| |

কেন এ হীনমন্যতা ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের?

আপডেটঃ 8:36 pm | July 21, 2019

Ad

সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও ৫ জন কাউন্সিলর পেয়েছে ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগ। সংগঠনটির পদধারী নেতারা বিভিন্ন পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হয়েছেন। ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। ফলশ্রুতিতে বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে তাদের সংবর্ধনা দেয়া হচ্ছে। কিন্তু অবাক করার ব্যাপার যেই সংগঠন থেকে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের ইতিহাসে প্রথম মেয়র ও ৫ জন কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছে সেই সংগঠনেরই এ নিয়ে নুন্যতম কোন মাথা ব্যাথা নেই।

একাধিক সংবর্ধনা অনুষ্টানে নিজ সংগঠন মহানগর আ’লীগের এমন হীনমন্যতা নিয়ে। যে কারনে প্রশ্ন তুলেছেন স্হানীয় সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলররা। তাদের প্রশ্ন সংবর্ধনা হওয়ার কথা ছিল মহানগর আওয়ামী লীগের ব্যানারে, কিন্তু তারা এমন আয়োজন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এটা তাদের দৈন্যতারই বহি:প্রকাশ। তবে মহানগর আওয়ামী লীগের এ হীনমন্যতার কারন অনুসন্ধান করতে গিয়ে মিলেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক মো: এহতেশামুল আলম ও মোহিত উর রহমান শান্ত দু’জনই ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে নৌকার প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দলীয় সভানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র প্রার্থী হিসেবে বেছে নেন নগরের উন্নয়নের রুপকার হিসেবে পরিচিত মো: ইকরামুল হক টিটুকে।

এ নিয়ে ইকরামুল হক টিটুর কাছে পরাস্তের বিষয়টি মহানগর আ’লীগের সভাপতি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা হিসেবে ধরে নিলেও সংগঠনের সাধারন সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত এ ক্ষেত্রে তার এমন হার মানসিকভাবে মেনে নিতে প্রস্তুত ছিলেন না, তার ঘনিষ্ঠ সূত্রের আবাস, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পর থেকেই ময়মনসিংহের রাজনীতি থেকে অনেকটাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। সর্বশেষ ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত বিভাগীয় প্রতিনিধি সভাতেও শান্ত অনুপস্থিত ছিলেন। এ নিয়ে সেই সময় কোন কোন নেতা প্রশ্নও তুলেন।

একাধিক দলীয় নেতাকর্মীর দাবী, মহানগর আওয়ামী লীগ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও নির্বাচিত কাউন্সিলরদের সংবর্ধনা না দেওয়ায় নানা রকমের কানাঘুষা শুরু হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত মহানগরের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক উভয়েই। এ নিয়ে তারাও কথা বলছেন। মহানগর আ’লীগ সভাপতি চাচ্ছেন দ্রুত সময়ের মধ্যেই নিজ সংগঠনের জনপ্রতিনিধিদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে তাদেরকে সংবর্ধিত করতে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে গাঁ-ছাড়া মনোভাব সংগঠনটির সাধারন সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত’র। তবে তিনি ইতিমধ্যেই ময়মনসিংহে আসায় আলাপ আলোচনা হচ্ছে আগামী সপ্তাহখানেকের মধ্যেই মহানগর আওয়ামীলীগের উদ্যোগে তাদেরকে সংবর্ধিত করা হবে।

ময়মনসিংহ পৌরসভার শেষ মেয়র, সিটি কর্পোরেশনের প্রথম প্রশাসক, অত:পর সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র মো: ইকরামুল হক টিটু। স্হানীয়দের কাছে তিনি উন্নয়নের রুপকার হিসেবে পরিচিত। সবাই বলেন, টিটু যেখানে হাত দেন, সেখানেই সোনা ফলে। দীর্ঘদিনের বঞ্চিত, অবহেলিত ময়মনসিংহ পৌরসভাকে ঘষামাজা করেই নান্দনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলতেই প্রাণান্তর প্রচেষ্টা নিয়েছিলেন টিটু। সেই ধারাবাহিকতায় জননেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই তার উপর আস্হা রেখেছেন। কিন্তু নিজের বিপরীতে ভোটে কোন প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েও আরেকটি মাইলফলক তৈরী করেন ইকরামুল হক টিটু। ফলে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পরপরই গোটা ময়মনসিংহ নগরীতে ইকরামুল হক টিটুকে নিয়ে সাজ সাজ রব তৈরী হয়েছে। টিটুকে হৃদয় থেকে ফুলের মাল্য দিয়ে বরন করে নিতে চারদিকে চলছে তুমুল প্রতিযোগিতা। এ প্রতিযোগিতায় কখনও স্হানীয় ওয়ার্ড আ’লীগ, কখনও আ’লীগের বিভিন্ন অঙ্গসহযোগী সংগঠন কিংবা কোন এলাকার বাসিন্দারা আয়োজন করে তাকে সংবর্ধনা দিলেও ইকরামুল হক টিটুও শুধুমাত্র নিজে সে সংবর্ধনায় হাজির না হয়ে মহানগর আ’লীগ থেকে নির্বাচিত কাউন্সিলরদের নিয়েই সংবর্ধনায় হাজির হচ্ছেন। মেয়র টিটুর এমন মানসিকতা স্হানীয় জনসাধারণের মাঝে তাকে নিয়ে প্রশংসার বাণী উচ্চারিত হচ্ছে।

তবে রাগডাক না করেই নিজ সংগঠন থেকে এখনো সংবর্ধনা না পেয়ে ক্ষোভের অনলে পুড়ছেন মহানগর আ’লীগের বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা। যারা মহানগর আওয়ামী লীগের সঙ্গে সরাসরি কোন না কোনভাবে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এর মধ্যে রয়েছেন- সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র ও মহানগর আ’লীগের অন্যতম সহ-সভাপতি মো: ইকরামুল হক টিটু, সিটির ১০ নং ওয়ার্ডের একাধারে কয়েকবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর ও মহানগর আ’লীগের সহ-সভাপতি মো: তাজুল আলম, সিটির ১৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও নগর আ’লীগের প্রচার সম্পাদক মো: কামাল খান, নগরীর ৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও নগর আ’লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মো: নিয়াজ মোর্শেদ, নগরের ৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও মহানগর আ’লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মো: শরীফুল ইসলাম শরীফ, সিটির ৮নং ওয়ার্ডের তিনবারের কাউন্সিলর ও মহানগর আ’লীগের সদস্য মো: ফারুক হাসান।

শনিবার (২০জুলাই) রাতে নগরের চরপাড়ায় স্হানীয় ১৪ নং ওয়ার্ড আ’লীগ আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্টানে রাগডাক না করেই মহানগর আ’লীগের সদস্য ও ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফারুক হাসান ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, মহানগর আওয়ামী লীগের মেয়রসহ ৬জন জনপ্রতিনিধি রয়েছি। কাউকেই কোন সংবর্ধনা দেয় নাই মহানগর আ’লীগের সংগঠন থেকে। তিনি ১৪ নং ওয়ার্ডের দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্টানে বলেন, এ সংবর্ধনা এখানে হওয়ার কথা নয়, মহানগর আ’লীগের উদ্যোগে হওয়ার কথা।

তিনি বলেন, মহানগর আ’লীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক তারা দু’জনই সিটির নির্বাচনে মেয়র কেন্ডিডেট ছিল, কিন্তু জননেত্রী ও সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদেরকে মনোনয়ন দেয় নাই। দিয়েছে জনন্দিত নেতা ইকরামুল হক টিটুকে। তারা মূলত এ জেলাসীর কারনেই সংবর্ধনার আয়োজন বা কোন উদ্যোগ নেয় নাই। আমাদের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দরা সংবর্ধনা দিলেও আমাদের সংগঠনের নেতাদের কোন মাথাব্যথা নেই কারণ তাদের ভেতরে জেলাসী কাজ করে।

তাই তারা এখনো দিতে পারে নাই। আমরা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা মহানগর আ’লীগের বিভিন্ন পদে থেকেও জনগণের ও নগর উন্নয়নে রাজনীতি করে যাচ্ছি। আমরা ওয়ার্ড কাউন্সিলররা ও নগরবাসী মহানগর আ’লীগের এমন হীনমন্যতার জন্যে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

তবে মহানগর আ’লীগের বিভিন্ন পদে থাকা নেতৃবৃন্দ ও সিটির নির্বাচনে বিজয়ী কাউন্সিলরদের এমন ক্ষোভ ও বক্তব্যের বিষয়ে মহানগর আ’লীগ সভাপতি এহতেশামুল আলম এ প্রতিনিধিকে বলেন, যারা সিটির নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন তারা সবাই মহানগর আ’লীগের নেতা। কিন্তু ফারুক হাসান তো আমাদের মেম্বার ছিল যারা কাউন্সিলর হয়েছে মূলত তাদের উচিত ছিল আমাদের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিতে। অনেকেই অনেক উস্তাদ হয়ে গেছে। যাই হোক আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামী ৩০ জুলাই টাউনহলের অডিটোরিয়ামে সন্ধ্যায় সংবর্ধনা দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। আমি সাধারন সম্পাদক শান্ত’র সাথে কথা বলেছি।

ব্রেকিং নিউজঃ