| |

ময়মনসিংহ সদর ৪ আসনে ভোটাররা শিক্ষিত, সৎ, কম বিতর্কিত ও কর্মঠ প্রার্থীদের ভোট প্রদান করবে, তরুণ ও সংখ্যালঘু ভোটাররা নির্বাচনে প্রার্থীর জয়ের প্রধান ফ্যাক্টর

আপডেটঃ ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ | নভেম্বর ১১, ২০১৮

Ad

স্টাফ রিপোর্টারঃ সারা দেশের মত ময়মনসিংহ জেলাও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দারপ্রান্তে দাড়িয়ে। ময়মনসিংহ সদর (৪) আসনে এবার ভোটারদের আগ্রহ তরুণ প্রার্থীদের প্রতি বেশি। এর কারণ হিসেবে ধারণা করা হয় বর্ষীয়ান নেতৃবৃন্দের জনগনের চাইতে নিজের দিকেই লক্ষ্য থাকে বেশি। তাছাড়া শারিরীক অক্ষমতা একজন বর্ষীয়ান নেতাকে অন্যের উপর নির্ভরশীল করে তুলে ফলশ্রুতিতে তার সার্বিক কর্মকান্ডের নিয়ন্ত্রন তার ইচ্ছামাফিক হয়না। জনকল্যানের চাইতে স্বজনপ্রীতি ও ব্যক্তিকল্যাণ বেশি হয়।

 

সেই করণেই তুলনামূলকভাবে তরুণ, শিক্ষিত, সৎ, কম বিতর্কিত, কর্মঠ প্রার্থীদের প্রতি জনগনের সমর্থন বেশি পরিলক্ষিত হয়। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে বর্ষীয়ান নেতা রওশণ এরশাদকে মনোনয়ন দিয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করেছিল জোট সরকার। কিন্তু রওশন এরশাদের সদরবাসী জনগন, ব্যবসায়ী, সাংবাদিকদের সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠেনি আশা অনুরূপ।

 

কিছু সরকারী কর্মসূচি ছাড়া তার উপস্থিতি ছিলনা বললেই চলে। সাধারনত একজন সদস্যের যেধরনের জনসম্পৃক্ততা থাকে সাবেক এমপি, বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদের তা ছিলনা বললেই চলে। বর্তমান প্রজন্মের তরুণ ও নারী ভোটাররাই নির্বাচনে প্রার্থীর জয়লাভের ব্যাপারে প্রধান সহায়ক হিসেবে কাজ করে। তাদের সমর্থন যার পক্ষে থাকে নির্বাচনে সেই প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা বেশি। ময়মনসিংহ সদর ৪ আসনে ভোটের আর একটি ফ্যাক্টর হলো সংখ্যালঘু ভোট।

 

মতান্তরে সদর ৪ আসনে প্রায় ৭৫ হাজার সংখ্যালঘু ভোট রয়েছে। যে প্রার্থী সয়খ্যালঘুদের আস্থা অর্জন করতে পারবে তাদের অধিকাংশ ভোট সেই প্রার্থীর পক্ষেই যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

 

ক্ষমতাশীন ১৪ দলীয় ভোটের পক্ষে যে সমস্ত আঃলীগ নেতা নির্বাচনে আঃলীগের পক্ষ থেকে নৌকা প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করার প্রত্যাশায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করছেন তারা হলেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, জেলা আঃলীগের সভাপতি এড. জহিরুল হক খোকা, জেলা আঃলীগের সাধারন সম্পাদক এড. মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, মহানগর আঃলীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম, সাধারন সম্পাদক মোহিতুর রহমান শান্ত, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, জেলা আঃলীগের সহ সভাপতি আমিনুল হক শামীম, সাদেক খান মিলকী টজু, স্বাচিব এর মহাসচিব ড. এম এ আজিজ, জেলা সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি এড. নুরুজ্জামান খোকন, সহ সভাপতি আর্জুনা কবিরের নাম রিপোর্টটি লেখা পর্যন্ত শুনা যাচ্ছে। ১৪ দলীয় জোটের অপরপ্রার্থী হলেন জাতীয় পার্টির রওশন এরশাদ।

 

এ পর্যন্ত নির্বাচনের লক্ষে জনসংযোগে এগিয়ে আছেন ড. এম এ আজিজ যিনি সদর উপজেলার বিভিন্ন পেশাজীবি সংগঠনের কর্মসূচিসহ পাড়া মহল্লায় উঠান বৈঠক করে চলেছেন। অন্যদের নির্বাচনী তৎপরতা অদ্যাবদী খুব একটা পরিলক্ষিত হয়নি।

 

এড. জহিরুল হক খোকা ও মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল ও এহতেশামুল আলম মোহিতুর রহমান শান্ত যেহেতু জেলা ও মহানগর আঃলীগের সভাপতি/সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের জন্য নেতাকর্মীদের সাথে তাদের সুসম্পর্ক ও যোগাযোগ আছে।

 

ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ময়মনসিংহ জেলা আঃলীগের প্রবীণ নেতা হওয়ায় সদর ৪ আসনের নেতাকর্মীদের সাথে তার একটি সম্পর্ক রয়েছে। ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, জেলা সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি এড. নুরুজ্জামান খোকন, সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সদস্য আর্জুনা কবির।

 

উনারা সেচ্ছাসেবকলীগের নেতা হওয়ায় তাদের অনুসারী কর্মী বাহিনী রয়েছে এবং সংগঠনের নেতাকর্মীদের সমর্থন ও আস্থা রয়েছে বলে মনে করেন অনেকে। বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশগ্রহন করে তাহলে ডা. জাহিদ, আবু ওয়াহাব আকন্দ, কাজী রানা, শেখ আমজাদ হোসেন, কামরুল হাসান ওয়ালীদের নাম শোন যাচ্ছে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাশার।

 

সংস্কারপন্থী হিসেবেখ্যাত দেলোয়ার হোসেন দুলুর জাতীয় সংসদের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার কথা অনেকেই বলছেন। কিন্তু বিএনপি ও অন্যান্য প্রার্থীদের পক্ষ থেকে জনসংযোগ চোখে পরছেনা। যদিও জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে রওশন এরশাদকে ময়মনসিংহ সদর ৪ আসনে একমাত্র প্রার্র্থী হিসেবে ঘোষনা করা হয়েছে।

 

তবুও জাতীয় পার্টি রওশন এরশাদের পক্ষে কোন নির্বাচনী প্রচারনা ও গনসংযোগ চালাইনি একমাত্র একটি নির্বাচনী মিছিল ছাড়া। সবকিছুর পরে একটা কথা সাধারন ভোটারদের মতামত থেকে জানা যায়, এবার তারা সৎ,নিষ্ঠাবান,কম বিতর্কীত, জনবান্ধব প্রার্থীকে ভোট প্রদান করবে। এখানে দলীয় পরিচয় খুব একটা গুরুত্ব বহন করবে বলে মনে হয়না।