| |

আর একটি শাওনকেও যেন চলে যেতে না হয়

আপডেটঃ 7:02 pm | February 09, 2016

Ad

বিসিএস প্রিলিমিনারী হয়ে গেল, বছরশেষে জেএসসি, পিএসসিও সমাপ্ত হলো। কড়া নাড়ছে এসএসসি। একেকটি বোর্ড পরীক্ষার দিন আসে, শ্বাসরোধ করে পরদিন পত্রিকা খুলি। নাহ, আমার সন্তান, নিজের সহোদর- কেউই এই পরীক্ষাগুলি দিচ্ছেনা। উদ্বেগ কেবল একটি জায়গায়- প্রশ্নপত্র ফাঁস হলো কি?
খুব কষ্টকর হলেও সত্য- এই অবিশ্বাস্য অন্যায় অনিয়মটাই নিয়ম হয়ে যাচ্ছিল, তাই আশংকাটা খুবই যৌক্তিক। এমনকি বিগত বছর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে, আসামী ধরা পড়েছে , দোষ প্রমাণিত হয়েছে;  এরপরেও কোনো বিচার তো দূরের কথা, সেই কলঙ্কজনক পরীক্ষাও বাতিল হয়নি। উপরন্তু নির্বিঘ্নে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র দেখে পড়ে পরীক্ষা দিয়ে পাস করা শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়ে ক্লাস শুরু করে দিয়েছে! এক রাতের মধ্যে ৮৭ হাজার শিক্ষার্থীর ১৮ বছরের জন্ম- জনমের স্বপ্ন, ৮৭ হাজার বাবা- মায়ের স্বপ্ন, ৮৭ হাজার পরিবারের স্বপ্ন লুট হয়ে গেল- খুন হয়ে গেল তাঁদের আস্থার, পরম আত্মার! রাষ্ট্রযন্ত্রের ভ্রুক্ষেপই হলো না !
অবিশ্বাস্য এক দুঃস্বপ্নের মত! এবং এর চেয়েও বড় দুঃস্বপ্ন হলো ২০১৫ তে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় পাশ করা শিক্ষার্থীরা আজীবন এই কলঙ্ক মাথায় বয়ে বেড়াবে। তাদের মেডিকেল ব্যাচের নাম শুনলেই আজীবন সবাই অবিশ্বাস আর ঘৃণায় কুঁকড়ে যাবে। যারা এমনিতেই পাশ করে যেত তারাও নিজেদের নির্দোষ প্রমাণে, আস্থার জায়গাটা তৈরিতে ব্যর্থ হবে।
এসবের ধারাবাহিকতায় স্বাভাবিকভাবেই প্রতিটি বোর্ড পরীক্ষায় এর পুনরাবৃত্তির ভয়ানক আশঙ্কায় থাকি । একেকটা পরীক্ষা নির্বিঘ্নে পার হয়, রাতের চেয়েও অন্ধকার গ্রহণগ্রস্থ দিনগুলির গ্রহণ কেটে একটু একটু করে যেন আশার রোদ উঁকি দেয়। কারণ একটাই, আশায় বাঁচে চাষা।  আর এই আশঙ্কার অন্যতম কারণ প্রশাসনের উপযুক্ত পদক্ষেপের অভাব কিংবা দুষ্কৃতিকারীর  তৎপরতা ছাপিয়ে অনেকগুণ বেশি এই কারণে যে ক্ষেত্রবিশেষে অনেক অভিভাবক এবং শিক্ষকমণ্ডলীও শিক্ষার্থীদের ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র জোগাড় করে দিতে বিপুল উদ্দীপনায় ঝাঁপিয়ে পড়েন। কারণ একটাই- ‘মুখরক্ষা’র রেজাল্ট।
অন্যদিকে গেল বছর ঢালাওভাবে নম্বর দিয়ে পরীক্ষায় উৎরে দেবার চাপ শিথিল করার ফলশ্রুতিতেই হয়তো এইচএসসি’র রেজাল্টে জিপি-ফাইভের হার কমে যায়- যা দেখেও আবার খুব আতংকিত হয়েছিলাম যে কখন কোন আত্মাহুতির দুঃসংবাদ এসে পৌঁছোয়! কারণ- ২০১৫ এসএসসিতে এ-প্লাস না পেয়ে আত্মাহুতি দেয়া দুঃখী ছেলেটা- “আরাফাত শাওন” ।
ছেলেটার ডায়েরির পাতা প্রবলভাবে নজরে আনার জন্য ধন্যবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে।
কিন্তু, মনঃপুত ফলাফল না পেয়ে এমন অকালপ্রয়াণ ফি-বছরই ঘটছে। গণভবনে বেড়ে উঠেছি, সেখানেও এমনিভাবে চলে যাওয়া একজনের কথা মনে আছে। সবচেয়ে কষ্টকর ছিল যে অপঘাতে মৃত্যু বলে গণভবনের সেই ছেলেটি জানাজাও পায়নি। শাওন ছেলেটার জানাজা হয়েছিলো কিনা কে জানে!
তবে ঘটনাটিতে শাওনের বাবা-মাকে ধন্যবাদ যে ছেলের “সুইসাইড নোট” টা অন্তত জনসমক্ষে এনে অগণিত বাবা-মাকে শুধরে নেবার একটা সুযোগ দিয়েছেন।
সব শিশু মানসিকভাবে সমান পরিণত হয় না। অন্যদিকে আত্মহত্যা করতেও প্রয়োজন প্রচণ্ড সাহসের কিংবা নিতান্তই অসুস্থ , ভারসাম্যহীন মানসিক অবস্থার । জীবন শুকিয়ে গেলেও মানুষ টেনে বেড়ায়- সবার কাছে অপাঙক্তেয় হয়েও সে বাঁচতে চায়। কারণ জীবন একটাই! অনেক মায়া!
শাওনের সেই মায়াটুকুও ছিল না- শুধু ছিল পরকালে অনন্তকাল নরকবাসের ভয়!! কি মর্মান্তিক!!
কবিগুরুর চরণ, “কাঁঠাল গাছকে তুমি যতই পেটাও সে কোনদিনই আম ফলাতে পারবে না। উপরন্ত অধিক মাত্রায় পেটানোর ফলে তার কাঁঠাল ফলানোর ক্ষমতাও লোপ পাবে!”
আমাদের দেশে দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত শেখানো হয়, “তুমি কিছুতেই তোমার মত হতে পারবে না, তোমাকে অবশ্যই অন্য কারো মতই হতে হবে!”
বাবা মা বলবেন “তুমি অমুক আংকেলের মেয়ে তমুকের মত হতে পারনা কেন? তোমাকে ওর মতই হতে হবে।”
ভাবুন তো, আপনি নিজে কি “অমুক আংকেল/আন্টির মতো?” কাঁঠাল গাছে কাঁঠাল না হয়ে আম কিভাবে হবে? কাজেই সন্তানকে কাঁঠালটাই ভালভাবে ফলাতে উদ্বুদ্ধ করুন।
উন্নত দেশের আইনে সন্তান সমাজের সম্পদ, বাবা-মা`র মাধ্যমে পৃথিবীতে আসে। সেজন্যেই সন্তান কোনোভাবে উৎপীড়িত হলে কোর্টে গিয়ে বাবা-মাকে সন্তান পালনের যোগ্যতা প্রমাণ করে আসতে হয়। কারণ পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই ‘জনক-জননীর ’ ভূমিকার কোনো পূর্ব যোগ্যতাই যাচাই হয় না!
জাপানের স্কুলে শিশু-শ্রেণিতে শেখানো গানের লাইন “প্রতিটি শিশুই একটি ফুল, তার স্বতন্ত্র মহিমায় ভাস্বর। গোলাপকে যেমন রজনীগন্ধার সাথে তুলনা করা যাবে না, তেমনি বেলীর সাথে শাপলার তুলনা চলে না । প্রতিটি শিশুকেই তার নিজস্ব রূপ, রস, গন্ধের সম্পূর্ণতায় পূর্ণ প্রস্ফুটিত হতে দাও!”
এটা শুধু বাবা-মা নয়, প্রশাসন-শিক্ষকদের জন্যও সর্বত্র টাঙ্গিয়ে দেয়া উচিৎ আপ্তবাক্য হিসেবে। কারণ, আমাদের একজন শ্রেণি-শিক্ষকও শিশুক্লাসে শুরুর দিনগুলি থেকেই পাঠ্যবইয়ে দক্ষতায়, পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে শ্রেণি বিভাজন করে দেন।
সামাজিক চাপও এর অন্যতম অনুঘটক! তাই অভিভাবকেরা যেদিন পারিপার্শ্বিক চাপ,“ ভাবী, আমার ছেলে তো গোল্ডেন এ-প্লাস পেয়েছে, এম.আই.টি তে জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে যাবে। আপনার ছেলে?” এজাতীয় প্রশ্নের মুখে boldly বলতে পারবে “আমার ছেলে খেলোয়াড় হতে চায়, তাই ওকে ক্রিকেট ক্লাবে /বি.কে.এস.পি তে দিয়েছি । তার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফল খুব আহামরি হয়নি। কিন্তু আমরা খুশি সে তার চাওয়ামতন জীবন-যাপন করতে পারছে, আমাদের চাওয়ামত জীবন নয়; নিজের স্বপ্নপূরণ করতে চেষ্টা করে যাচ্ছে, আমাদের স্বপ্ন পূরণে ছুটতে নয়!”
উল্লেখ্য,এখন আমাদের দেশের খেলোয়াড়দের জন্য বরাদ্দকৃ্ত সুবিধাদীতে সাচ্ছন্দ্যে তার গোটা জীবন চালিয়ে নেয়া যায়। সবাই জীবিকার জন্য শুধু ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হবার লক্ষ্য বেছে নিলে এতো হাজার হাজার নিত্য প্রয়োজনীয় পেশায় কে কাজ করবে?
ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রে ডাক্তার হয়ে সার্টিফিকেট নিয়ে মানুষ মারার চেয়ে তার যোগ্যতায় যেকোনো আর দশটা পেশার পেশাজীবী হওয়া কি অনেক ভাল না? আর ভালবাসা এবং নিষ্ঠার সাথে যেকোনো কাজ করলে কারো জীবনই থেমে থাকে না- বরং ভাললাগার কাজে তার জীবনটা প্রাণ পায়।
“প্রাণ থাকলেই প্রাণি হয়, কিন্ত মন না থাকলে মানুষ হয় না।”
আপনার বাচ্চাটাকে মানুষের জীবন নিয়ে বাঁচতে দিন। প্রাণির মত প্রাণধারণ নয়।  ‘নিজে পারিনি, তাই সন্তান আমার স্বপ্নগুলো পূরণ করুক’ ভাবনাগুলি পালটে বলুন ‘আমি পূর্বপুরুষদের চাওয়া জীবন-যাপন করে গেছি। কিন্তু আমার সন্তানের যাপিত জীবন হোক তার চাওয়ামত’-ব্যস, সেদিনই সকাল হতে শুরু হবে।
বলা হয় যে, উপদেশ বাক্য দেয়া যায় নিজে কাজে প্রমাণ করেই । তাই নিজের অভিজ্ঞতাই প্রমাণস্বরূপ তুলে ধরছি। আমার ছোট ছেলেটার পড়তে ভাল লাগতোনা। দেশের প্রথম সারির ইংরেজি স্কুলে বড় ভাইয়ের পদাঙ্ক অনুসরণে শিশুক্লাসে ভর্তি হয়ে শিক্ষা জীবনের হাতেখড়ি। শ্রেণি শিক্ষক কোন ভুল হলেই চোখ রাঙ্গাতেন, “তোমার বড় ভাই আমার সবচেয়ে প্রিয় ছাত্র ছিল, তুমি এমন গাধা কেন?” ক’দিনেই স্কুলে যাবার আগ্রহ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল ওর। সেইসাথে স্বাভাবিক নিয়মেই একমাত্র বড় ভাইয়ের প্রতি সামান্য বিদ্বেষও।
জাপানে এলে জাপানিজ স্কুলে ভর্তি হলো। স্কুলে বিভিন্ন খেলার ক্লাব আছে । বড় ভাই মনে মনে তার অনুকরণীয়ই ছিল। ভাইকে অনুসরণ করেই বাস্কেটবল ক্লাবে যোগ দিল। ২য় বছরেই শহরের ২য় সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার অর্জন করলো, যার কৃতিত্ব পুরোভাগ তার নিজের। আমরা শুধু তার পছন্দের জীবন যাপন করতে দিয়েছি, সম্যক অনুঘটক হয়ে থেকেছি।
প্রাথমিকের স্তর পেরিয়ে জুনিয়র স্কুলে বাস্কেট বলে সেরা স্কুলে তাকে ভর্তি করতে আমাদের বাসাবদল, এলাকাবদল সহ অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়েছে, প্রচুর অর্থ খসে গেছে যা আমাদের জন্য খুবই কষ্টসাধ্য ছিল। কষ্ট মেনে নিয়েছি, কারণ, ছেলে নিজেকে দ্বিগুণ প্রমাণ করে ১ বছর ইউনিফর্ম ছাড়া সাইড লাইনে পরে থেকেও শেষোব্দি নিজেকে সেরা প্রমাণ করেছে। সুতরাং, তাকে তার স্বপ্ন ছুঁতে এই সিঁড়িটুকু এগিয়ে দিতেই হবে। এবং বাবা-মা তার জন্য যে ত্যাগটুকু করছে সেই উপলব্ধি থেকে পড়ালেখাতেও কোন অবহেলা করতে তার বিবেকে বাঁধবেই।
শ্রদ্ধা, ভালবাসা দুই তরফাই হয়। ‘শাসন করা তারই সাজে সোহাগ করে যে’। তাই সন্তানকে যেমন ভাল মন্দ, বেড়ে ওঠার সময়ের শারীরিক মানসিক পরিবর্তন সম্পর্কে ব্যাখ্যা-সতর্কতা এবং দ্রুতলয়ের বিশ্বায়নের যুগে ইন্টারনেটের বিভিন্ন নেতিবাচক দিক সম্পর্কে সাবধানতা, চলার পথে প্রতিবন্ধকতা ডিঙ্গুতে শিখিয়ে দেয়া অত্যাবশ্যক। তা না হলে তা বন্দুকের ভয়াবহতা না শিখিয়েই শিশুর হাতে রিভলবার ধরিয়ে দেবার মতই তা বিপদজনক হয়ে উঠবে।
তেমনি তার জন্য আপনাদের আত্মত্যাগটাও সুন্দর করে বুঝিয়ে দিতে হবে যেন সে বুঝে নেয় সন্তান হলেই কিংবা বাবার অঢেল থাকলেও কোনকিছু এমনি এমনি প্রাপ্য হয়ে যায় না এবং তা বিপথে অপচয় করার অধিকার কারোই জন্মায় না ।
এই ভুল শিক্ষার ভয়ংকর প্রমাণ হলো সম্প্রতি সাবেক সাংসদ ভ্রাতুষ্পুত্র ১৬ বছরের ফারিজ আহমেদ কিশোরটির অপকর্ম এবং তা ধামাচাপা দিতে প্রভাবশালী পিতার পদক্ষেপ! হয়তো তাদের অলক্ষেই জন্ম নেয়া এক বিষবৃক্ষের চারায় সজ্ঞানে আলো-জল প্রভাবক ঢেলে বিশাল এক বিষাক্ত মহীরুহু গড়ার সোপানে ঠেলে দিলেন নিজ সন্তানকে !
তাই বলে অবশ্যই সন্তানের জন্য প্রয়োজনীয় খরচে কষ্ট হলেও ‘তোমার জন্য কাড়ি কাড়ি পয়সা যাচ্ছে’ নিয়মিত এ জাতীয় খোঁটা-মারধোর হিতে বিপরীতই ঘটাবে। তার ভেতরে সামাজিক প্রতিযোগিতা এবং খরচান্ত পড়ালেখার চাহিদামাফিক ফলাফলের প্রত্যাশা দ্বিমুখী চাপ তৈরি করবে। যার প্রভাবেই ঘটে এমন অকালে আত্মাহুতি।
আদতে, বিশ্বের ২য় বাসের অযোগ্য শহরে থেকে সারাদিনের সমস্ত অনিয়ম, যন্ত্রণা সামলাতে অক্ষম ক্লান্ত-বিধ্বস্ত শরীর-মন নিয়ে দিনশেষে ঘরে ফিরে বাচ্চাকে কার্টুন-কম্পিউটার গেমসের সামনে বসে থাকতে দেখলে মেজাজ সপ্তমে চড়েই যায়। বাচ্চাকে বকা-ঝকা দিয়ে সেইসাথে দু’চারটা অপ্রাসঙ্গিক বোনাস ঝাড়ি-চাটি দিয়েই আমরা হয়তো সারাদিনের ঝাল মেটাই। কিন্তু, এই একই শহরে একই অরাজক নিয়মের বেড়াজালে আমাদের বাচ্চার দিনটাও কি সারাদিন খুব সুখের ছিল? কি কি কষ্টকর, অবমাননাকর কিংবা নিষিদ্ধ ঘটনা ঘটে গেছে আজকে তার জীবনে- স্কুলে সহপাঠী/শিক্ষক/কর্মচারী/গৃহশিক্ষক, ধর্মশিক্ষকের কাছে, কিংবা বাসার তার দায়িত্বে নিয়োজিত গৃহকর্মীর- আত্মীয়ের কাছে?
দেশে থাকাকালীন একজন কর্মজীবী মা হিসেবে এসব বহুমুখি তিক্ত অভিজ্ঞতার অনেক কিছুই জুটেছিল।  যদ্যপি প্রতিপালকের দয়ায় শ্রদ্ধেয় শ্বশুর-শ্বাশুড়ী বরাবর সঙ্গে ছিলেন বলেই তার মাত্রা তেমন গুরুতর হয়ে উঠতে পারেনি। কিন্তু, যে কারো ক্ষেত্রেই এমন অনেক কিছুই মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে যার দ্রুত পদক্ষেপের অভাবে শিশুর সমস্ত পৃথিবীর প্রতি, বেঁচে থাকার প্রতি আগ্রহ নষ্ট হয়ে যেতে পারে, মনে স্থায়ী দাগ কেটে যেতে পারে। কিংবা তীব্র মানসিক বৈকল্য ঘটাতে পারে যা এখন আপাতদৃষ্টিতে আপনি টের না পেলেও বেড়ে ওঠার সাথে সাথে সুপ্ত জখম যখন ক্যান্সারে রূপান্তরিত হবে তখন অনেক দেরি হয়ে যাবে।
প্রশাসনের কাছেও সবিনয় নিবেদন, পাশের হার জাতিসংঘের এমডিজি ( সহস্রাব্ধ উন্নয়ন লক্ষ্য) এর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা নয়- পরিপূর্ণভাবে জানার মাপকাঠিতেই হোক। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে জ্ঞানদানের প্রক্রিয়ার গোড়ায় জল ঢালুন। ঢালাও ভাবে পাশ কিংবা নম্বর দেবার নিয়ম আর প্রশপত্র ফাঁস রুখতে পদক্ষেপহীনতার পরোক্ষ প্রশ্রয় গোটা প্রজন্ম এবং দেশের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দেবে,  যাতে বোধকরি রাষ্ট্রযন্ত্র সম্প্রতি লাগাম টেনে ধরেছে বলেই আপাতভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে । এভাবেই সহস্রাব্ধ লক্ষ্য অর্জনে প্রাপ্ত সুবিধার লোভে  শর্টকাট পন্থা অবলম্বন না করে প্রজন্ম রক্ষা করে দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষা করুন । হয়তো সময় বেশি লাগবে, কষ্ট সবাই মিলে করবো- কিন্তু দেশেই অযুত নিযুত যোগ্য ছেলে মেয়ে তৈরি হবে যারা এমন দেশ তৈরি করবে যা অন্য দেশের রোল মডেল হবে, অন্য দেশকেই অনুদান দিতে সক্ষম হবে ।
অভিভাবকেরাও অনুগ্রহ পূর্বক “পাছে লোকে কিছু বলে” তে কান দেবেন না। বন্ধু-স্বজন তালিকাতেই  রাখবেন না বিকারগ্রস্থ কিংবা সদাপ্রতিযোগী মানসিকতার যান্ত্রিক কূপমন্ডুক মানুষদের। আপনার সংসার, সন্তানই আপনার সমাজ। আর কেউ না।
সুতরাং, আপনার শিশুকে এ-প্লাস পেতে নয়- জ্ঞানার্জনে উদ্বুদ্ধ করুন। আগে মানুষ হোক, ফের কোন পেশাজীবী। স্বপ্ন দেখতে শেখান, স্বপ্নপূরণ করতে দিতে জানুন । ভুল-ভাল হয়ে গেলে বুকে জড়িয়ে বলুন, ‘এবারের প্রস্তুতি পরিণত ছিল না। আবার স্বপ্ন দেখো, স্বপ্ন পূরণে ঝাঁপিয়ে পড়ো। আমরা তো আছিই!’
কবি সাহিত্যিক কাহলিল জিবরানের ভাষায় ,
“ ..তুমি তাদের দিতে পারো তোমার ভালোবাসা,
কিন্তু দিতে পারো না তোমার চিন্তা, কারণ তাদের নিজেদের চিন্তা আছে।
তুমি তাদের শরীরকে বাসগৃহ জোগাতে পারো, কিন্তু তাদের আত্মাকে নয়।
কারণ তাদের আত্মা বাস করে ভবিষ্যতের ঘরে।
যেখানে তুমি যেতে পারো না, এমনকি তোমার স্বপ্নের মধ্যেও নয়।”

ব্রেকিং নিউজঃ