| |

উপজেলা নির্বাচনে আ’লীগের বিদ্রোহীদের শাস্তি স্থগিত

আপডেটঃ ৩:৫১ অপরাহ্ণ | জুলাই ২৮, ২০১৯

Ad

উপজেলা নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতাকারী মন্ত্রী, এমপি ও দলের প্রভাবশালী নেতাদের শাস্তির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত থেকে কিছুটা সরে এসেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশব্যাপী বন্যা ও ত্রাণ কার্যক্রমে নেতাকর্মীরা ব্যস্ত থাকায় এই মুহুর্তে দুঃসংবাদ দিতে ইচ্ছুক নয় তৃণমূলের জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের। এ কারণে চিঠি ইস্যু বিলম্বিত হবে। তবে আগামী ২৯ জুলাই সকাল ১১টায় পুনরায় সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় নতুন সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে আওয়ামী লীগের সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহীদের বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলের শাস্তির বিষয় ২৮ জুলাই থেকে নেয়ার কথা ছিল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দপ্তর থেকে কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। শুধু বলা হয়েছে, বিষয়টি বলার জন্য দায়িত্বরত কেউ নেই।

চলতি বছরের ২৯ মার্চ আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠিত দলের সভাপতিমণ্ডলীর সভায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী ও ইন্ধনদাতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। এরপর গত ৫ এপ্রিল এসব নেতাকে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে কারণ দর্শানোর চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় দল। সর্বশেষ আসে কার্যনির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্ত। কিন্তু হঠাৎ করে সারাদেশ বন্যাকবলিত হওয়ায় এখন আপাতত স্থগিত। নেতাকর্মীদের বন্যার্তদের সাহায্যার্থে কাজ করতে বলা হয়েছে। এমন সময়ে বহিষ্কারের চিঠি পেলে এ কাজে সমন্বয়হীনতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন। এ সময় দলের তৃণমূলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। এসব বিবেচনায় আপাতত শাস্তি কার্যকরের সিদ্ধান্ত স্থগিত।

এ বিষয়ে প্রতিবেদক আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশব্যাপী বন্যার কাজ নিয়ে আমি ব্যস্ত আছি। তাই এর বেশি কিছু বলতে পারবো না। আপনি দপ্তরের কাছে জিজ্ঞাসা করুন কেন স্থগিত করা হয়েছে। আশা করি সঠিক তথ্য পেয়ে যাবেন।

সর্বশেষ গত ২ জুলাই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকেও ‘বিদ্রোহী’ ও ইন্ধনদাতাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্রোহীদের প্রথমে সরাসরি সাময়িক বহিষ্কার করে এরপর কেন তাদের স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না, এই মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশ অনুযায়ী দুই শতাধিক নেতাকে এ শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়, তবে কম বেশি হতে পারে। এক সংবাদ সম্মেলনে আগামী ২৮ জুলাই থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকরের কথা জানান দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

এদিকে, বিদ্রোহী ও ইন্ধনদাতাদের বিষয়ে বিভাগীয় পর্যায়ের দায়িত্বরত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের দিয়ে একটি টিম করা হয়েছিল। এই টিমগুলো ইতোমধ্যে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন বলে দলটির একজন সাংগঠনিক সম্পাদক প্রতিবেদকের কাছে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, শাস্তির সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। তবে প্রায় সকলকেই কারণ দর্শানোর চিঠি পাঠানো হবে। তবে কিছু ডাকসাইটের নেতাদের সাময়িক পদ স্থগিত রাখা হতো। শত্রুতার বশবর্তী হয়েও বেশ কয়েকটি অভিযোগ এসেছিল তা বাতিল করে দেয়া হয়েছে। ২৮ তারিখ থেকে হওয়ার কথা থাকলেও আপাতত বন্যার জন্য হচ্ছে না এটা নিশ্চিত।

ব্রেকিং নিউজঃ