| |

তিন দিবসকে ঘিরে মহাব্যস্ত যশোরের ফুল চাষিরা

আপডেটঃ 6:54 pm | February 09, 2016

Ad

আলোকিত ময়মনসিংহঃ  বসন্ত বাতাসে সইগো, বসন্ত বাতাসে/ বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ আমার বাড়ি আসে/ সইগো বসন্ত বাতাসে …`। এবারের বসন্ত উৎসব থেকে শুরু করে তিনটি দিবসে সারাদেশে এই ফুলের সুবাস ছড়িয়ে দেবেন গদখালির ফুলচাষিরা। বসন্ত বরণ, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস এবং মহান ভাষা দিবসে সারাদেশের ফুলের চাহিদা মেটাতে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন যশোরের এই `ফুলের রাজ্যে`র চাষিরা।
গত বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতায় ক্ষতিগ্রস্ত চাষি ও ব্যবসায়ীরা এবার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার স্বপ্ন দেখছেন। তিন দিবসে অন্তত ১৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রির প্রত্যাশা তাদের।
গদখালির ফুল চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছর রাজনৈতিক অস্থিরতা, হরতাল-অবরোধের কারণে ফুলের বাজার মারাত্মক ক্ষতির শিকার হয়েছে। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ক্ষেত আর বাজারে পচেছে লাখ লাখ টাকার ফুল। যাও বিক্রি হয়েছে তা পানির দরে। কিন্তু সে পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়ায় বিগত থার্টিফার্স্ট ও ইংরেজি নববর্ষকে ঘিরে ফুলের ভালো বেচাকেনা হয়েছে।

এর ধারাবাহিকতায় এবার ফাল্গুন উৎসব, বিশ্ব ভালবাসা দিবস ও ২১ ফেব্রুয়ারি মহান ভাষা দিবসে ভালো বেচাকেনার স্বপ্ন চাষি ও ব্যবসায়ীদের। পাশাপাশি এবার আবহাওয়াও অনুকূল, ফুলের ফলনও হয়েছে বাম্পার। তাই মুখে হাসি এখানকার ফুলচাষিদের।
যশোরের ফুলের রাজ্য গদখালি এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ জুড়ে গোলাপ, জারবেরা, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, হলুদ গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকা ফুল যেন এক স্বপ্নের পরিবেশ তৈরি করেছে। আর কদিন পরেই বসন্ত উৎসব ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। তাই ফুলক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষিরা।

চাষিদের মতে, এই তিনটি উৎসবে সবচেয়ে বেশি ফুল বিক্রি হয়। তাই সারা বছর তারা এই সময়ের জন্য প্রস্তুতি নেন ও অপেক্ষা করেন।
হাড়িয়া নিমতলা গ্রামের ফুল চাষি নাজির হোসেন জানান, তিনি এক বিঘা গোলাপ ও দুই বিঘা গ্লাডিওলাস ফুলের আবাদ করেছেন। বর্তমানে গোলাপ তিন টাকা ও গ্লাডিওলাস ৩/৪ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে। পহেলা ফাল্গুনের আগে ফুলের দাম আরো সামান্য বাড়তে পারে।
তিনি আরো জানান, এক বিঘা গোলাপ রোপনে ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়। চার হাজার চারার দাম ৪০ হাজার টাকা। আর রোপনসহ অন্যান্য খরচ আরো ৪০ হাজার টাকা। এছাড়াও পরিচর্যার খরচ রয়েছে বাড়তি। একবার রোপনে ৬/৭ বছর পর্যন্ত গোলাপ ফুল পাওয়া যায়।পানিসারা গ্রামের ফুল চাষি ইসমাইল হোসেন জানান, তিনি প্রায় চার বিঘা জমিতে জারবেরা, চন্দ্রমল্লিকা, গ্লাডিওলাস ও রজনীগন্ধা ফুল চাষ করেছেন। বসন্ত বরণ ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে ফুল সরবরাহ করতে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন তিনি। তবে তিনি আরো জানান, বসন্ত বরণ ও ভালবাসা দিবসের এই সময় এসএসসি ও অনার্সের পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষা থাকলে সাধারণত পারিবারিক অনুষ্ঠান স্থগিত থাকে। এতে ফুলের চাহিদা কমে যায়। তবে এবার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভালো থাকায় ভালো দামের প্রত্যাশা তার।

Jessore-Folwer420160209103645
স্থানীয় আড়সিংড়ি গ্রামের ক্ষুদ্র পাইকারী ব্যবসায়ী শাহাদৎ হোসেন বলেন, সামনে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে ফুল বিক্রি বেশি হবে। বাজারে জারবেরা, গোলাপ, রজনীগন্ধ ফুলের চাহিদা বেশি। কৃষকরাও দাম ভালো পাবে।
কৃষকরা আরো জানান, ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে গদখালির চাষিরা বসন্ত বরণ, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ফুল বাজারে সরবরাহ শুরু করবে। এ কদিন সতেজ ফুল বাজারে তুলতে কৃষকরা দিনরাত পরিশ্রম করেছেন ক্ষেতে। এবারের মৌসুমে ১৫/২০ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হবে বলেও প্রত্যাশা ফুলচাষিদের।

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আবদুর রহিম জানান, গদখালি অঞ্চলের প্রায় পাঁচ হাজার কৃষক দেড় হাজার হেক্টর জমিতে ফুলের আবাদ করেছেন। এবারের বসন্ত বরণ, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে গদখালি এলাকার কৃষকরা ১৫/২০ কোটি টাকার ফুল সরবরাহ করবে। গত বছরের মতো অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি নেই। এবারের পরিস্থিতি ভালো। তাই কৃষকরা ফুলের ভালো দাম পাবে বলেও আশা করছেন তিনি।
যশোরের জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর জানান, যশোরের গদখালির ফুল সারাদেশে সরবরাহ করা হয়। ফুল সহজে দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছাতে রেলের বগি বরাদ্দের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি ফুলচাষিদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফুল চাষিদের ব্যাংক ঋণ সহজ করতে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

ব্রেকিং নিউজঃ