| |

মুক্তাগাছা থানা পুলিশের নাম ভাঙিয়ে দালালদের দৌরাত্ম্য

আপডেটঃ 12:23 am | July 18, 2019

Ad

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার কুমারগাতা ইউনিয়নের কান্দুলিয়া গ্রামের থানা পুলিশের দালাল হাছেন, রেজ্জাক, সোবহান ও তাদের সাঙ্গপাঙ্গদের  অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন । মুক্তাগাছা থানা পুলিশের নাম ভাঙানো এইসব দালাল এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ, মাদক সেবনকারী প্রতারক ও মামলাবাজ । একদিকে থানায় দালালদের  অপরদিকে থানায় দায়েরকৃত মামলার আসামীরা গ্রেফতার না হওয়ায় শঙ্কায় বাদীপক্ষ ।

অভিযোগে রয়েছে, থানার চিহ্নিত দালালরা নিরীহ মানুষের কাছ থেকে মামলা ও গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে । থানায় এদের হরহামেশা দেখা যায় । মাদক কারবারি, মাদকসেবীদের সাথে এই দালালদের দহরম মহরম সম্পর্ক রয়েছে। এ ছাড়াও এরা নিজেদের থানা পুলিশের সোর্স দাবি করে মানুষকে জিম্মি করে ফায়দা লুটে থাকা। স্থানীয় নিরীহ সাধারণ মানুষদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে জিম্মি করে ফাঁদে বসিয়ে আটক বাণিজ্য করে। থানার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে সংঘবদ্ধ এই দালাল চক্র।

প্রতিনিয়ত দালালের খপ্পরে পড়ে আর্থিক ও শারীরিকভাবে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বিচারপ্রার্থী লোকজন। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের অসাধু কর্মকর্তাদের ছত্রছায়ায় চলছে নানা অপকর্মসহ চাঁদাবাজি ও গ্রেফতার বাণিজ্য। অভিযোগ ওঠেছে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, নানা বিরোধপূর্ণ জমিসংক্রান্ত বিষয়ে আটক ও মাদক ব্যবসায়ীর অপবাদ দিয়ে গ্রেফতার করে তা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ছাড়ানোসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে এই দালাল চক্র।
এই দালালা ছাড়াও অন্যান্য স্থানেও থানার কার্যক্রম বর্তমানে দালালনির্ভর হয়ে পড়েছে। দালাল কিংবা সোর্স পরিচয়ে অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের হয়ে কাজ করছে তারা। পুলিশও তাদের কথামতো ধরছে আর মোটা অংক নিয়ে মামলা কিংবা ৩৪ ধারায় অথবা ছাড়ছে। অতীতের কোন অপরাধ কিংবা নিরাপরাধ মানুষকে যেমন গালি বা অপকর্মকারি হিসেবে জামায়াত-শিবির বানানা হতো ঠিক তেমনি বর্তমানে ব্যবহার হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে ওজুহাত।
মূলত দালালরা যেভাবে পরিচালনা করছে ঠিক সেভাবেই পরিচালিত হচ্ছে মুক্তাগাছা থানার কয়েক পুলিশ অফিসার। যাদের মধ্যে মানবতা কিংবা মানবিকতা বলতেই কিছুই নেই। দালালরা পুলিশ দিয়ে যেসমস্ত লোকজন ধরায় এসমস্ত লোকদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া কিংবা ছেড়ে দেওয়ার সময় যে টাকা আদায় করা হয় ঐ টাকা থেকেও ভাগ পায় এইসব দালাল। এছাড়া বর্তমানে প্রভাবশালী ও জনপ্রতিনিধি পরিচয়ে রয়েছে দালাল। আসামি কিংবা সন্ত্রাসিকে ধরতে হলে দালালদের অনুমতি নিতে হয়।
আবার কোনো আসামি ধরে থানা হাজতে নিয়ে আসা হলে ভালো-খারাপের সার্টিফিকেট দেওয়ার জন্য দালালদের ডাক পড়ে । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ জানায়, থানার পরিবেশ খুবই ভয়াবহ। কয়েক অফিসার যে কোন বিষয়ে সিন্ধান্ত দেওয়ার পূর্বেই দালালরা সিন্ধান্ত দিয়ে বসে এবং দালালের সিন্ধান্তই শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়। মূলত অপকর্মের মাত্রা দিন দিন বেড়ে যাওয়ার কারণে থানার পরিবেশ চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে । অপরদিকে উপজেলার শিমলায় কবিন্দবাড়ি সম্প্রতি প্রকাশ্যে দিনদুপুরে স্থানীয় মো: খলিলুর রহমানের রেন্ট্রিসহ বিশাল বিশাল কমপক্ষে ২০টি গাছ কেটে নিয়ে যায় প্রভাবশালী আক্কেল আলী ও তার লালিত বাহিনী ।

এঘটনায় খলিলুর রহমানের ভাবী মাহমুদা খাতুন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন । মামলার প্রেক্ষিতে থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) জাকির কাটা গাছ থানায় নিয়ে আসেন । এঘটনায় পুলিশ এখনও কাওকে গ্রেফতার করতে পারেনি । মুক্তাগাছায় থানায় দালালের বেপরোয়া উৎপাত ও তাদের নানা অপকর্মের ব্যাপারে মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর (তদন্ত) বন্দে আলী জানান, আগে অনেক দালাল ছিল। বর্তমানে নেই । গাছ কাটার বিষয়ে বলেন, দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে ।

ব্রেকিং নিউজঃ