| |

সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত সেনা সদস্য নাসিমের দাফন সম্পন্ন

আপডেটঃ ৯:০৫ অপরাহ্ণ | আগস্ট ২০, ২০১৯

Ad

শনিবার দুপুরে বাবার সাথে শেষ কথা ছিল সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত সেনা সদস্য নাসিম আহমেদের। সে তার বাবা বিল্লাল হোসেনকে জানিয়েছেন দুই একদিনের মধ্যে সে ছুটিতে আসবে। বাড়িতে এসে থাকার ঘর সংস্কারের কথা ছিল তার। সে অপেক্ষায়ই ছিল তার বাবা-মা। ঈদের কোরবানির গোশত রেখে দিয়ে দিয়েছিলেন তার মা নাজমা আক্তার।

পরম আদরে তার ছেলেকে কোরবানির গোশত খাওয়াবে। সে আশা আর পূরণ হলো না মা নাজমা আক্তারের। তাদের ছেলে ছুটিতে এসেছে ঠিকই নিথর দেহে চিরদিনের ছুটি নিয়ে। এ ছুটি আর শেষ হবে না। তিনি একা আসেননি। তিনি এসেছেন তার কর্মস্থলের গাড়ি বহর নিয়ে।

গতকাল সোমবার দুপুর আড়াইটায় সেনা সদস্যরা তার লাশ গ্রামের বাড়ি মুক্তাগাছার তারাটি পূর্বপাড়া নিয়ে আসেন। এ সময় এক হৃদয় বিধারক ঘটনার সৃষ্টি হয়। তার বাবা-মা’র আর্তচিৎকারে বাতাস যেন ভারি হয়ে ওঠে। তাদের আদরের ছোট ছেলের নিথর দেহ দেখে বাবা- মা বাক হারিয়ে ফেলেন। বারবার মূর্ছা যান তারা। মা নাজমা আক্তার পাগলের মত বিলাপ করতে থাকেন ছেলের কফিনের পাশে। তাদের বুক ফাটা কান্নায় উপস্থিত সকলের চোখেও পানি গড়িয়ে পড়ে। সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত সেনা সদস্যের লাশ দেখে এ রকম একটি অবস্থা সৃষ্টি হয় পুরো এলাকায়। বাদ আছর পারিবারীক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।

রোববার ১০টার দিকে রাঙামাটির রিজিয়নের রাজস্থলে সেনা ক্যাম্প থেকে চার কিলোমিটার দক্ষিণে পোয়াইতুমুখ এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে তরুণ সেনা সদস্য নাসিম আহমেদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। নিহত সেনা সদস্য সাত মাস আগে বাংলাদেশ সেনা বাহিনীতে যোগদান করেন। তিনি মুক্তাগাছা আরকে সরকারি স্কুল থেকে ২০১৬ সালে এসএসসি পাশ করেন। কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পাশের পর তিনি ২০১৮ সালে মুক্তাগাছার সরকারি শহীদ স্মৃতি কলেজে ভর্তি হন। ওই বছরই তিনি সেনা বাহিনীতে যোগদান করেন।

নাসিম আহমেদ দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। সে ছিল সবার আদরের। তিনি চেয়েছিলেন তার কৃষক বাবার মুখে হাসি ফুটাতে। কিন্তু সন্ত্রাসীরা তার আশা পূরণ হতে দিল না। এর আগেই কেড়ে নিল তার তাজা প্রাণ। তার জানাজায় সর্বস্তরের হাজারো মানুষ অংশ নেয়।

ব্রেকিং নিউজঃ