| |

ময়মনসিংহে সদর ভূমি অফিসে রেকর্ড বহি উল্টাপাল্টা করছে বহিরাগত মামুন!

আপডেটঃ 1:00 am | April 28, 2019

Ad

ময়মনসিংহের ভূমি দস্যু আব্দুল্লাহ আল মামুন এর জালিয়াতি ধাঁপে ধাঁপে ফাঁস হতে চলেছে। রেবতী মোহন দাসকে মৃত দেখিয়ে ভূয়া পুত্র সাজিয়ে ময়মনসিংহ টাউন মৌজায় শত কোটি টাকার জমি আত্নসাতের চেস্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে আব্দুল্লা আল মামুন। একারনে তিনি আমোক্তানামা দুটি জাল দলিল সৃষ্টি করেছেন। রেবতী মোহন মৃত্যুর ৫ বছর পূর্বেই তাকে মৃত দেখান মামুন।

ময়মনসিংহ সদর ভূমি কর্মকর্তার ইউসুফ আলীর সাথে সখ্যতা থাকায় ক্রুটিপূর্ন ভূমিও সহজে জমাখারিজ করিয়ে নেন। যার বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ তাকে নিয়ে অফিস কক্ষে বসে আছেন ভূমি কর্মকর্তা। আবার আব্দুল্লাহ আল মামুন উল্টেপাল্টে দেখছেন ভূমি অফিসের রেকর্ড বহি। ধারনকৃত ভিডিওতে দেখা যায় কয়েকজন চিহ্নীত দালাল ভূমি অফিসের চেয়ার দখল করে বসে আছে। সাবধানতার কোন বালাই নাই। রেকর্ড বহিগুলো পড়ে আছে অগুছালো।

অভিযোগ রয়েছে মোটা অংকের টাকা দিয়েই নাকি পোস্টিং বাগিয়ে নিয়েছেন ইউসুফ!

জানা যায় ময়মনসিংহ টাউন মৌজায় পাট গুদাম এলাকায় এসএ দাগ নং ১০৬৫৮, ১০৬৫৯ ও ১০৬৬০ দাগে ২.৫৩ শতাংশ জমির মালিক রেবতী মোহন দাস। যাবতীয় রেকর্ড তার নামে। ভূমি দস্যু আব্দুল্লাহ আল মামুন উক্ত জমি ভূয়া দাতা ও রেবতী মোহনের ভূয়া পুত্র সাজিয়ে এবং রেবতী মোহনকে মৃত দেখিয়ে ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে আমোক্তানামা দলিল নং ৬১ ও ৬২/১৫ সন রেজিষ্ট্রি করে নেন।

এ ক্ষেত্রে আব্দুল্লাহ আল মামুন নিজের ও দাতা মনমোহনের ভূয়া ঠিকানা ব্যবহার করেন। ভুমি দস্যু আব্দুল্লাহ আল মামুন আমোক্তানামা দলিল দাখিল করে উক্ত ভুমি তার নামে জমাখারিজ করে নেন। পরবর্তী সময়ে রেবতী মোহন দাস তার নামীয় রেকর্ড পত্রের জমি জমা খারিজ করতে গেলে সব ফাঁস হয়ে যায়। ধরা পড়ে জালজালিয়াতি। আব্দুল্লাহ আল মামুন আমোক্তানাম দলিল ২০১৫ সনে করলেও রেবতী মোহন মারা যান ৩০ ডিসেম্বর/২০১৮ সনে।

ময়মনসিংহ শহরের মহারাজা রোডে চায়না টাওয়ার এর চেয়ারম্যান শাহ্ মো: আব্দুল্লাহ্ আল মামুন অংশীদারদের সাথে ৫টি শর্ত ভঙ্গ করায় ময়মনসিংহ সদর বিজ্ঞ সহকারি জজ আদালতে মোকদ্দমা নং ১৮৭/২০১৯ অন্য প্রকার দায়ের করেছেন। বাদি  মোঃ শাহজাহান ফকির তার আর্জিতে উল্লেখ করেছেন চায়না টাওয়ারের চেয়ারম্যান শাহ্ মো: আব্দুল্লাহ্ আল মামুন জালিয়াতি, অংশীদার ঠকানো ও  বিভিন্ন ব্যাক্তির কাছ থেকে  ফ্লাট বিক্রীর নামে টাকা নিয়ে অংশীদারদের সাথে কোনরূপ আলোচনা না করে আত্মসাৎ করার  অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। বাদি তার মামলায় বিজ্ঞ আদালতের কাছে বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞার  দাবি জানিয়েছেন। সেই সাথে উক্ত ভূমি জমা খারিজ তথা খাজনাদি পরিশোধ করতে না পারে  সেই মর্মে সহকারি কমিশনার ভূমি সদর বরাবরে আবেদন করেছেন।

নালিশী আর্জিতে শাহজাহান ফকির উল্লেখ করেছেন ময়মনসিংহ টাউন মৌজায়  সি.এস ১৬০১,আর.ও.আর ২৯৫৩, বি.আর.এস ৫৫৭২, খারিজ ৫৪৫৮ খতিয়ানভূক্ত জমির দাগ নং সি.এস ২৪৪৪, আর.ও.আর ১২৪৪, বি.আর.এস ৯৩৫৯, ৯৩৬০, ৯৩৬১ দাগের ০.১২৩২ একর জমি চায়না টাওয়ারের নামে নেয়া হলে এতে ৪ জন অংশীদার থাকে।  এদের মধ্যে আব্দুল্লাহ্ আল মামুন চেয়ারম্যান, শাহজাহান ফকির সদস্য সচিব এবং আব্দুল মজিদ মাস্টার ও আবুল ফজল সদস্য রয়েছেন।

ব্রেকিং নিউজঃ