| |

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন পুরুষ কাউন্সিলর প্রার্থীদের সাথে লড়ছেন ২৫ নং ওয়ার্ডে সাহসী নারী ফাহিমা বেগম রূপা

আপডেটঃ ১০:২০ পূর্বাহ্ণ | এপ্রিল ২৬, ২০১৯

Ad

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সত্যিই বাঘের বাচ্চা, ২৪২ জন পুরুষ কাউন্সিলার প্রার্থীর মাঝে তিনিই একমাত্র মহিলা প্রার্থী। সাহসী নারী হিসাবে সাহস দেখিয়ে ময়মনসিংহ সিটি নির্বাচনে তুলপাড় সৃষ্টি করে দিয়েছেন যিনি তিনি হলেন নারী নেত্রী ফাহিমা বেগম রুপা। আজ মনে হচ্ছে রুপার বাবাকে মানুষের দেয়া নাম টা সার্থক হয়েছে। কাউন্সিলর প্রার্থী রুপা‘র বাবাকে সবাই বাঘা বলে ডাকত। রুপার বাবা একজন বীরমুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ সাহসিকতার জন্য তার এই খেতাব মিলে। তিনি খুব ভালো ফুটবল খেলোয়ার ছিলেন। এছাড়া মাছ ধরায় এত দক্ষ ছিল যে টিকেট কেটে মাছ মারতে গেলে অন্য সবাই রুপা‘র বাবাকে ভয় পেতো কারন সবাই জানত কোন পুরস্কার না নিয়ে বাড়ী ফেরার পাত্রটি এই বাঘা নয়।কেউ কেউ আবার তাাঁকে হায়ার করে নিয়ে যেতো এই মাছ মারার জন্য। টিভি, সাইকেল সহ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পুরস্কারে তিনি সুনাম অর্জন করেছেন। আজকের সেই বাঘের বাচ্চাই বাঘিনী রুপা। ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তেত্রিশ ওয়ার্ডে ২৪২ জন প্রার্থীর মাঝে একমাত্র মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী রুপা। সত্যি রুপা নারী সমাজের অহংকার। জয় হোক রুপার। জয় নারী সমাজের।নারীর জয়ে সবার জয়। এসব কথা গুলো বললেন নারী নেত্রী মাহমুদা হোসেন মলি। যে সাহস সাধারণ কেউ দেখায় না। সেই সাহসই দেখিয়েছেন ফাহিমা বেগম রূপা (৩৯)। ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তিনি সরাসরি কাউন্সিলার পদে নির্বাচন করছেন। তার প্রতিদ্বন্ধী সবাই পুরুষ। ইচ্ছে করলেই তিনি সংরক্ষিত আসনে দাড়াতে পারতেন। সেখানে না গিয়ে নিজের যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার ওপর বিশ্বাস রেখে সাহস করে প্রার্থী হয়েছেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে। সিটি কর্পোরেশনের ২৫ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে তিনি প্রার্থী। তার বিপরীতে পুরুষ প্রার্থী আছেন মোট ১২ জন। তিনি সহ ২৫নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে মোট প্রার্থী ১৩ জন। বিস্ময়ের বিষয় হলো ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন মোট ২৪২ জন। এর মাঝে ফাহিমা বেগম রূপাই একমাত্র নারী। শুধু যে হুট করে আর আবেগের বশে ফাহিমা বেগম রূপা কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়ে পড়েছেন, বিষয়টা তা নয়। তিনি পুরো দস্তর একজন অভিজ্ঞ জনপ্রতিনিধি। বর্তমানে সিটি কর্পোরেশনের ২৫নং ওয়ার্ডটি আগে ছিল বয়রা ইউনিয়ন। সেই বয়রা ইউনিয়নের মহিলা সদস্যা ছিলেন ফাহিমা বেগম রূপা। বয়রা ইউনিয়নের দীঘারকান্দা গ্রামে এখন তার ঠিকানা। তার নিজের সেই এলাকাটিই এবার হয়েছে ২৫নং ওয়ার্ড। কাজেই এলাকাতে তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে পূর্ব পরিচিত এবং পরীক্ষিত। প্রায় ৯ বছর ছিলেন বয়রা ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনে মহিলা সদস্যা। ২০১১ সালে এ ইউনিয়নের নির্বাচন হয়েছিল। এরপর তিনি উপজেলা পরিষদের সদস্য ছিলেন সদর উপজেলার প্রতিনিধি হিসেবে। তবে এ পদ থেকে বর্তমানে তিনি পদত্যাগ করে ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন। ফাহিমা বেগম রূপার বাবার বাড়ি ময়মনসিংহ শহরের কলেজ রোড এলাকায়। বাবা রফিকুর রহমান ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্বা। এসএসসি দেয়ার আগেই বিয়ে হয়ে যায় শহরতলী বয়রা এলাকায়। স্বামী আবুল কালাম আজাদ টুটুল বর্তমানে গাড়ি ব্যবসার সাথে যুক্ত। ফাহিমা বেগম রূপা বিয়ের পর এসএসসি পাশ করেন মুসলিম গার্লস স্কুল থেকে। এর পর দীর্ঘ সময় বিরতি দিয়ে কয়েক বছর আগে তিনি নাসিরাবাদ কলেজে থেকে বি.এ এবং এর আগে এইচ এস সি পাশ করেন। ২ ছেলের মাঝে বড় ছেলে রাফি পলিটেকনিকে ডিপ্লোমা নিয়েছে। আর ছোট ছেলে রাব্বী ৯ম শ্রেণিতে পড়ে। ফাহিমা বেগম রূপা বয়রা এলাকায় ব্র্যাকের এবং পরে স্বাবলম্ভী এনজিও’র অধীনে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। ফাহিমা বেগম রূপা বলেন স্বামী, পরিবার এবং এলাকাবাসীর সহায়তা নিয়েই তিনি এ পর্যন্ত এসেছেন। নারীর অধিকার নিয়ে তিনি কাজ করতে চান। ফাহিমা বেগম রূপা বলেন তার ওয়ার্ডে প্রায় ৭ হাজার ভোটারের মাঝে অর্ধেকই নারী ভোটার। তিনি সকল নারীদের ভোট আশা করছেন। ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য হিসেবে তিনি এলাকাবাসীর সুখে দুখে সব সময় পাশে ছিলেন। স্থানীয় ভোটারদের প্রতি তার আস্থা আছে। বিজয়ী হলে নিজ এলাকাকে তিনি একটি আদর্শ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলবেন।

ব্রেকিং নিউজঃ