| |

ইউপি নির্বাচনেও জোট করছে না আওয়ামী লীগ

আপডেটঃ 1:17 am | February 07, 2016

Ad

আলিাকিত ময়মনসিংহ : ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনও এককভাবে করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ নির্বাচনেও ১৪ দলীয় জোট শরিকদের সঙ্গে কোনো আসন সমঝোতায় যাবে না দলটি।

আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের যে চাপ রয়েছে তাতে এককভাবেই মনোনয়ন দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। এ অবস্থায় জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করার মতো পরিস্থিতি আওয়ামী লীগের নেই। এছাড়া ইউপি নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিয়ে জোটের শরিক দলগুলো তৃণমূলে যাতে সংগঠনকে চাঙ্গা করতে পারে সে বিষয়টিও চায় আওয়ামী লীগ।

গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনেও এককভাবেই অংশ নেয় আওয়ামী লীগ ও এই জোটের শরিকরা। নির্বাচনে ১৪ দলের শরিকদের কোনো কোনো দল জোটগতভাবে এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো (আসন সমঝোতা) দুই একটি পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে ছাড় আশা করেছিলো। কিন্তু শুরু থেকেই আওয়ামী লীগ এককভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয়।

আগামী মাসের (মার্চের) শেষ দিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। চলতি ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার কথা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের।

এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনও দলীয়ভাবে এবং দলীয় প্রতীকে করার আইন হওয়ায় এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রথমবাবের মতো দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর ফলে রাজনৈতিকভাবে এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দলীয়ভাবে ও দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত হওয়ায় দলের চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে এখনই চাপের মধ্যে রয়েছে আওয়ামী লীগ। প্রতিটি ইউনিয়নেই ৪/৫ জন করে চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন। কোথাও কোথাও আরও বেশি প্রার্থী আছেন যারা দলীয় মনোনয়ন পেতে বিভিন্নভাবে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা গ্রুপিং ও লবিং চালাচ্ছেন। দলের কেন্দ্রীয় ও প্রভাবশালী নেতা এবং মন্ত্রীদের কাছে ধর্না দিতে শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

এ অবস্থায় নির্বাচনী জোট করা বা জোট শরিকদের জন্য কোনো কোনো ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ছাড় দেওয়া আওয়ামী লীগের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে বলে দলের নেতারা জানান।

তারা আরও জানান, একক প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে দলকে হিমশিম খেতে হবে। ইতোমধ্যেই বিষয়টি দলের নেতারা ভাবতে শুরু করেছেন। বিদ্রোহী প্রার্থীদের ঠেকানো নিয়ে চিন্তিত দলের নীতি-নির্ধারকরা। কোথাও জোটের প্রার্থীদের ছেড়ে দেওয়া হলে সেখানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকানো সম্ভব হবে না।

তাছাড়া ১৪ দলের শরিকদের তৃণম‍ূলে সংগঠনও শক্তিশালী নয়। উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক ইউনিয়নে ১৪ দলের শরিক দলগুলোর জোট করার মতো ভালো অবস্থাও নেই বলে আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন। ১৪ দলের শরিকরা এককভাবে নির্বাচন করলে দল ও সংগঠন গোছানোর সুযোগ পাবে বলে আওয়ামী লীগ নেতাদের ধারণা। শরিক দলগুলো সাংগঠনিকভাবে চাঙ্গা হলে বা শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে পারলে সেটা জোটের জন্য ইতিবাচক বলে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন  বলেন, এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো চিন্তা-ভাবনা নেই। ১৪ দল আসলে জাতীয় নির্বাচনের জোট। এটা তো স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এ নির্বাচন জোটগতভাবে করতেই হবে এমন কোনো বিষয় নেই।

আওয়ামী লীগের আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী  বলেন, ১৪ দল কোনো স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জোট নয়। এটা রাজনৈতিক আদর্শের ওপর গড়ে ওঠা একটি জোট। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ১৪ দলগতভাবে প্রার্থী দিতে হবে এমন নয়। এ নির্বাচন এককভাবে করা হবে। তাছাড়া এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জোটের শরিকরা তৃণমূলে তাদের দল গোছাতে পারবে।

ব্রেকিং নিউজঃ