| |

অক্টোবরে নয়, জানুয়ারিতে হচ্ছে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল

আপডেটঃ ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ | আগস্ট ২১, ২০১৯

Ad

অক্টোবরে নয়, জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেই এব্যাপারে নির্দেশনা দিয়েছেন। যেহেতু দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আঁকার ধারণ করেছে। শোকের মাস চলছে। প্রধানমন্ত্রী সেপ্টেম্বরে জাতীয় সংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য নিউ ইয়র্কে যাবেন। অক্টোবরে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভারত সফর রয়েছে। তাছাড়া ডেঙ্গু পরিস্থিতি এবং বন্যা পরিস্থিতির কারণে সারাদেশে যে স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের সম্মেলনগুলো হয়নি এজন্য কাউন্সিল পিছিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, প্রধান্মন্ত্রী শেখ হাসিনা চাইছেন আওয়ামী লীগের কাউন্সিল ঘটা করে সুন্দরমত করার জন্য। বিশেষ করে আগামী বছরের মার্চ থেকে মুজিব বর্ষ শুরু হচ্ছে, সেজন্য আওয়ামী লীগের এবারের কাউন্সিল নানাদিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। সেকারণেই তাড়াহুড়া করে প্রস্তুতিহীনভাবে কাউন্সিল কর‍্তে চায়না আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কাউন্সিলের আগে সারাদেশ থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত করতে হয় এবং কাউন্সিলর নির্বাচনের জন্য ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, বিভাগ এবং মহানগরী পর্যায়ে সম্মেলন অনুষ্ঠিত করতে হয়। সম্মেলনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সংখ্যক কাউন্সিলর নির্বাচিত করতে হয়। তাঁরাই কাউন্সিলে এসে সারাদেশে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিত্ব করেন। কিন্তু শুরু করলেও স্থানীয় পর্যায়ে কাউন্সিল ও সম্মেলনের কাজ বন্যা এবং ডেঙ্গুর কারণে এখনও শেষ হয়নি। একারণে আওয়ামী লীগ মনে করছে যে, এত স্বল্প সময়ের মধ্যে অর্থবহ কাউন্সিল করা যাবে না।

এবারের কাউন্সিল অনেকগুলো বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে। এই কাউন্সিলের মাধ্যমে আওয়ামী লীগে সভাপতি শেষবারের মত সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠদেরকে নিশ্চিত করেছেন। এখানে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনের একটি বিষয় রয়েছে। নতুন সাধারণ সম্পাদক হবেন না বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের থাকবেন তা নিয়ে দলের মধ্যে নানারকম আলোচনা আছে। এছাড়া সারাদেশে তৃণমূল পর্যন্ত গণতন্ত্রায়ন একটি বড় বিষয়।

আওয়ামী লীগ মনে করছে যে, সারাদেশেই নির্বাচনের মাধ্যমে কাউন্সিলর এবং স্থানীয় নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। যে প্রক্রিয়াটি আওয়ামী যুবলীগ ইতিমধ্যে শুরু করেছে। এছাড়া এবারের কাউন্সিলে সরকার এবং দলকে আলাদা করার একটি বিতর্ক অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হবে। জাতির পিতার যে নীতি ছিল দল এবং সরকার আলাদা থাকবে সেই বিষয়ে আওয়ামী লীগ এবারের কাউন্সিলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এবারের কাউন্সিলে হাইব্রিড, পরগাছা এবং অন্যদল থেকে আসাদের দৌরাত্ব কমানোর জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে এই বার্তা ইতিমধ্যে দেয়া হয়েছে যেন আওয়ামী লীগের যারা ত্যাগী পরীক্ষিত এবং দুঃসময়ের কাণ্ডারিদেরকে যেন নেতৃত্বের প্রাদপ্রদীপে আনা হয়। এসব নানা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাউন্সিলটা আওয়ামী লীগ তাড়াহুড়া করে করতে চায় না। বরং জানুয়ারি মাসে কাউন্সিল করা হলে জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকীর আগে একটি নতুন মাত্রায় নতুন আবহে দলকে উজ্জীবিত করবে বলে নীতি নির্ধারকরা মনে করছেন।

ব্রেকিং নিউজঃ