| |

মৃত্যুঞ্জয় হাই স্কুলের দুটি পুরোনো সিন্দুক অনুমোদন ছাড়াই বিক্রি করেছেন প্রধান শিক্ষক রুকুন উদ্দিন

আপডেটঃ 7:35 pm | June 23, 2019

Ad

স্টাফ রিপোর্টার: ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী একটি স্কুলের নাম মৃত্যুঞ্জয় হাই স্কুল। স্কুলটি ১৯০১ সনে প্রতিষ্ঠিত হয়। বৃহত্তর ময়মনসিংহের এই স্কুলটি এতই নামি ছিল যে একসময় এখানে ভর্তি হওয়াটা ছিল গৌরবের বিষয়। ১৯৬০ এর দশকে এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন গোপী নাথ দত্ত। যাকে দেখলে ছাত্ররা যম দেখতো ভেবে পালিয়ে থাকতো। উনার হাতে এই স্কুলের সুনাম এতই বৃদ্ধি পেয়েছিল যা ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের ও ছিলনা। মৃত্যুঞ্জয় স্কুলের লাগোয়া ছিল রাধা সুন্দরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। ৬০এর দশকে এই স্কুলে ৫/৬ হাজার ছেলে মৃত্যুঞ্জয় হাই স্কুলে পড়তো। এখান থেকে শুধু প্রশাসনের উচ্চ পদেই নয়, অনেক কবি সাহিত্যিক হয়েছে। দেশ বিদেশে তাদের সুনামও আছে। গোপী নাথ দত্ত একজন শুধু শিক্ষকই ছিলেন না, ছিলেন অভিভাবক ও সততার প্রতীক। এই স্কুলটি প্রতিষ্ঠাতা স্বুলটি প্রতিষ্ঠার পর দুটি সিন্দুক ও কিনে দিয়ে ছিলেন। কারণ তখন তো আর এতো ব্যাংক ছিল না। সম্প্রতি এই সিন্দুক দুটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক রুকুন উদ্দিন কোন অনুমোদন ছাড়াই ২০ হাজার টাকায় গোলপুকুর পাড়ের রিপন ট্রেডার্সের কাছে গোপনে বিক্রি করে দেন। দুটি সিন্দুকের একটি ৪ ফিট উচ্চতা,পাশে আড়াই ফুট। আরেকটি দুই ফুট উচ্চ,পাশে দুই ফুট। এ ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষক রুকুনউদ্দিনকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, স্কুলের কোন কমিটি নেই। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম আপাতত সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সিন্দুক দুটি বিক্রয়ে স্কুলের শিক্ষকদের সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। তবে স্কুলের সভাপতি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে কিছু জানাননি। শত বর্ষের পুরোনো দুটি সিন্দুক নাকি নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। তাহলে একটু রং করে এটি স্কুলের মূল্যবান সম্পদ বিবেচনায় রেখে দিলে ভাল হতো কিনা জানতে চাইলে বলেন, নষ্ট হবার চেয়ে বিক্রি করে স্কুলের ব্রেঞ্চ সংকট মিটানোর জন্য সিন্দুক দুটি বিক্রি করেছি। কেন তিনি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানাননি জিজ্ঞেস করলে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন,জরুরী বিষয় হওয়ায় তাকে জানানো হয়নি। ১১৮ বৎসর সিন্দুক দুটি থাকতে পারলে,আর দুদিন অপেক্ষা করা কি উচিৎ ছিলনা,প্রশ্ন করলে তিনি নিজের কর্মের জাহির করে বলেন, আমি অষ্টধর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলাম,এসব ছোটখাটো ব্যাপারে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের অনুমতি প্রয়োজন নেই। তিনি গর্বের সাথে বলেন,ষ্টেডিয়ামের পিছনে আমার ৬তলা বাড়ী আছে,বললেই লোকে দেখিয়ে দেবে। আমার বাসায় আসবেন ফোন করে। ওখানে কথা বলবো। আমি কারো বাসায় যাইনা,যা বলার এখানে বলুন এবং রোজার সময় স্কুলের পুরোনো বই মাদ্রাসা কোয়াটারের একজন ভাঙ্গারী দোকানে বিক্রি করেছেন,সেটা সঠিক কি না, তিনি বলেন কোন বই বিক্রি করিনি,পুরোনো খাতা বিক্রি করেছি। একটি সুত্র জানায়, ২০১০সনে তিনি মৃত্যুঞ্জয় হাই স্কুলের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেবার পর বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের ছাত্রদের স্কুলের রেজিষ্ট্রেশন দেখিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবার সুযোগ করে দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, বোররচরের মুক্তিযোদ্ধা স্কুলের কিছু ছাত্রকে এখানে রেজিষ্ট্রেশন করে পরীক্ষা দেয়া হয়। কোন কোচিং সেন্টারের ছাত্রকে অবৈধভাবে পরীক্ষা দেয়ার কোন সুযোগ দেয়া হয়না। বর্তমানে স্কুলে কতজন ছাত্র ছাত্রী আছে জানতে চাইলে তিনি কেরানী ডেকে জানতে চান কতজন শিক্ষার্থী আছে। তখন কেরানী জানান, ৫শ। এরমধ্যে নবম শ্রেণীতে সাধারন শিক্ষার্থী আছেন ৬৯ জন এবং ভোকেশনাল শিক্ষার্থী আছেন ১১১জন। দশম শ্রেনীতে সাধারন শিক্ষার্থী ৭৯জন,ভোকেশনাল শিক্ষার্থী আছেন ১১২জন। ৫ম শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত ৫শ জনের মধ্যে নবম ও দশম শ্রেণীতেই আছন ৩৭০জন। ৫ম থেকে অষ্টম পর্যন্ত আছেন মাত্র ১৩০ জন। বিষয়টি বেক্ষাপ্পা কি না, জানতে চাইলে চুপ করে থাকেন। পরে বলেন,আমার বাসায় আসবেন,কথা হবে। আমি ২১ তারিখে প্রাইমারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত আছি। তার কাছে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নাম ও তার মোবাইল নং জানতে চাইলে বলেন,উনি নতুন এসেছেন নাম রফিকুল ইসলাম,তবে ফোন নং বা মোবাইল নং আমার জানা নেই। গত 18 জুন অনেক খোঁজ নিয়ে গোলপুকুর পাড় এলাকার রিপন ট্রেডার্সের দোকানে গিয়ে বিক্রি করা সিন্দুক দুটি পাওয়া যায়। এটা বিক্রি করবেন কিনা জানতে চাইলে আব্দুল মান্নানের ছেলে রিপন বলেন,এটি বিক্রি হয়ে গেছে। দুটি সিন্দুকের ছবি তোলতে চাইলে নানাভাবে আপত্তি জানান। একপর্যায়ে কথার ফাঁকে দুটি ছবি তুলে নিলে তারা ক্ষিপ্ত হন। আমার পরিচয় জানতে চান। পরিচয় দেয়ার আধাঘন্টার মধ্যে দোকানের মালিক সিন্দুক দুটি সরিয়ে ফেলেন। সুত্র জানায় গত ১৬জুন সন্ধ্যায় সিন্দুক দুটি স্কুলের পিয়ন ও সহকারী হেড মাষ্টারের উপস্থিতিতে একটি ঠেলাগাড়ী দিয়ে স্কুল থেকে গোলপুকুর পাড়ে ক্রেতা রিপন তাদের দোকানে নিয়ে যান। ঐতিয্যবাহী মৃত্যুঞ্জয় হাই স্কুলের শত বর্ষের পুরোনো দুটি সিন্দুক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের অনুমতি ছাড়া বিক্রি করা প্রসঙ্গে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাকে সিন্দুক বিক্রির কথা জানানো হয়নি। আমার কাছ থেকে অনুমোদন ও নেয়া হয়নি। প্রধান শিক্ষক এভাবে স্কুলের দুটি সিন্দুক গোপনে বিক্রি করতে পারেন না। আমি তদন্ত করে দেখছি। তাছাড়া আমার নাম ও মোবাইল নম্বর তার অজানা নয়। কেন আপনাকে দিলেন না সেটা আমি দেখবো। ময়মনসিংহের ঐতিয্যবাহী মৃত্যুঞ্জয় হাই স্কুলের দুটি পুরোনো অথচ দামী সিন্দুক রং করে রেখে দিলে একটি ঐতিয্য হিসেবে চিহ্নিত হতো। কোন অসৎ উদ্দেশ্য ছাড়া অনুমতি না নিয়ে বিক্রি করে দেয়ায় স্কুলের শত বর্ষের একটি ঐতিয্য হারালো এবং বিক্রির টাকা নয় ছয়এর নেপথ্যে বিশেষ কারন থাকতে পারে। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন,সেটাই কাম্য।

ব্রেকিং নিউজঃ