| |

ব্রহ্মপুত্রের থাবায় গৌরীপুরের ১১ গ্রাম

আপডেটঃ ১১:০৭ অপরাহ্ণ | জুলাই ২৫, ২০১৯

Ad

ব্রহ্মপুত্র নদের করাল গ্রাসে ময়মনসিংহের গৌরীপুরের ভাংনামারী ইউনিয়নের আটটি গ্রামে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। অপরদিকে নদের পানিতে তলিয়ে গেছে ইউনিয়নের তিন গ্রামের সব ঘরবাড়ি।

ফেরিঘাট ডুবে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে নৌযান চলাচল। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য গ্রাম ছেড়ে স্বজনদের বাড়ি ও খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিচ্ছেন দুর্গত মানুষজন।

এ বিষয়ে ভাংনামারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মফিজুন নূর খোকা বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যক্তি উদ্যোগে ভাঙনের শিকার ও পানিবন্দী পরিবারগুলোর মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হলেও, তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। তাই দুর্গত এলাকায় সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভাঙন রোধে দ্রুত বাঁধ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর বর্ষার শুরুতেই ব্রহ্মপুত্র নদ ঘেঁষা ভাংনামারী ইউনিয়নের অনন্তগঞ্জ, ভাটিপাড়া, ভাংনামারীর চর, বয়রা, খোদাবক্সপুর, দূর্বাচর, গজারিপাড়া, খুলিয়ারচরসহ আট গ্রামে ভাঙন শুরু হওয়ার পর অর্ধ শতাধিক ঘরবাড়ি নদের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পানিতে তলিয়ে গেছে সড়ক, কালভার্ট ও সহস্রাধিক একর ফসলি জমি।

গ্রামবাসীদ জানান, প্রায় ছয় বছর আগে নিজেরা চাঁদা তুলে বাঁধ দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু পরের বছরই তা নদে বিলীন হয়ে যায়। এ বছর বর্ষার শুরুতেই নদে ভাঙন দেখা দিলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাঙন রোধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সরেজমিন দেখা যায়, ব্রহ্মপুত্র নদের পানিতে সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে ইউনিয়নের মাঝের টেক, চরভবখালি, উজান কাশিয়ার চরের দুই শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে পাঁচ শতাধিক পরিবার। অনন্ত ফেরিঘাটও পানির নিচে।

অনেক মাঝির নোকৗ ডুবে যাওয়ায় আয় রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। নদের পানিতে ডুবে গেছে বয়রা বাজারের প্রবেশ পথ।

ফেরিঘাটের নৌকার মাঝি রাসেল মিয়া বলেন, উজান থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে দুই সপ্তাহ আগে আমার দু’টি নৌকা ব্রহ্মপুত্রে ডুবে গেছে। ওই নৌকা দু’টিই ছিল আয়ের একমাত্র অবলম্বন। এখন পরিবার নিয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে।

এদিকে ভাটিপাড়া ও খোদাবক্সপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ব্রহ্মপুত্র নদ ভাঙতে ভাঙতে গ্রামবাসীর দুয়ারে চলে এসেছে। গত দুই সপ্তাহে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে নদে। ঘর হারানো পরিবারের সদস্যরা খোলা আকাশের নিচে রান্না-বান্না করছেন। নদে বিলীনের আশঙ্কায় গাছপালা কেটে ও ঘরবাড়ি ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন অনেকে। এর মধ্যে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে হুমকিতে আছে ভাটিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও।

ভাটিপাড়া গ্রামের সুজাত মিয়া বলেন, ১০ বছর আগেও নদ বাড়ি থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে ছিল। এখন ভাঙতে ভাঙতে ঘরের দরজায় চলে এসেছে। ভাঙন রোধে দ্রুত বাঁধ নির্মাণ না করা হলে আগামী বছর ভাটিপাড়া গ্রাম মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন খান বলেন, আমরা ব্রহ্মপুত্র নদের দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে পানিবন্দী পরিবারগুলো মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছি। ভাঙন কবলিত এলাকায় বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।

ব্রেকিং নিউজঃ