| |

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের শুধু কাউন্সিলর পদে ইভিএম-এ ভোট রবিবার, প্রার্থী ৩১২

আপডেটঃ ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ | মে ০৪, ২০১৯

Ad

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশে এই প্রথম আগামীকাল ৫ মে রবিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ১২৭টি কেন্দ্রেই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইতেমধ্যেই মেয়র পদে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় আওয়ামীলীগ মনোনীত ইকরামুল হক টিটুকে নির্বাচিত ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তাই এখন শুধু কাউন্সির পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সিটির ৩৩টি সাধারণ ওয়ার্ডে ২৪২ জন এবং ১১টি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৭০ প্রার্থীসহ মোট মোট ৩১২জন প্রার্থী নির্বাচনে ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হচ্ছেন। জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ, আনসার ব্যাটালিয়ন, আনসার ও গ্রাম পুলিশসহ পর্যাপ্ত আইন প্রয়োগকারী সদস্য নিয়োজিত করা হচ্ছে। এদিকে ভোট গ্রহনের ৩২ঘন্টা পূর্বে শুক্রবার ১২টায় প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়।
সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহনের জন্য নির্বাচন কমিশন সকল প্রকার প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। ইভিএম দেখভালের জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে ২জন সেনা সদস্য ও একজন এক্সপার্টসহ মোট ৩জন এক্সপার্ট নিয়োজিত করা হয়েছে। ইভিএম এ কোনো রকম সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষনিক সামাধান দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের রির্টানিং কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসার মোঃ আলীমুজ্জামান। তিনি বলেন ইভিএম এমন একটি পদ্ধতি, একজনের ভোট আরেকজন দিতে পারবে না, যার মাধ্যমে জাল ভোট দেয়ারও কোন সুযোগ নেই। ইভিএম কার্যকরি করতে ইতেমধ্যেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে মগ (অনুশীলন) ভোটিং করা হয়েছে।
রির্টানিং কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসার মোঃ আলীমুজ্জামান শুক্রবার সন্ধ্যায় তার সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিং এ জানান, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ডে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৩জন মোবাইল ম্যাজিস্ট্রেট, ১৬জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ২২ প্ল্যাটুন বর্ডার গার্ড (বিজিবি) স্টাইকিং, আনসার ব্যাটলিয়ন টীম ৩টি, ৩৩টি ওয়ার্ডে ৩৩টি পুলিশের মোবাইল টীম এবং আরো ১১টি স্টাইকিং ফোর্স মোতায়েন করা হচ্ছে। ৫৫টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পুলিশসহ ৫জন অস্ত্রধারী মোতায়েন থাকবে।
ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মোট কেন্দ্র ১২৭টি, মোট ভোট কক্ষ-৮৩০টি, মোট ভোটার ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৩৮জন। তন্মধ্যে পুরুষ ১লাখ ৪৬ হাজার ৪৫৮জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৫০ হাজার ৪৮০জন।
মেয়র পদে ৫জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তন্মধ্যে স্বতন্ত্র হিসেবে জাতীয় পার্টির নেতা আবু মোঃ মুসা সরকার ও শহীদুল ইসলাম (স্বপন মন্ডল) এবং বিশ্বজিৎ ভাদুড়ীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। পরে দুইজন প্রার্থীর মাঝে মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি ও জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী জাহাঙ্গীর আহমেদ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিলে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে সাবেক পৌর মেয়র ও বর্তমান ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মহানগর আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. ইকরামুল হক টিটুকে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচন কমিশন বেসরকারীভাবে বিজয়ী ঘোষণা করে।
এছাড়া ১১টি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদের জন্য ৭১জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করলে একজনের প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায় এবং ৩৩টি সাধারণ ওয়ার্ডে ২৫৯জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করলে তন্মধ্যে ১৭ জনের মনোনয়পত্র বাতিল হয়। ফলে সিটির নির্বাচনে ৩৩টি সাধারণ ওয়ার্ডে ৩৩টি পদের জন্য ২৪২ জন এবং ১১টি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদের জন্য ৭০ প্রার্থীসহ মোট মোট ৩১২জন প্রার্থী নির্বাচনে ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হন।