| |

প্রথম স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করায় দ্বিতীয় স্ত্রী কর্তৃক স্বামী খুন, আটক-১, ২৪ ঘন্টার মধ্যে রহস্য উৎঘাটন

আপডেটঃ ৮:১৬ অপরাহ্ণ | জুন ১৪, ২০১৯

Ad

স্টাফ রিপোটার: গত ১০/৬/১৯ তারিখ মামলার ঘটনাস্থল অত্র থানাধীন আকুয়া হাবুন বেপারীর মোড় সংলগ্ন আকুয়া মোড়লপাড়া তাজন হজন রোডস্থ ১নং বিবাদী আফরোজা শেখ ইতি(২২) এর বাসার ৫(পাঁচ)গজ সামনে পঁচা পুকুরে কচুরী পানার ভিতরে লুকাইয়া রাখে । উক্ত ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় এজাহার নামীয় ২ জন আসামীসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন আসামীর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা হয়।

রহস্যঃ ভিকটিম শফিকুল ইসলাম সবূ দুই বিয়ে করে । প্রথম স্ত্রী মাহমুদার ঘরে একটি পুত্র সন্তান আছে । সে উক্ত স্ত্রীকে রেখে দ্বিতীয় স্ত্রী ইতি কে তার পূর্বের স্বামী সন্তান থাকা সত্বেও পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হয়ে ইতিকে তার পূর্বের স্বামীর ঘর হতে নিয়ে এসে বিয়ে করে । শর্ত ছিল আগের স্ত্রীকে তালাক দিবে । এরপর থেকে দ্বিতীয় স্ত্রী (আজাদ এর বোন )ইতি কে নিয়ে আজাদের বাড়িতে থাকা শুরু করে । কিন্তু প্রথম স্ত্রী কে তালাক দেয় না বরঞ্চ চুপেচাপে প্রথম স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ রাখে। দ্বিতীয় স্ত্রী এ নিয়ে তাকে প্রায় সময় বকা বাধ্য করে। আজাদ হত্যার পর ভিকটিম শফিকুল ইসলাম সবু তার দ্বিতীয় স্ত্রী ইতির সাথে আগের মত ব্যবহার না করে প্রথম স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ বেশি করে । এ নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় । সে আগের স্বামী সন্তান ফেলে সবুর সাথে বিয়ে হয় কিন্তু কথা ছিল প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিবে । কিন্তু প্রথম স্ত্রীকে তালাক না দিয়ে তার সাথে যোগাযোগ বেশি বেশি করায় দ্বিতীয় স্ত্রী মানসিক বিপদ বিপদ গ্রস্থ হওয়ায় সিদ্ধান্ত নেয় যে কিছু একটা করব । ঘটনার দিন ১০ জুন ২০১৯ তার স্বামী গোপন দুপুরে প্রথম স্ত্রীর কাছে যায় যে। দ্বিতীয় স্ত্রী তার প্রথম স্ত্রী বাড়িতে গিয়ে তার স্বামীকে দেখতে পায় । এ নিয়ে তার ভিতর চরম অসন্তোষ বিরাজ করে এবং সিদ্ধান্ত নেয় যে আজ রাতে যেকোনো একটি ঘটনা ঘটাবে । দুপুরের পর ভিকটিম শফিকুল ইসলাম সবু প্রথম স্ত্রীর নিকট থেকে আড়াইটার দিকে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে আসে । বিকেলে পাশের মোরে খেলা দেখে রাত অনুমান ১২ টার দিকে বাসায় এসে প্রতিদিনের ন্যায় ঘুমের বড়ি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে । দ্বিতীয় স্ত্রী ইতি পূর্বে প্ল্যান মোতাবেক ওড়না দিয়ে স্বামীর গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে । ভোর রাতে বিছানার চাদর দিয়ে পেচিয়ে টেনে নিয়ে পাশের পুকুরে কচুরি নিচে লাশ রেখে আসে । ওড়না পুকুরে ঢিল দিয়ে ফেলে দেয়।

মোঃ শাহ কামাল আকন্দ,পিপিএম অফিসার-ইনচার্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা,ময়মনসিংহ নির্দেশে ক্রমে এসআই মোঃ মনিরুজ্জামান ইং ১৩/০৬/১৯ তারিখ কোতোয়ালী থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ইং ১৩/০৬/১৯ তারিখ ১৮.১৫ ঘটিকার সময় আসামীর নিজ বাড়ী হতে আলোচ্য মামলার ঘটনার সহিত জড়িত অন্যমত আসামীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামী মামলার ঘটনার সাথে জড়িত আছে মর্মে স্বেচ্ছায় বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।

ব্রেকিং নিউজঃ