| |

আওয়ামী লীগ নেতা স্বপন সরকারের শেষকৃত ময়মনসিংহ কেওয়াটখালী মহাশশ্বানে সম্পন্ন

আপডেটঃ ১১:০২ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ০৬, ২০১৯

Ad

রুহুল আমিনঃ শত শত অনুসারীদের উপস্থিতিতে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের কেওয়াটখালী মহা শশ্বান ঘাটে ময়মনসিংহ পৌরসভার সাবেক কমিশনার আওয়ামী লীগ নেতা বাবু স্বপন সরকারের শেষকৃত অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। গত ৫/১/১৯ইং তারিখে সন্ধ্যা ৭টা ৩০মিনিট সময়ে সিলেটের “আল হেরা মাইন” হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পরলোক গমন করেন বাবু স্বপন সরকার। বর্ণ্যাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে অধীকারি বাবু স্বপন সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতার পূর্ব সময় থেকে স্বাধীনতার পর পর্যন্ত মুজীব আদর্শের একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে তিনি কাজ করেছেন।

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। এই সংগ্রামী নেতার দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে জাসদের গন বাহিনী ও সর্বহারা পার্টির ধ্বংসাত্বক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে তিনি সাহসী ভূমিকা পালন করেন।

 

১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের পর তার প্রতিবাদ জানিয়ে ময়মনসিংহ শহরে ছাত্রলীগের উদ্যোগে গুটি কয়েক নেতা ও কর্মী নিয়ে যে প্রতিবাদ মিছিলটি হয়েছিল তার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা বাবু স্বপন সরকার। পরবর্তীতে তিনি আঃলীগের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।

 

দলের বিভক্তির সময় তিনি কিছুদিন আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে বাকশালের রাজনীতির সাথে সম্পৃত হন। কিন্তু অল্প কিছুদিন পরেই তিনি আবার শেখ হাসিনার নেতৃত্বধীন আঃলীগের ফিরে আসেন। রাজনৈতিক জীবনে স্বপন সরকার ছিলেন সাবেক ধর্মমন্ত্রী ও আঃলীগ নেতা অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের একনিষ্ঠ সহচর।

 

মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের সহকর্মী হিসেবে রাজনীতি করে গেছেন। বাবু স্বপন সরকার বাংলাদেশ আঃলীগের সাবেক জাতীয় পরিষদ সদস্য ছিলেন। এর পূর্বে ময়মনসিংহ জেলা আঃলীগের সহসভাপতি ও সিটি আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সংখ্যালঘুদের অধীকার সংরক্ষনের জন্য তিনি নিরলসভাবে লড়াই সংগ্রাম করে গেছেন।

 

তিনি ময়মনসিংহ জেলার হিন্দু, বৌদ্ধ্য, খ্রিষ্ঠান ঐক্য পরিষদের সাধারন সম্পাদক হিসেবে ও দূর্গাবাড়ী ধর্মসভার সাধারন সম্পাদক হিসেবেও মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন। সিলেট “আল হেরা মাইন” হাসপাতাল থেকে তার মৃত দেহ ভোর ৫টায় ময়মনসিংহ শহরে নিজ বাসায় এসে পৌছায়।

 

তার মরদেহ ময়মনসিংহ পৌছার প্রচারের সাথে সাথে তার নিজ বাসভবনে দলমত নির্বিশেষে শতশত লোক এসে ভিড় জমায় তাকে এক নজর দেখার জন্য। প্রসঙ্গত উল্লেখ থাকে যে, স্বপন সরকার ময়মনসিংহ পৌরসভার সাবেক ৭নং ওর্য়াডের কমিশনার ছিলেন। কমিশনার থাকাকালীন সময়ে তিনি অবহিলিত দরিদ্র জনগনের কল্যাণে কাজ করে গেছেন যা আজও সর্বজন বিদীত।

 

তার শবদাহ করার পূর্বে তাকে জনসাধারনের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য প্রথমে দূর্গাবাড়ী নাট মন্দির ও পরে গাঙ্গিনার পারের শিববাড়ী আঃলীগ অফিসে এনে রাখা হয়। এ সময় আঃলীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা তাদের সাবেক প্রিয় নেতাকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। সেখান থেকে বাবু স্বপন সরকারের মৃত দেহ কেওয়াট খালী মহা শশ্বান এনে দাহ করা হয়।

 

স্বপন সরকারের মৃত্যুতে ময়মনসিংহ জেলা আঃলীগের সভাপতি এড জহিরুল হক খোকা সাধারন সম্পাদক এড. মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, মহানগর আঃলীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম ও সাধারন সম্পাদক মোহিতুর রহমান শান্ত, জেলা আঃলীগের সহ সভাপতি দি ময়মনসিংহ জেলা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আমিনুল হক শামীম, শহর আঃলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক জেলা আঃলীগের সহ সভাপতি এড. সাদেক খান মিল্কী টজু, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর আঃলীগের সহ সভাপতি ইকরামুল হক টিটু, জেলা আঃলীগের সহ সভাপতি ময়মনসিংহ জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সহ সভাপতি এড. পিযুষ কান্তি সরকার মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির সাবেক আহ্বায়ক দৈনিক আলোকিত ময়মনসিংহ পত্রিকার সম্পাদক বাবু প্রদিপ ভৌমিক দি ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্সের সহ সভাপতি দূর্গাবাড়ী ধর্মসভার সাংগঠনিক সম্পাদক শংকর সাহা, রঘুনাথ জিউর আখড়ার সহ সভাপতি সুমন ঘোষ এক বিবৃতিতে বাবু স্বপন সরকারের আত্মার সৎগতি কামনা করে তার পরিবারের প্রতি সহানুভূতি ও সহমর্মিতা জানিয়েছেন।

 

মৃত্যুকালে বাবু স্বপন সরকার ৩ ছেলে রেখে গেছেন। তার বড় ছেলে সিলিট পুলিশের উপ-কমিশনার সঞ্জয় সরকার। মেজ ছেলে একটি বিদেশি এনজিওতে কর্মরত ও ময়মনসিংহ মহানগর আঃলীগের সদস্য।