| |

কোহিনূর নিয়ে ত্রিদেশীয় দ্বন্দ্ব

আপডেটঃ 5:43 pm | February 09, 2016

Ad

কোহিনূর হীরাটি আসলে অনেক কথা বলে। বিশ্বের বড় হীরাগুলোর মধ্যে অন্যতম এই কোহিনূর। অনেক হাত ঘুরে শেষমেষ বর্তমানে হীরাটি বিট্রিশ রাজ পরিবারের কাছে আছে। ভারতের অনেক ব্যাক্তিত্ব বিভিন্ন সময় এই হীরাটি ফেরত আনার দাবি তুলেছিল। ১৯৯৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের সময় রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ ভারত সফরে আসলে একই দাবি পুনরায় উত্থাপন করা হয়। বর্তমানে এই বহুমূল্যবান হীরাটি উপনিবেশিক শোষণের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। তবে হীরাটি নিয়ে যে কেবল ভারতেরই মাথাব্যাথা তা কিন্তু নয়। বহুদিন ধরে পাকিস্তানও হীরাটি নিজেদের বলে দাবি করে আসছে।

সম্প্রতি পাকিস্তানের লাহোরে একটি নতুন রুল জারি করা হয়েছে। ভারত, পাকিস্তান এবং যুক্তরাজ্যের ত্রিমূখীদাবির জন্য মূলত এই রুল জারি। সোমবার লাহোর আদালতে এই ব্যাপারে একটি পিটিশন দাখিল করা হয়। তবে কোহিনূর নিয়ে এই প্রথম কোন মামলা দায়ের হয়নি। এর আগে ভারতও একই দাবিতে হাইকোর্টে একটি রুল জারি করে। ভারতের দাবি কোহিনূর হীরাটি তাদের কাছ থেকে বিট্রিশ সরকার জোর করে নিয়ে যায়। দেশটি আরো বলে, ১৮৪৯ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পঞ্জাব দখল করে। মূলত সেই সময় হিরাটি দেশ বদল হয়ে যায়।

কিন্তু পাকিস্তানের করা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের উকিল জাবেদ ইকবাল জাফরি বলেন, কোহিনূর মূলত পাকিস্তানের সম্পদ। ১৯৪৭ সালে যা পাকিস্তান থেকে হাতবদল হয়ে ভারতে যায় এবং সেখান থেকে পরে যায় বিট্রিশ রাজপরিবারে। বর্তমানে এই রত্নটি বিশ্বের সবচেয় বৃহৎ এবং দামি হীরার একটি। প্রতিদিন টাওয়ার অব লন্ডনে এর নিয়মিত প্রদর্শনী চলছে। রাজ্যভিষেকের সময় প্রথমবারের মতো এই কোহিনূর দিয়ে তৈরি মুকুটটি পরেছিলেন ব্রিটেনের রানী। ২০০২ সালে তার মৃত্যুর পর তার প্রতি সম্মান জানিয়ে হীরাটি তার কফিনের উপর রাখা হয়েছিল।

গত ডিসেম্বরে লাহোরের উচ্চ আদালত কোহিনূরের ওপর জারি করা পিটিশন বাতিল করে দেয়। কিন্তু পরে বিচারক জাফরি এই মামলাটি গ্রহন করে এবং নতুন করে এর শুনানি শুরু করবে বলে জানান। জাফরি জানান, তাদের এই মামলার ব্যাপারে ইসলামাবাদে নিযুক্ত বিট্রিশ হাই কমিশনারকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু মামলাটির মূল লক্ষ্য মূলত বিট্রিশ সরকারের কাছ থেকে জোরপূর্বক হীরাটি ফিরিয়ে নিয়ে আসা।

তবে পাকিস্তানের চেয়ে ভারত দীর্ঘদিন যাবৎ কোহিনূর নিজেদের বলে দাবি করে আসছিল। ভারতের দাবি এই মূল্যবান রত্নটি ব্রিটিশ সরকার মুঘল আমলে তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক কব্জা করে নেয়। ২০১০ সালে বিট্রিশ সরকার ডেভিড ক্যামেরন ভারত সফরে গেলে কোহিনূর ফিরে দেয়ার দাবি আবারো ওঠে। ভারতের একটি টিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে হীরাটি ফিরিয়ে দেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন ডেভিড ক্যামেরন। তিনি বলেন, কোহিনূর হলো লন্ডন জাদুঘরের সৌন্দর্য। জাদুঘর থেকে হীরাটি সরিয়ে নিলে পুরো জাদূঘরটিই শূন্য মনে হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ