| |

প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ ও শরিফ আহমেদের প্রতি ময়মনসিংহবাসীর প্রত্যাশা

আপডেটঃ ৯:৫১ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ০৭, ২০১৯

Ad

প্রদীপ ভৌমিকঃ আজ গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নিলেন কে.এম খালিদ বাবু ও শরিফ আহমেদ। এ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে ময়মনসিংহ জেলা থেকে রাজনীতি ও উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে কাজ করবেন এই ২জন। জনৈক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে সমাজ, দেশ ও জাতিকে ভালো কিছু দেওয়ার বয়স হলো ৬৫ বছর পর্যন্ত। কে.এম খালিদ বাবু ও শরিফ আহমেদের বয়স নির্ধারিত সীমানার মধ্যে।

 

সাধারনত পৃথিবীর ৬৫ উর্ধ্ব ব্যক্তিরা শারিরীক ও মানুষিকভাবে দূর্বল হয়ে পরে। নির্ভরশীল হয়ে পরে অন্যের উপর। যার ফলে তারা নিজস্ব চিন্তা চেতনায় কাজ করতে পারেনা অন্যের দ্বারা প্রভাবান্নিত হয়। প্রভাবান্নিত হয় ¯্রী, পুত্র, স্বজন ও চাটুকারদের দ্বারা। যার ফলে দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি দ্বারা আক্রান্ত হয়ে স্বাভাবিক জনকল্যানমুলক কাজ থেকে মন মানুষিকতায় অনেক দূরে সরে যায় এবং হয়ে যায় আত্বকেন্দ্রীক। এ বারের মন্ত্রী সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ জেলায় অপেক্ষাকৃত তরুন ২জনকে মন্ত্রীত্ব প্রদান করেছেন।

 

এই ২জন মন্ত্রীর সফলতার উপর নির্ভর করবে আঃলীগের আগামী দিনের সরকারের সফলতা, রাষ্ট্র ও জনগনের উন্নয়ন। শেখ হাসিনা ও ময়মনসিংহবাসী বিশ^াস করে এই তরুণ মন্ত্রীদ্বয় উনাদের সততা, নিষ্ঠা ও কর্মতৎপরতা দ্বারা অতীতের মন্ত্রী এবং এমপিদের মত স্বজনপ্রীতি পরিহার করে সফল মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

 

ময়মনসিংহের জনগন আরও বিশ্বাস করে ময়মনসিংহের রাজনৈতিক পরিমন্ডলের বিতর্কহীন সৎ ও নিষ্ঠাবান এই মন্ত্রীদের দ্বারা সম্ভব ময়মনসিংহ জেলার সার্বিক উন্নয়ন। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে. এম খালিদ বাবু জন্মগ্রহন করেন ১৯৫৫ সালে ৪ আগষ্ট। মা রাবেয়া খাতুন ও বাবা এম এ ওয়াদুদ। ময়মনসিংহ ৫ মুক্তাগাছা থেকে এবার নিয়ে ২ বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। ছাত্রজীবনে তিনি ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের (জালাল জাহাঙ্গীর) গ্রুপের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি।

 

আনন্দমোহন কলেজ থেকে তিনি ভিপি হিসেবে ছাত্রসংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহন করেছিলেন তারপর কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য হিসেবে এবং ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগের সদস্য হয়ে ৭৫ পরবর্তী সময়ে মুজীব আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য লড়াই সংগ্রামে অংশগ্রহন করেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী। সততা নিষ্ঠা যার চরিত্রের প্রদান গুন। মুক্তাগাছা থেকে তিনি সদরের বাসিন্দা হওয়া সত্বেও ্প্রথম এমপি নির্বাচিত হন। এমপি নির্বাচনের পর মুক্তাগাছাবাসী তার কর্মদক্ষতা সততা ও অসহায় জনগনের প্রতি ভালবাসার গুনে মুগ্ধ হয় এবং তাকে আপন করে গ্রহন করে নেয়।

 

পরবর্তীতে মহাজোট সরকারের আমলে জাতীয় পার্টির রওশন এরশাদ তার এই আসনটি জাতীয় পার্টির দলীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয় এবং কেন্দ্রীয় আঃলীগের সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তিনি জাতীয় পার্টির পক্ষে তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কে.এম খালিদ বাবু পুনরায় আঃলীগের হয়ে নৌকা প্রতিক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহন করেন। নির্বাচনে তিনি অন্যান্য সব প্রার্থীকে লক্ষ্যাধিক ভোট বেশি পেয়ে পরাজিত করেন। নির্বাচন চলাকালীন সময়ে মুক্তাগাছাবাসীর দাবি ছিল খালিদ বাবুকে তারা এমপি হিসেবে নির্বাচিত করলে তাকে মন্ত্রী করতে হবে। জননেত্রী শেখ হাসিনা খালিদ বাবুকে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী করে সে দাবি পূরন করেছেন। খালিদ বাবু এখন শুধুমাত্র মুক্তাগাছার এমপি নয় সমগ্র বাংলাদেশসহ ময়মনসিংহ জেলার মন্ত্রী। তার কাছে দেশবাসীর প্রত্যাশা অনেক।

শরিফ আহমেদ ময়মনসিংহ ২ ফুলপুর আসন থেকে এবারসহ পরপর ২বার এমপি নির্বাচিত হলেন। উনার জন্ম ১৯৭০ সালের ২৫ জানুয়ারী। বাবা শামসুল হক এমপি মাতা আম্বিয়া খাতুন। সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি দায়িত্ব পেয়েছেন।

 

শরিফ আহমেদের পিতা ভাষা সৈনিক মুক্তিযোদ্ধের সংগঠক ময়মনসিংহ জেলা আঃলীগের সাবেক সভাপতি জেলা জাতীয় শ্রমিকলীগের সভাপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ¯েœহধন্য স্বাধীনতার পূর্ব থেকে পরবর্তী সময় পর্যন্ত বিশেষত ৭৫ পরবর্তী সময়ে আঃলীগের একজন অকুতভয় সৈনিক হিসেবে ময়মনসিংহের রাজপথে মুজীব হত্যার বিচারসহ জনগনের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই সংগ্রাম করেছেন।

 

জনবান্ধব শামসুল হক এমপির প্রতি ছিল ময়মনসিংহ জেলা তথা ফুলপুরবাসীর অপরিসীম ভালবাসা। তাই তাকে বার বার এমপি হিসেবে মনোনিত করেছেন ফুলপুরবাসী। এমনি একজন মুজীব আদর্শের বিশ^াসী পরিবারের সন্তান শরিফ আহমেদ।

 

ছাত্রজীবনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃত থেকে রাজপথে লড়াই সংগ্রাম করেছেন। কোনদিন দলের আদর্শচূৎ হন নাই। তিনি ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগের সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য ছিলেন। শরিফ আহমেদ একজন কর্মীবান্ধব আঃলীগ নেতা। আঃলীগ দলীয় কর্মী ও জনগনের বিপদে ভাইয়ের মত বন্ধুর মত তিনি এগিয়ে আসেন ও সাহায্য করেন।

 

সাধারন মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ব্যক্তি শরিফ আহমেদ এমপি। ভাষা সৈনিক বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃলীগের দুঃসময়ের নেতা মরহুম শামসুল হকের পরিবার থেকে তার সন্তান শরিফ আহমেদকে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী করায় ময়মনসিংহবাসী আনন্দীত ও উচ্ছসিত এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে কৃতজ্ঞ।

 

সার্বিকভাবে ময়মনসিংহ জেলাবাসীর প্রত্যাশা কে. এম খালিদ বাবু এবং শরিফ আহমেদ দূর্নীতিমুক্ত সন্ত্রাসমুক্ত অসাম্প্রদায়িক গনতান্ত্রিক স্বজনপ্রীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন শেখ হাসিনা দেখেন তারা সততার সহিত নিষ্ঠার সহিত কাজ করে জননেত্রী শেখ হাসিনা ও ময়মনসিংহবাসীর স্বপ্ন পূরন করবেন।

ব্রেকিং নিউজঃ