| |

প্রেম করে বিয়ে: সদস্য সংগ্রহের নতুন কৌশল জঙ্গিদের

আপডেটঃ ১২:১০ পূর্বাহ্ণ | জুলাই ১০, ২০১৯

Ad

নারী সদস্য সংগ্রহে নতুন কৌশল অবলম্বন করছে জঙ্গিরা। প্রথমে টার্গেট নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। পরিচয়, সম্পর্ক স্থাপন ও বিয়ে পুরো প্রক্রিয়ায় প্রেমিক হিসেবে একজন সুদর্শন পুরুষকে সামনে নিয়ে আসা হলেও পেছন একাধিক নারী জড়িত থাকে, যারা ধর্মভীরু নারীদের টার্গেট করে মোটিভেটেড করে থাকে।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক লে. কর্নেল মো. এমরানুল হাসান এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, কৌশলগত কারণে জঙ্গিরা নারী সদস্য বৃদ্ধি করতে চাচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে ধর্মভীরু নারীদের টার্গেট করত তারা। এরপর বিয়ের ফাঁদে ফেলে জঙ্গিবাদে জড়াতো সেই নারীকে।সম্প্রতি নাঈমা ও ফারুক নামের দুজনকে গ্রেফতারের পর এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, দুই মাস আগে চট্টগ্রামের তরুণী সাফিয়া আক্তার তানজীর সঙ্গে ফেসবুকের একটি গ্রুপে কয়েকজন মেয়ের পরিচয় হয়, যাদের একজন নাঈমা। এই নাঈমার মাধ্যমে তানজীর পরিচয় হয় বরিশালের একটি স্কুলের শিক্ষকের সঙ্গে। তার নাম সহিফুল অরফে সাইফ। এই সাইফের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য বিভিন্নভাবে তানজীকে উৎসাহিত করে নাঈমা। তানজীও সেই ফাঁদে পা দেয়। এক পর্যায়ে ২৬ জুন সাইফকে বিয়ে করার জন্য নাঈমার সঙ্গে বাড়ি ছাড়ে তানজী।

বাড়ি ছেড়ে বরিশাল পৌঁছানোর পর তানজীকে নাম পরিচয় গোপন করে নাঈমার বোন হিসেবে একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দেয় সাইফ। তানজির বাবা-মায়ের নামের জায়গায় বসানো হয় নাঈমার বাবা-মায়ের নাম। এরইমধ্যে তানজির সঙ্গে সাইফের বিয়েও হয়। এই সময়ে মধ্যে তানজিকে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্নভাবে প্ররোচনা চালায় সাইফ ও নাঈমা।

এদিকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা থেকে সাফিয়া আক্তার তানজী (২২) নামে এই তরুণী নিরুদ্দেশ হওয়ার ঘটনায় ছায়া তদন্ত শুরু করে র‌্যাব। এরই ধারাবাহিকতায়, র‌্যাব-২ এর একটি টিম ৮ জুলাই দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বরিশালের একটি মাদ্রাসায় অভিযান পরিচালনা করে তানজীকে উদ্ধার করে এবং গ্রেফতার করা হয় জান্নাতুল নাঈমাকে। তবে পালিয়ে যায় সাইফ। পরবর্তীতের নাঈমার দেওয়া তথ্যে ভিত্তিতে রাজধানীর ডেমরা এলাকা থেকে মঙ্গলবার (৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মো. আফজাল হোসেন (২৩)নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নাঈমা ও আফজাল জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্য। তারা সদস্য সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত ছিল।