| |

বড় হচ্ছে কেন্দ্রীয় কমিটি, বাদ পড়ছেন অনেকেই

আপডেটঃ 1:36 pm | February 07, 2016

Ad
আলোকিত ময়মনসিংহ : আগামী ২৮ মার্চ অনুষ্ঠেয় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে শীর্ষ দুই পদ ছাড়া বাকি দুই-তৃতীয়াংশ পদেই বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এছাড়া আকার বাড়তে পারে কেন্দ্রীয় কমিটির। এক্ষেত্রে বিতর্কিত, নিষ্ক্রিয় ও হঠাত্ গজিয়ে ওঠা নেতারা বাদ পড়বেন। নতুন মুখ হিসেবে আসতে পারেন অতীতে ছাত্রলীগের শীর্ষপদে দায়িত্ব পালনকারীরা।
জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দলের ২০তম জাতীয় এ সম্মেলনে আবারো সভাপতি হচ্ছেন। আর সাধারণ সম্পাদক পদে এবারও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বহাল থাকছেন। এ নিয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে তিনি এ দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। এছাড়া এবারের সম্মেলনে দলের মুখপাত্র নামে নতুন একটি পদ সৃষ্টি করা হতে পারে। মোহাম্মদ নাসিমকে প্রেসিডিয়াম সদস্যের পাশাপাশি বাড়তি দায়িত্ব হিসেবে দলের মুখপাত্র করা হতে পারে।
সূত্র জানায়, গত দুই জাতীয় কাউন্সিলে তেমন কোনো পরিবর্তন না হলেও এবারের সম্মেলনে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আসবে আমূল পরিবর্তন। এছাড়া কেন্দ্রীয় কমিটিতে থাকা বিতর্কিতরাও বাদ পড়ছেন। আর কোন কারণে যদি সৈয়দ আশরাফ বাদ পড়েন তাহলে সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে যারা এগিয়ে আছেন তারা হলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, দলের দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ ও সাবেক এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য জানান, এবার কাউন্সিলে দক্ষ ও গতিশীল নেতৃত্ব বের করে আনতে চান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিছু নেতা দলীয় পদ-পদবির অপব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া দলের সব পর্যায়ের নেতার সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড থেকে শুরু করে তাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও ব্যবসায়িক সব ধরনের তথ্যই নেত্রীর জানা। কাউন্সিলে সেসব বিবেচনা ও মূল্যায়ন করা হবে।
সূত্র জানায়, দলের সাত সাংগঠনিক সম্পাদকই দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এরমধ্যে অন্তত চারজন তাদের সাংগঠনিক দক্ষতা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে মনে করেন দলের নীতি-নির্ধারণী মহল। আগামী কাউন্সিলে তাদের কপাল পুড়তে পারে। প্রেসিডিয়াম সদস্যদের মধ্যে যারা নিষ্ক্রিয় তারাও বাদ পড়তে পারেন। গুরুত্বপূর্ণ সম্পাদকীয় পদে থেকেও দলকে তেমন কিছু দিতে পারেননি বেশ কয়েকজন নেতা। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন এমন ১০/১৫ জন নেতা। নামেই কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, দলের কার্যনির্বাহী কমিটির মিটিং ছাড়া কোথায়ও পাওয়া যায় না এমন নেতার সংখ্যাও কম নয়। পদ হারাতে পারেন তারাও।
এদিকে কেন্দ্রীয় সম্মেলন সামনে রেখে ৭৭ সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ইতিমধ্যে ৬০টি জেলার সম্মেলন শেষ হয়েছে।  চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই আরো ৭টি জেলার সম্মেলন সম্পন্ন করার টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে। সূত্র জানায়, এবারের সম্মেলনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আকার বাড়ছে। ৭৩ সদস্যের  কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ৮১ সদস্যের হতে পারে। এ লক্ষ্যে সম্মেলনে গঠনতন্ত্রে সংশোধনী আনা হতে পারে। নতুন পদের মধ্যে সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ অন্তত তিনটি বাড়বে। প্রেসিডিয়াম সদস্য ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদও বাড়তে পারে। সম্পাদকমণ্ডলীর মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক আলাদা একটি পদ থাকতে পারে। ময়মনসিংহ বিভাগে একজন সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ সৃষ্টি হতে হবে। এ ছাড়া ফরিদপুর ও কুমিল্লাকেও বিভাগ ঘোষণা করবে সরকার। সেটি বিবেচনায় নিয়ে এ দুই বিভাগের জন্যও সাংগঠনিক সম্পাদক পদ সৃষ্টি হতে পারে। নতুন সাংগঠনিক জেলাগুলো হবে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, ফরিদপুর মহানগর ও ময়মনসিংহ মহানগর।
২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তিন বছরের জন্য গঠিত এ সম্মেলনের মেয়াদ গত ২৯ ডিসেম্বরে শেষ হয়েছে। গত ১৯ জানুয়ারি দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে বর্তমান কমিটির মেয়াদ আগামী ২৯ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এদিকে নতুন কমিটিতে পদ পেতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন নেতাকর্মীরা। ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের পাশাপাশি উঠতি ব্যবসায়ী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরাও পদ পেতে চান আওয়ামী লীগ কমিটিতে।  তারা এখন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের অফিস-বাড়িতে গিয়ে ভিড় জমাচ্ছেন।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ জানান, জাতীয় সম্মেলন ও ইউপি নির্বাচনের প্রস্তুতি দুটোকেই এক সাথে এগিয়ে নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। মেয়াদোত্তীর্ণ সাংগঠনিক জেলাগুলোর সম্মেলন চলছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের এবারের কাউন্সিলে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসছে বলে জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

ব্রেকিং নিউজঃ