| |

বাংলাদেশে নির্বাচন বনাম সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিধান

আপডেটঃ ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ | নভেম্বর ২৭, ২০১৮

Ad

প্রদীপ ভৌমিকঃ জাতীয় সংসদের নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে হিন্দু ধর্মাবল্বী নাগরিকদের মাঝে দুশ্চিন্তা ততই বেড়ে যাচ্ছে। দুশ্চিন্তার মুল কারণ হলো এদেশে যত বার নির্বাচন হয়েছে ততবার তারা বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

 

১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর যখন আঃলীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিজয়ী হলে আঃলীগ বিরুধী মুসলীমলীগসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ডানপন্থি রাজনৈতিক দলগুলি আঃলীগের এই বিজয়ের জন্য সংখ্যালঘুদের দায়ী করে যার ফলশ্রুতিতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তুলনামূলকভাবে মুসলীম জনগোষ্ঠীর চাইতে হিন্দুদের উপর পাক বাহিনী ও তার এদেশীয় সহযোগীরা নির্যাতন করেছে ব্যাপকভাবে।

 

অধিকাংশ হিন্দুর বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ, হিন্দু নারীদের ইজ্জ্বত লুণ্ঠন সহ পাশবিক নির্যাতন করেছে ব্যাপকহারে। হত্যা করা হয়েছে হিন্দু যুবক, শিশু, বৃদ্ধ ও নারীদের নির্বিচারে। প্রাণভয়ে লক্ষ লক্ষ হিন্দু জনগোষ্ঠী এদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় গ্রহন করে।

 

যারা এদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে যেতে পারেনি তারা তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল অসাম্প্রদায়িক মানবিক গুন সম্পন্ন মুসলিম পরিবারগুলিতে আশ্রয় নিয়েছিল। অথচ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সংসদ নির্বাচনে শতকরা ৯০% মুসলিম ভোটাররা বাঙ্গালীর স্বাধীকার আন্দোলনের লক্ষে নৌকায় ভোট দিয়েছিল।

 

স্বাধীনতা যুদ্ধকালে আঃলীগ সমর্থক ও স্বাধীনতার স্বপক্ষের বাঙ্গালীরাও নির্যাতিত হয়েছিল পাক বাহিনী ও তার দোসরদের হাতে। স্বাধীন বাংলাদেশেও নির্বাচনকালীন সময়ের আগে পরে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনার পূনরাবৃত্তি ঘটেছে বার বার। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হলে বরিশালের আগৈলঝরা থেকে শুরু করে পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, খূলনার বাগেরহাট সহ সারা বাংলাদেশে সর্বত্র হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন হয়েছে।

 

আঃলীগ কে ভোট প্রদানের অপরাধে লুণ্ঠিত হয়েছে হিন্দু নারীদের ইজ্জ্বত। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার অধ্যাবদী সেই সমস্ত অপরাধ যারা সংগঠিত করেছে তাদের বিচার হইনি। এমনকি তৎকালীন প্রশাসন মামলা পর্যন্ত গ্রহন করেনি।

 

লক্ষ করলে দেখা যায় শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নয় স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের আগে পরে হিন্দুদের উপর পরাজিত ও বিজয়ী প্রার্থীরা নির্যাতনের মত ঘটনা ঘটিয়েছে। অথচ অনুসন্ধান করে জানা যায় কোন কোন গ্রাম কিংবা নির্বাচনী এলাকায় হিন্দু ভোটের সংখ্যা এত নগণ্য যে, জয় পরাজয়ের ব্যাপারে তাদের ভোট কোন ভূমিকায় রাখে না। তারপরেও পরাজিত চেয়ারম্যান কিংবা মেম্বার প্রার্থীরা অথবা জনপ্রতিনিধিরা হিন্দু ভোটারদের বাড়িঘর লুট করে ও হিন্দু গোষ্ঠির উপর শারিরীক নির্যাতন করে।

 

কোন কোন ক্ষেত্রে ভোট না দেওয়ার অভিযোগ তুলে জয়ী প্রার্থীও সংখ্যালঘু গোষ্ঠির উপর নির্যাতন করে। এক্ষেত্রে অবশ্য অণ্য কারনও বিরাজমান। সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের ভয়ে কম মূল্যে স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে শহর কিংবা নিরাপদ আশ্রয় ভারতে চলে যায়। তাদের সহায় সম্পত গুলি স্বার্থান্বেষী কিছু ব্যক্তি কম মূল্যে ক্রয় করে সম্পদশালী হয়।

 

তারপরেও এদেশে কিছু মানুষ আছে যারা এখনো হিন্দু সম্প্রদায়ের বিপদে ভাইয়ের মত, বন্ধুর মত এগিয়ে এসে ¯েœহ, মমতা ও ভালবাসা দিয়ে আগলে রাখে সংখ্যালঘুদের। উনারা আছে বলেই হিন্দুরা এখনো বাংলাদেশে বসবাস করছে তানাহলে এতদিনে দেশটি হিন্দু শূন্য হয়ে যেত। সংখ্যালঘুদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচন আসলেই এক অজানা ভয়ে তাদেরকে গ্রাস করে।

 

নির্যাতিত সংখ্যালঘু ভোটারদের অনেকেই বলতে শুনা যায় আমাদের ভোটের দরকার নেই রাষ্ট্রের উচিত আমাদের ভোটাধীকার বাতিল করে দেওয়া যাতে আমরা ভোটকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের আগে ও পরে নির্যাতিত না হই। তাই এদেশের প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিবর্গের অভিমত রাষ্ট্র, সরকার ও নির্বাচন কমিশনের উচিত নির্বাচনের আগে ও পরে সংখ্যালঘুদের সার্বিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তার বিধান করা।