| |

ব্রহ্মপুত্রের খনন শুরু মার্চে, দরপত্র আগামী সপ্তাহে

আপডেটঃ ৩:৫৮ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০১৯

Ad

এক সময়ের খরস্রোতা নদ ময়মনসিংহের ‘পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের নাব্যতা উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ শুরু করছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।  প্রকল্পের একটি প্যাকেজের দরপত্র আগামী সপ্তাহে আহ্বান করা হয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে এর কার্যক্রম শুরু হবে চলতি বছরের মার্চে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দরপত্র আহ্বানের পর ২৮ দিনের মধ্যেই কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে উজানে কুড়িগ্রামের চিলমারী পর্যন্ত ২২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ পুরাতন ব্রহ্মপুত্র খননের কাজ শুরু হবে। ৬ বছর মেয়াদী এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে মোট ২৮টি প্যাকেজে আহ্বান করা হবে দরপত্র।

বিআইডব্লিউটিএ-এর চেয়ারম্যান কমডোর এম মোজাম্মেল হক বলেন, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী মার্চের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই ব্রহ্মপুত্রের খনন কার্যক্রম শুরু হবে। এজন্য আগামী সপ্তাহে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

প্রকল্পের কার্যক্রম অগ্রগতি নিয়ে তিনি জানান, এই মেগা প্রকল্পের কাজ শুরুর আগেই নিয়মমতো ভৈরব থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্রের জরিপ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী দেড় মাসের মধ্যে বাকি অংশের জরিপ কাজ সম্পন্ন হবে।

প্রকল্পের আওতায় চরম নাব্যতা সঙ্কটের মুখে থাকা এই নদের হারানো যৌবন ফিরিয়ে এনে আবারও জাহাজ ও কার্গো চলাচল করতে পারবে। চাহিদার উপর ভিত্তি করে লোকালয় বা বাজারে গড়ে ওঠবে মোট ১৪টি ঘাট। পাশাপাশি দু’টি জাহাজ চলাচলের জন্য নদটি ৩০০ থেকে ৩৫০ ফুট প্রশস্ত ও ১০ ফুট গভীর করা হবে।

নদটির ৮ কোটি ঘনমিটার অংশ ক্যাপিটাল ড্রেজিং করা হবে। খননের পর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও পালন করবে বিআইডব্লিউটিএ।

জানা যায়, নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকেই এক সময়ের খরস্রোতা বহমান ব্রহ্মপুত্র মরা গাঙে পরিণত হয়েছে। মাইলের পর মাইলজুড়ে নদের বুকে ধূ ধূ বালুচর। নদের বুকে চর জেগেছে ৭২০ বর্গ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকাজুড়ে।

নদের তলদেশের উচ্চতা বেড়েছে প্রায় ২৫ ফুটের মতো। অথচ এক সময় এই নদ তীরবর্তী এলাকায় ৫০ হাজার একর জমিতে ফসলের আবাদ হতো। এখন শুধু শুষ্ক মৌসুমে ফসলের চাষবাস হচ্ছে।

নদের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, চলতি শুষ্ক মৌসুমে অনায়েসে হেঁটেই ব্রহ্মপুত্র নদ পার হওয়া যায়। কোথাও পানি পুরোপুরি শুকিয়ে মাঠে রূপ নেওয়ায় সেখানে খেলাধূলায় মেতে উঠছে দুরন্ত শিশু-কিশোররা। কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, জামালপুরসহ সব পয়েন্টেই নদটির এমন মরণদশা চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ খননের প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয় ১৯৮৮ সালে। কিন্তু সেইবার ভয়াবহ ভাঙনের কারণে এই উদ্যোগ ভেস্তে যায়। এরপর সরকার পরিবর্তন হলেও পুরাতন এই নদ খননের দাবি উপেক্ষিত থেকে যায় বরাবরই।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম ছিলো পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ খনন। ওই সময় সার্কিট হাউজে এক জনসভায় নদ খননের প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুইবার ময়মনসিংহ সফরের সময় নদটি খননের অঙ্গীকার করে যান তৎকালীন নৌমন্ত্রী শাজাহান খানও।

এসবের পরিপ্রেক্ষিতেই গত বছরের ২ অক্টোবর নদটির নাব্যতা ফেরাতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্প অনুমোদন পায়। ওই বছরেরই নভেম্বরে ময়মনসিংহ সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ খনন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। সেই থেকেই নদটি খননে আশায় বুক বাঁধে এই অঞ্চলের ব্রহ্মপুত্র তীরের লাখ লাখ মানুষ।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ-এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম  বলেন, যারা ক্যাপিটাল ড্রেজিং করবে তারা পরবর্তী তিনবছর নদের সংরক্ষণও করবে। ব্রহ্মপুত্র খনন করা হলে যমুনা থেকে প্রচুর পরিমাণ পানির সঙ্গে বালু আসবে। এই কারণে নৌপথটি সারা বছর সংরক্ষণের আওতায় রাখতে হবে।

এই অবস্থার জন্য জামালপুরে একটি ড্রেজার বেজ গড়ে তোলার পাশাপাশি ময়মনসিংহেও ড্রেজিং অফিস করা হবে বলে জানান তিনি।

বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমডোর এম মোজাম্মেল হক বলেন, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র খনন করা হলে ফসলের পাশাপাশি প্রাণ ফিরবে মৎস্যজীবীদের মধ্যেও। কারণ নদীতে পানি এলে চাষবাস যেমন হবে নদকে ঘিরে ব্যবসা-বাণিজ্যও জমজমাট হবে। কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা হবে।

সূত্র: বাংলানিউজ

ব্রেকিং নিউজঃ