| |

জিএম কাদেরের কান্না: আলোচনায় ‘এরশাদের কবর’, ৫ কোটি টাকার ঘোষণা

আপডেটঃ ৮:৪০ অপরাহ্ণ | জুলাই ০৭, ২০১৯

Ad

জিএম কাদেরের কান্না – গুরুতর অসুস্থ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন। গতকাল বুধবার দুপুর ১টায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের জানান, এরশাদের শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে। সকালে তিনি চোখ খুলেছেন, হাত নেড়েছেন।

এদিন বিকালেই দলের যৌথসভায় এরশাদের কবর কোথায় হবে তা নিয়ে আলোচনা করেন শীর্ষ নেতারা। সভায় উপস্থিত দুই নেতা গণমাধ্যমকে জানান, কেউ কেউ কবরের স্থান দান করতে চাইলে বিষয়টি এক পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় রূপ নেয়। গতকাল বিকালে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও এমপিদের এ যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনার এক পর্যায়ে এরশাদের কবর কোথায় হতে পারে এ নিয়ে কথা ওঠে। এ সময় নিজ নিজ বক্তব্যও উপস্থাপন করেছেন জাপার নীতিনির্ধারণীয় পর্যায়ের নেতারা।

রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর কয়েকজন প্রেসিডিয়াম সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশের বাইরে থেকে ভালো চিকিৎসক আনা যায় কিনা তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে সভায়। সভায় এরশাদের কবরস্থানের জায়গা কেনার জন্য পাঁচ কোটি টাকা দেয়ার ঘোষণা দেন পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী মামুনুর রশিদ। তবে এরশাদের কবরস্থান কোথায় হবে সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।

জানা গেছে, এরশাদকে শঙ্কাজনক অবস্থায় সিএমএইচে রেখেই এরশাদের বনানী কার্যালয়ে বুধবার বিকালে বৈঠকে বসেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্যরা। এ সময় দলের সংসদ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের শুরুতেই এরশাদের শারীরিক অবস্থা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন জি এম কাদের। একপর্যায়ে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন তিনি। এ সময় প্রেসিডিয়ামের সদস্যরাও অশ্রু সংবরণ করতে পারেননি। নীরবে চোখের পানি মুছেছেন অনেকেই।

দীর্ঘ আলাপে এরশাদের চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা উঠে আসে। সিএমএইচে চিকিৎসা নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানান নেতারা। তারা বলেছেন, দরকার হলে জরুরিভিত্তিতে বাইরে পাঠানো হোক। কিন্তু শারীরিক দুর্বলতার কারণে বাইরে যাওয়ার মত পরিস্থিতি নেই জানানো হলে প্রয়োজনে বিদেশ থেকে বিশ্বমানের চিকিৎসক আনার কথা বলেন নেতারা। এজন্য তারা যাবতীয় খরচ বহন করতেও রাজি। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী মামুনুর রশিদ এক পর্যায়ে বলেন, পার্টির চেয়ারম্যানকে জরুরি ভিত্তিতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে বিদেশ পাঠানো হোক। যাবতীয় খরচ আমিই দেব।

সূত্র জানায়, প্রেসিডিয়ামের জরুরি সভায় এরশাদের কবর নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। দলের কয়েকজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, পার্টির চেয়ারম্যানকে সেনানিবাস অথবা সংসদ প্রাঙ্গণে কবর দিতে। তবে এর বিরোধিতা করে কেউ কেউ বলেন, এসব জায়গায় কবর দেওয়া হলে সর্বস্তরের মানুষ যখন তখন এরশাদের কবরে যেতে পারবে না। সংরক্ষিত জায়গা বাদ দিয়ে ঢাকার নিজস্ব কেনা জায়গায় পাবলিক প্লেসে কবরস্থান ঠিক করতে বলেন নেতারা।

এ সময় সভায় জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, সফিকুল ইসলাম সেন্টু মোহাম্মদপুর আদাবরে জায়গা কিনে কবরস্থান কেনার প্রস্তাব দেন।

এছাড়া জাপার জ্যেষ্ঠ নেতা অ্যাডভোকেট কাজী ফিরোজ রশীদ এরশাদের কবরস্থানের জন্য সাভারে তার দুই বিঘা নিজস্ব জমি লিখে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এ সময় তিনি বলেন, মোহাম্মদপুরের আদাবরে কিংবা অন্যখানে জায়গা পাওয়া না গেলে সাভারে আমার নিজস্ব জায়গা থেকে দুই বিঘা পার্টির চেয়ারম্যানের জন্য ‘কবরস্থান’ লিখে দেব।

জাপা নতুন প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী মামুনুর রশিদ পাবলিক প্লেসে নিজস্ব জায়গায় করার অনুরোধ করেন। এ সময় তিনি বলেন, পার্টির চেয়ারম্যান দেশের সতের কোটি মানুষের জনপ্রিয় নেতা। ঢাকার পরিচিত পাবলিক প্লেসে তার কবরের জন্য জায়গা কেনা হোক। প্রয়োজন হলে কবরস্থানের জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে পাঁচ কোটি টাকা দেব।

প্রেসিডিয়ামের জরুরি সভায় এরশাদের কবরস্থান ঠিক করা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করলেও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। সভায় বিভাগীয় সাংগঠনিক সভাগুলোর সারমর্ম নিয়ে আলোচনা হয়। বিভাগীয় পর্যায়ে কমিটি গঠনসহ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, এরশাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। এরশাদ বোন ক্যানসারে আক্রান্ত। তার রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ১০ শতাংশের কম আগে থেকেই। সভায় এরশাদের সুস্থতা কামনায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা শহরের মসজিদ, মন্দির, গির্জায় দোয়া অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এরশাদের চিকিৎসাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করার জন্য জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদকে আহ্বায়ক করে গঠন করা হয়েছে ৯ সদস্যের একটি কমিটি। এরশাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়ার জন্য সিঙ্গাপুর থেকো একজন চিকিৎসক আসবেন। তিনি এরশাদের শারীরিক অবস্থা দেখে বিদেশে নেয়া যাবে কি না সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবেন।

সভায় দলের সিনিয়র কো চেয়ারম্যান বেগম রওশন এরশাদ আসেননি। এ বিষয়ে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে রাঙ্গা বলেন, তিনি অসুস্থ, তিনতলায় হেঁটে উঠতে পারেন না, তাই আসেননি। তবে সভার সব খবর তাকে তাৎক্ষণিক জানানো হয়েছে।