| |

কেন্দ্রীয় নেতাদের মর্যাদা এমপিদের উপর করা হচ্ছে

আপডেটঃ ৫:৪২ অপরাহ্ণ | মে ০৫, ২০১৯

Ad

কেন্দ্রীয় নেতাদের মর্যাদা এমপিদের উপর করা হচ্ছে আওয়ামীলীগের একজন যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক। তিনি মন্ত্রী- এমপি কিছুই নন। তার এলাকায় একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলো, যে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি একজন প্রতিমন্ত্রী। ঐ প্রতিমন্ত্রী বয়সে-রাজনীতিতে যুগ্ন সাধারণ সম্পাদকের জুনিয়র। বিব্রত যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ‘অসুস্থ’ বলে নিজেকে ঘোষণা দিলেন এবং অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকলেন। এরকম ঘটনা এখন হারহামেশাই ঘটছে আওয়ামী লীগে। জামালপুর এলাকায় আওয়ামী লীগের সাত বারের এমপি, তিনি দলের কেন্দ্রীয় কমিটিরও সদস্য, সাবেক প্রতিমন্ত্রী। আবার ঐ এলাকা থেকেই একজন এবার প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। তাদের সম্পর্ক অনেকটাই গুরু-শিষ্যের। অথচ ঐ এলাকায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রীই প্রধান অতিথি। সিনিয়র নেতা বিব্রত হলেও মেনে নিয়েছেন পরিস্থিতি। অনুজের নেতৃত্বেই কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির এরকম অনেক সদস্যই এখন বিব্রত। কোন দলীয় অনুষ্ঠান বা রাষ্ট্রীয় কর্মসূচীতে যাবার আগে তারা জেনে নিচ্ছেন, অতিথি কারা। যদি সরকারী অনুষ্ঠান হয়, তাহলো তো কথাই নেই, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাকে সরকারী কর্মকর্তারা পাত্তাই দেন না, ব্যস্ত থাকেন মন্ত্রী এমপিকে নিয়ে। এরকম তিক্ত অভিজ্ঞতার স্বীকার হয়ে অনেক কেন্দ্রীয় নেতা এখন সরকারী অনুষ্ঠানে যাওয়া বন্ধই করে দিয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে মন্ত্রী, এমপিদের জন্য সংরক্ষিত আসন থাকে, কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতাদের জন্য সংরক্ষিত কিছু থাকে না। এনিয়ে নানা জটিলতা, মান-অভিমানের খবর স্বয়ং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত পৌঁছেছে। এমনকি স্বয়ং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একাধিক অনুষ্ঠানে আওয়ামীলীগের প্রবীন নেতাদের মঞ্চ বা কাছে ডেকে নিয়েছেন, যিনি মন্ত্রী এমপি নন। কিন্তু একা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কদিক সামলাবেন? এজন্যই অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে, ক্ষমতাসীন দলে মন্ত্রী এমপি ছাড়া নেতৃবৃন্দের অবস্থান কি তা জানার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয় আওয়ামীলীগ সভাপতির একটি নিজস্ব টিমকে। একমাত্র ভারত ছাড়া অন্য কোনো দেশে এটি বড় কোনো ইস্যু নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ব্রিটেনে মন্ত্রী বা এমপিদের জন্য আলাদা প্রটোকল বা মর্যাদার বিশেষ ব্যবস্থা নেই। ভারতের পরিস্থিতি পুরোপুরি বাংলাদেশের মতোই। তবে, ভারতে সব দলগুলোরই এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। কংগ্রেসে একজন সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য যিনি মন্ত্রী এমপি নন, তিনি মন্ত্রীর চেয়েও মর্যাদাবান হিসেবে বিবেচিত হন। একই অনুষ্ঠানে মন্ত্রী থাকলে সেখানে যদি সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য থাকেন তাহলে তিনিই ‘মূখ্য অতিথি’ হবেন। আবার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য যদি এমপি নাও হন তাহলেও তিনি এমপির চেয়েও দলের মর্যাদা পাবেন। দলীয় অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় নেতাকেই মূখ্য অতিথি করতে হবে। ভারতের সিপিএম, তৃণমূল কংগ্রেসেও একই রকম মর্যাদা দেওয়া আছে। সম্প্রতি বিজেপি এক ধাপ বাড়িয়ে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বিজেপি বা যেকোনো রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের আসন এমপিদের আগে রাখার নির্দেশনা দিয়েছে। জানা গেছে, বাংলাদেশে বিষয়টি নতুন। আগে এরকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। কিন্তু এখন এমপির সংখ্যা বেশি। এরকম পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের মর্যাদা বৃদ্ধি এবং সুনিশ্চিত করার তাগিদ এসেছে। অঅর এ কারণেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতির টিম এ সংক্রান্ত একটি সুপারিশ চুড়ান্ত করেছে। এতে প্রেসিডিয়াম সদস্যদের অবস্থান মন্ত্রীর উপরে, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যরা মন্ত্রীর সমমর্যাদায় এবং প্রতিমন্ত্রীর উপরে। আর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের মর্যাদা এমপিদের উপর থাকবে। কোন অনুষ্ঠানে কাউকে অতিথি করা হলে বা আমন্ত্রণ জানানো হলে এই প্রটোকল অনুসরণ করার সুপারিশ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি যদি এটা অনুমোদন করেন, তাহলে দলের ভেতর দলীয় কর্মসূচী পালনে এরকম নির্দেশনা দেয়া হবে।