| |

২০ বছরে সুন্দরী গাছ বিলীন হবে সুন্দরবনে দুর্যোগের ক্ষতি ঠেকাতে উদ্যোগের তাগিদ

আপডেটঃ 1:24 pm | February 07, 2016

Ad
আলোকিত ময়মনসিংহ : জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগের ঝুঁকি ও ক্ষতি মোকাবেলা করতে উদ্যোগ না নিলে আগামী ২০ বছরের মধ্যে সুন্দরবনে কোনো সুন্দরী গাছ থাকবে না। ওই এলাকার মানুষ নানা শারীরিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়বেন। বাংলাদেশ এই ধরনের ঝুঁকির মধ্যে থাকার মূল কারণ দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করতে না পারা ও সমন্বিত উদ্যোগের অভাব।
গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় ওয়ারশ্ আন্তর্জাতিক পদ্ধতিবিষয়ক কর্মশালা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষয়-ক্ষতি মোকাবেলায় জাতীয় কর্মপরিকল্পনার প্রস্তাব উত্থাপনের উদ্দেশ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, এনএসিওএম, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং অ্যাক্শন এইড বাংলাদেশ দুই দিনের এই কর্মশালার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং দুর্যোগের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে কোটি কোটি মানুষ নিত্য সংগ্রাম করে যাচ্ছে। তাই এ সমস্যার সমাধান জরুরি। প্রয়োজন দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস তহবিল গঠনের।
মন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ জলবায়ু পরিবর্তনের একটি নেতিবাচক প্রভাব, আগামী বছরগুলোতে যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।  দুর্যোগ মোকাবেলার পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণে সরকারি-বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, গবেষক সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আইনুন নিশাত বলেন, জলবায়ু ও দুর্যোগ মোকাবেলায় যদি সঠিকভাবে কাজ না করা হয়, তবে আগামী ২০/৩০ বছরের মধ্যে সুন্দরবনে কোনো সুন্দরী  গাছ থাকবে না। এখনই ওই এলাকার মানুষকে লবণাক্ততার কারণে পানি কিনে খেতে হয়।
দুর্যোগ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. সালিমুল হক বলেন, ডিসেম্বরে মরক্কোতে অনুষ্ঠেয় বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলনে আমাদের ক্ষয়ক্ষতির দাবি তুলে ধরতে হবে। যতটুকু সময় আছে তার মধ্যেই আমাদের প্রস্তুত হতে হবে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ্ কামাল বলেন, আমরা নিজেরা সংগঠিত নাই। দুর্যোগের ফলে যে ক্ষতি হচ্ছে তার দায় আমাদের নয়। এজন্য উন্নত দেশগুলো দায়ী। তাদের কাছে আমাদের ক্ষতিপূরণ দাবি করতে হবে। আর সেটি শক্তভাবে করতে হলে আমাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করতে হবে।
অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, জলবায়ু ও দুর্যোগ নিয়ে সবার মধ্যে পরিষ্কার ও শক্ত ধারণা তৈরি করতে হবে। আমাদের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য একসঙ্গে উদ্যোগ নিতে হবে। সেটি না করতে পারলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষেরা অর্থনৈতিক, সামাজিক ও শারীরিকভাবে আরও বেশি সমস্যায় পড়বে।
 দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগের ফলে শুধু আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতি হচ্ছে না। একজন মানুষের মানসিক, শারীরিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষতি হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করতে, এই বিষয়গুলো বিবেচনায় আনা উচিত।

ব্রেকিং নিউজঃ