| |

বাসে স্প্রে, যানবাহনে এডিস মশায় সতর্ক মসিক!

আপডেটঃ ২:২৭ অপরাহ্ণ | আগস্ট ০৪, ২০১৯

Ad

এবার প্রথমবারের মতো ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার রেকর্ড হয়েছে। ময়মনসিংহেও নিত্যদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। তবে এখনো ময়মনসিংহে অবস্থান করে কেউ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন কিংবা এডিস মশার লার্ভা মিলেছে বলে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

তবে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে ছেড়ে আসা দূরপাল্লার যানবাহনে এডিস ইজিপটাই মশা চলে আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে আগেভাগেই এ বিষয়ে সতর্ক পথ নিয়েছে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন (মসিক)। এজন্য এ রুটে চলাচলকারী এনা ও সৌখিন বাস সার্ভিসের চালক ও সুপারভাইজারদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বিনামূল্যে প্রায় তিন শতাধিক অ্যারোসল।

সিটি করপোরেশন থেকে বলে দেওয়া হয়েছে, ঢাকা থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরুর আগেই যেন পুরো বাসে মশার ওষুধ স্প্রে করা হয়। আবার নগরীর মাসকান্দা কেন্দ্রীয় বাস টানির্মালে পৌঁছার পর যেন ফের অ্যারোসল স্প্রে করে মশা নিধন করা হয়। এক্ষেত্রে জেলা পরিবহন মোটর ও মালিক সমিতির কার্যকর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছেশুক্রবার (০২ আগস্ট) বিকেলে নগরীর মাসকান্দা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি এডিস মশা নিধন ও বংশবিস্তার রোধ করতেই বাসে বাসে নিজ হাতে অ্যারোসল স্প্রে করে এ সচেতনতামূলক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. ইকরামুল হক টিটু। পরে বাসযাত্রীদের হাতে সচেতনতা ও সতর্কতামূলক প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (০১ আগস্ট) বিকেলে সিটি করপোরেশন মিলনায়তনে সব পেশাজীবী, সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও এনজিও প্রতিনিধিদের সঙ্গে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় মেয়র বলেন, ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে আসা দূরপাল্লার যানবাহন আমাদের জন্য বড় শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ কারণে ঢাকা ছাড়ার আগেই চালকদের অ্যারোসল স্প্রে করে মশা নিধনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। যাতে করে তারা সম্পূর্ণ মশামুক্ত হয়েই ময়মনসিংহে প্রবেশ করতে পারেন।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, সুস্থ, সুন্দর ও বাসযোগ্য ময়মনসিংহ নগরী গড়ে তুলতে টানা ১০ দিন ধরে ময়মনসিংহে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। নেওয়া হয়েছে বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম। নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশার ওষুধ ছিটাচ্ছেন।

নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের কাছে ডেঙ্গু সতর্কবার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন নগরপিতা ইকরামুল হক টিটু। প্রতিটি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানকে মশামুক্ত করতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিরাপদ পাঠদান নিশ্চিত করতে নিজ নিজ ঘর-দুয়ার পরিচ্ছন্ন রেখে মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করার আহ্বান জানাচ্ছেন।

সূত্র মতে, সিটি করপোরেশনের এ উদ্যোগের সঙ্গে এরইমধ্যে সম্পৃক্ত হয়েছেন ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও। মহানগর যুবলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ সহযোগী সংগঠন, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেনতা সৃষ্টি করে নাগরিকদের সচেতন করছেন। বিতরণ করা হচ্ছে প্রচারপত্র।ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. ইকরামুল হক টিটু বাংলানিউজকে বলেন, ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ পানিতে বংশ বিস্তার করে। এজন্য প্রত্যেকের বাসাবাড়িতে পানি জমিয়ে রাখা যাবে না। নিজের নিরাপদের জন্যই প্রত্যেককে মশারি টানিয়ে ঘুমাতে হবে। অবশ্যই শিশুদেরও মশারির মধ্যে রাখতে হবে।

তিনি জানান, ময়মনসিংহে এখন পর্যন্ত কেউ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হননি। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে যারা চিকিৎসা নিচ্ছেন তাদের সবাই ঢাকা ফেরত। এরপরও আমরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে হাতগুটিয়ে বসে না থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছি। ডেঙ্গু প্রতিরোধের এ আন্দোলনকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের স্যানেটারি ইন্সপেক্টর দীপক মজুমদার বাংলানিউজকে বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে শোভাযাত্রা, বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়, স্কুলে স্কুলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিতরণ, মসজিদে প্রচারণা, ড্রেন, ডোবা, ঝোপঝাড়, জঙ্গল পরিষ্কারসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

ব্রেকিং নিউজঃ