেন বর্ষীয়ান নেতা মুজিবুর রহমান খান মিল্কী, ফারুক আহমেদ খান, আমিনুল ইসলাম তারা, বদর আহমেদ, আহসান মোহাম্মদ আজাদ, রেজাউল হাসান বাবু, মমতাজ উদ্দিন মন্তা, গোলাম ফেরদৌস জিল্লুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

 

অপরদীকে এড. জহিরুল হক খোকার পক্ষে ছিলেন প্রয়াত নেতা প্রমোদ মানকিন, মতিন সরকার, আব্দুস সালাম, সাদেক খান মিল্কী টজু, বর্তমান মহানগর সভাপতি এহতেশামুল আলম, অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, আহমদ হোসেন, ফারুক হোসেনসহ অনেক নেতৃবৃন্দ।

 

উভয় গ্রুপের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে পরে ময়মনসিংহ জেলা ও তৎকালীন সিটি কমিটির ত্যাগী, মুজিব আদর্শে বিশ^াসী, তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী। কাউন্সিলের প্রথম অধিবেশনের পর সম্মেলন স্থগিত করে কেন্দ্রীয় কমিটি এবং পরর্তীতে কেন্দ্রীয় কমিটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড. জহিরুল হক খোকা ও সাধারন সম্পাদক হিসেবে মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল এবং মহানগর আওয়ামী লীগে সভাপতি এহতেশামুল আলম ও সাধারন সম্পাদক মোহিতুর রহমান শান্তর নাম ঘোষনা করে। সম্মেলনের দীর্ঘদিন পর উভয় কমিটির নেতৃবৃন্দ কেন্দ্র বরাবর পূর্ণাঙ্গ কার্যকরি কমিটি গঠন করে জমা দেন।

 

জেলা কমিটিটি যাচাই বাছাই করে কেন্দ্র কিছু নাম সংযোজন বিয়োজন করে অনুমোদন দেয় কিন্তু মহানগর কমিটি কোন প্রকার যাচাই বাছাই ছাড়াই মৃত ব্যক্তি আফাজ উদ্দিন সরকারকে ১নং সদস্য হিসেবে সংযোজন করে অনুমোদন দেয়। কমিটি গুলিতে দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীরা উপেক্ষিত হয়। এ নিয়ে ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগরে সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে।

 

ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগরের গ্রুপিং রাজনীতির সুফল হিসেবে যারা সভাপতি/সাধারন সম্পাদক হিসেবে কেন্দ্র থেকে নিয়োগ পেয়েছেন তারা কমিটিগুলিতে নিজেদের পছন্দমত ব্যক্তিদের অন্তর্ভোক্ত করে নিজেদের বলয় সৃষ্টি করে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারে সক্ষম হয়েছেন। আজকে মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল সাহেব যা উপলব্ধী করতে পারছেন জেলা ও মহানগর সম্মেলনের পূর্বে তারা সেটা কেন উপলব্ধী করতে পারেন নাই।

 

গ্রুপিং এর প্রয়োজনীয়তা তখন ছিলই বা কেন? কেনই বা কর্মীদের মাঝে গ্রুপিং করে মুজিব আদর্শের বিশ^াসীদের মাঝে পারস্পারিক শত্রুতা ও অনৈক্য সৃষ্টি করে দলীয় ঐক্যকে বিনষ্ট করা হয়েছিল। এই প্রশ্নের জবাব কে দিবে। গ্রুপিং এর ফলে ক্ষতিগ্রস্থ নেতাকর্মীরা তাদের ক্ষতির পূরণ করবে কিভাবে আজকে এই জবাবটি ঘুরে ফিরে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে আলোচিত হচ্ছে।

 

মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল একটি কথা বলেছেন যা সবার কাছে গ্রহনযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে তিনি বর্ষীয়ান নেতা অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মন্তব্য করেছেন উনাকে কোনরূপ অশ্রদ্ধা কিংবা কোন অবজ্ঞাসূচক মন্তব্য করা যাবেনা।

 

তিনি আরও বলেছেন অধ্যক্ষ মতিউর রহমান আমাদের সকলের নেতা স্যারের ব্যাপারে কেউ কোন অশোভন কথা বলবেন না, বাজে মন্তব্য করবেন না। তিনি আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় নেতা। তিনি উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বলেন স্যারের পায়ে সালাম করে নেত্রীর জনসভায় যাবেন।

 

এখন একটি প্রশ্ন হলো এতদিন জেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রুপ করে যে সমস্ত কর্মকান্ড চালিয়েছিলেন তাকি ভুল বলে উনারা মনে করেন। অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, জহিরুল হক খোকা, এহতেশামুল আলম, ইউসুফ খান পাঠান, মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, মোহিতুর রহমান শান্তরা বিভিন্ন সভা ও সমাবেশে যেসমস্ত পরস্পর বিরোধী অপপ্রচার, সমালোচনা করেছিল তা সঠিক ছিলনা বলে কি আজকে বিবেচিত হবে? নেতৃবৃন্দের প্রতি প্রশ্ন হলো আপনারা যদি মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুলের বক্তব্যের প্রতি ঐক্যমত পোষন করেন তাহলে অতীত ও বর্তমানে আক্রমনত্বক বক্তব্য প্রদান করে কর্মীদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করা অনুচিৎ ও অন্যায় হয়েছিল।

 

আর এ সমস্ত গ্রুপিং এর ফলশ্রুতিতে ময়মনসিংহের আওয়ামী লীগের যে ভাবমূর্তি ও ঐক্য বিনষ্ট হয়েছে তার মাসুল আপনাদের দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ আপনি দেরিতে হলেও উপলব্ধী করেছেন গ্রুপিং বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ কর্মীদের একটাই কাজ আওয়ামী লীগকে পুনরায় ক্ষমতায় আনা।

 

মুজিব আদর্শ, অসাম্প্রদায়িকতা, স্বাধীনতার মূল্যবোধ ও উন্নয়নের রাজনীতিতে যারা বিশ^াস করে তারা সবাই আপনার মত উপলব্ধী করে শেখ হাসিনাকে দেশের উন্নয়নের জন্য নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনা দরকার। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে গ্রুপিং পরিত্যাগ করার কথাটি আপনি বলেছেন ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগরের কোন সভা কিংবা অনুষ্ঠানে আপনি বাদে অন্য কোন নেতৃবৃন্দ গ্রুপিং পরিত্যাগ করবেন বলে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেন নাই।

 

কেন জানি মনে হয় অন্যেরা যদি গ্রুপিং এ লিপ্ত থাকে তবে আপনিও আপনার রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষা করার জন্য পুনরায় গ্রুপিংএ জড়াতে বাধ্য হবেন। সর্বশেষ আপনি ও জেলা মহানগরের নেতৃবৃন্দের নিকট আমরা সাধারন কর্মীরা প্রত্যাশা করি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আবার ক্ষমতায় এনে গ্রুপিংবিহীন রাজনীতির স্বার্থে গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কমিটিগুলি পূর্ণগঠন করবেন। আর গ্রুপিং এর কারণে ক্ষতিগ্রস্থ দীর্ঘদিনের আওয়ামী লীগের ত্যাগী, রাজপথের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করবেন।

ব্রেকিং নিউজঃ