| |

গৌরীপুরবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প: নাজিম উদ্দিন

আপডেটঃ ১১:১৫ অপরাহ্ণ | জুন ২৮, ২০১৯

Ad

মাত্র দেড় বছরে পাল্টে গেছে গৌরীপুরের রাস্তা-ঘাটের চিত্র। ৯০ শতাংশ বাড়িতে পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎ। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটি ইউনিয়ন (অচিন্তপুর, মাওহা ও সহনাটি) গৌরীপুরে আওয়ামীলীগের ভোটব্যাংক বলে খ্যাত।

সেই পূর্বাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবী জলবুরুঙ্গা নদীর সেতু, মানুষের সেই স্বপ্ন পূরণ হলো প্রবীণ রাজনীতিবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ এমপির আন্তরিক প্রচেষ্ঠায়। ১০০ মিটার দীর্ঘ এ সেতু নির্মাণে ব্যয় হবে ৪ কোটি ৭০ লক্ষ ৭৯ হাজার ৩৮২ টাকা।

এ ছাড়াও দূর্যোগ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মিত হচ্ছে আরো কয়েকটি ব্রীজ ও কালভার্ট। আরো উন্নয়ন আর আধুনিক গৌরীপুর গড়ার লক্ষ্যে মেঘা প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দেশের সার্বিক উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে পড়া জনপদ গৌরীপুরে উন্নয়নের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প বরাদ্দ দিলেন। দুইধাপে এ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ এমপি জানান- এটা গৌরীপুরবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার। বরাবরের মতো আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গৌরীপুরে নৌকা বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবে, এটাই বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যাশা। ইতোমধ্যে ৪৮ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয়ে বাস্তবায়নের অপেক্ষায়, আগামী জুনের পূর্বেই বাকী ৫২ কোটি টাকার প্রকল্পের অনুমোদনের প্রত্যাশার কথা জানালেন তিনি। এ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন শেষ হলে স্বপ্নের গৌরীপুর উপহার পাবে সাধারণ মানুষ।

গৌরীপুর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়- বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ ২০১৬ সালের উপ-নির্বাচনে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর ১৭ কিলোমিটার নতুন পাকা রাস্তা, আরো ১৩ কি.মি রাস্তা নির্মানাধীন, মেরামত করা হয়েছে প্রায় ৩৮ কিলোমিটার রাস্তা, ৪ তলা বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, দরিদ্র মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৪টি বাড়ি, প্রায় ২ হাজার পরিবারকে বিনামূল্যে সৌর সোলার বিতরণসহ গ্রামীণ বাজারগুলোকে সৌর বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত করণ, ৪ টি প্রাইমারি স্কুলের নতুন ভবন নির্মান, ১০টি প্রাইমারি স্কুলের ভবন মেরামত, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস একতলা থেকে দ্বিতীয় তলায় উন্নীত করণ, ৬টি প্রাইমারি স্কুলের গেইটসহ সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে।

তাছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স্রের জন্য একটি আধুনিকমানের এ্যাম্বুল্যান্সসহ জনস্থাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর কর্তৃক করা হয়েছে আরো উল্লেখযোগ্য কিছু কাজ। গৌরীপুর রেলস্টেশনে (জং) আধুনিক সুযোগ সুবিধাসহ ভবন নির্মাণের কাজ শীঘ্র শুরু হবে এ ছাড়াও টয়লেট-বাথরুম নির্মাণের জন্য ৬০ লাখ টাকার বিশেষ বরাদ্দ প্রদান। গৃহহীনদের জন্য ১ শত ২৯টি বাড়ি, গৌরীপুর স্টেডিয়ামের সম্প্রসারণ ভবন নির্মাণ। প্রায় সাড়ে তিন হাজার বেকার যুবক ও যুবনারীকে অস্থায়ী ভিত্তিতে ন্যাশনাল সার্ভিসের মাধ্যমে কর্মসংস্থান দেওয়া হয় (যুবক ১,৫৭৭ ও যুবনারী ১,৭২৪)।

এছাড়াও ৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৪ তলা ভবনের জন্য ৭৫ লাখ টাকা করে বরাদ্ধ দান, ৯াট মসজিদে ৫ লাখ করে অনুদান, পৌরসভায় মুক্তিযোদ্ধা কবরস্থানের উন্নয়নের জন্য ৫ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করা হয়। জানা যায়- এমপি মহোদয় বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে ঘুরে প্রকল্পের জন্য সুপারিশ করে কাজ আদায় করেন, যে কারণে এতো অল্প সময়ে উল্লেখিত কাজগুলো করা সম্ভব হয়েছে।

সাম্প্রতিক অবকাঠামো উন্নয়নের (পাকা সড়ক) অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে- দক্ষিণ বিশুরা- ঈশ্বরগঞ্জ সড়কের গৌরীপুর অংশ সাড়ে ৮ কি.মি, বেকুরহাটি-সোহাগী সড়ক উন্নয়ন সাড়ে ৯ কি.মি., ভাংনামারী ইউনিয়নে আনন্দগঞ্জ, রায়গঞ্জ, বয়রা, ভাংনামারি ও নাওভাঙ্গা ৬.৬ কি.মি, রামগোপালপুর ইউনিয়নে ধুরুয়া, তেরশিরা, জামতলা ও পুম্বাইল ৫.২ কি.মি, , মোজাহরদি-শালিহর ২.৪ কি.মি, অচিন্তপুর- মহিষাটি বাজার ২ কি.মি, মাওহা-পালুহাটি ২ কি.মি, সিধলা-হাসনপুর ২ কি.মি, গৌরীপুর-বোকাইনগর ১.২ কি.মি, শ্যামগঞ্জ- লামাপাড়া ৪ কি.মি, ডৌহাখলা-রামগোপালপুর ২ কি.মি, বোকাইনগর – বাংলা বাজার ২ কি.মি, নাপ্তের আলগী-ভোলার আলগী বাজার, রামগোপালপুর- পশ্চিমপাড়া, ননী খাল- বালিজুরী, মাইজহাজি বাজার – ঈশ্বরগঞ্জ, বীর আহাম্মদপুর- রাইশিমুল, ধোপাজাঙ্গালিয়া- শালিয়াপাড়া, বড়ইতলা- গয়েশকিলা ১ কি.মি করে সড়ক, গোবিন্দপুর- শ্যামগঞ্জ সড়ক ৩ কি. মি. ও তাতিরপায়া মোড় থেকে সোমনপুর মোড় পর্যন্ত ১.২ কিলোমিটার সড়কের পাকা করণের কাজ শীঘ্রই আরম্ব হবে।

গৌরীপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের দীর্ঘ দুই যুগের সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক বিধু ভূষন দাস বলেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ এমপি মহোদয় নির্বাচিত হওয়ার মাত্র দেড় বছরে অভাবনীয় উন্নয়ন করেছেন। যা ইতিপূর্বে কখনো ঘটেনি।

গৌরীপুরের বেশিরভাগ সড়ক এখন পাকা করণের আওতায় আছে, বিদ্যুতেও অসামান্য সাফল্য এসেছে। নিয়মিত তিনি পাড়ায় পাড়ায় উঠান বৈঠক করছেন। আমাদের দীঢ় বিশ্বাস আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পেলে বিজয় ও উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা অব্যহত থাকবে।