| |

ময়মনসিংহে স্ত্রীর প্রতারনার শিকার বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী আলহাজ্ব আব্দুল হালিম, ৫৪ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়ে শিউলী উধাও

আপডেটঃ 9:24 pm | August 27, 2019

Ad

নাজমূল হুদা মানিক: ময়মনসিংহে অভিনব কায়দায় দ্বিতীয় স্ত্রী শিউলী আক্তারের প্রতারনার শিকার হয়েছেন বিশিষ্ট অটো ব্যাবসায়ী আলহাজ্ব মো: আব্দুল হালিম। নিজের নামে জমি ক্রয়, বসতবাড়ী নির্মান, ছোট বোনদের বিয়ে, ব্যাংকে জমা দেয়ার কথা বলে মোটা অংকের টাকা নিয়ে উদাও হয়ে যাওয়া, একাদিক বার তালাক দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়া, পিতাকে দোকান করে দেয়া, মসজিদের নামে ইট দেয়ার কথা বলে টাকা, দোকানের ফ্রিজ, চিকিৎসা ও আনন্দ ভ্রমনের নামে বিভিন্ন অযুহাতে দেশভ্রমন এর নামে ৫৪ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ করেছেন ময়মনসিংহের বিশিষ্ট অটো ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মো: আব্দুল হালিম। সম্প্রতি শিউলীর বড় বোন জামেলা ও জামেলার স্বামী কামরুল ইসলাম শিউলীকে তারাকান্দা থেকে কামরুলদের বাড়ী গৌরীপুর উপজেলার মনাটি গ্রামে নিজ বাড়ীতে নিয়ে যায়। গত রবিবার দিন শিউলীকে তার স্বামী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল হালিমের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার কথা ছিল। পরবর্তীতে জামেলার স্বামী কামরুল ইসলাম বৃহস্প্রতিবার দিন শিউলীকে আব্দুল হালিমের কাছে ফিরিয়ে দিবে বলে সময় নেয় । কিন্তু সোমবার রাতে কামরুল জানায় শিউলীকে পাওয়া যাচ্ছেনা। এদিকে মেয়েকে না পাওয়ার সংবাদ পেয়ে শিউলীর পিতা নুরু মিয়া অভিযোগ করেছেন শিউলীকে তার বড় বোন জামেলা ও বোন জামাই কামরুল উধাও করে ফেলেছে। তারা শিউলীকে গুম করে ফেলেছে না হত্যা করেছে এটি রহস্যজনক মনে হচ্ছে। অপরদিকে শিউলীর বড় ভাই নয়ন মিয়া ভালুকা থানায় জিডি করেছে শিউলী গত রবিবার রাতে ভালুকা উপজেলায় তার বাসায় গিয়ে রাত্রি যাপন করে। নয়ন মিয়া তার নিজ ভোটার আইডি কার্ড দিয়ে ছোট বোন শিউলীকে মোবাইল সিম কিনে দিয়েছে। পরদিন সোমবার সকালে ভালুকায় আসার কথা বলে শিউলী উধাও হয়ে যায়। শিউলীকে বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছেনা। ব্যবসায়ী আলহাজ্ব আব্দুল হালিম জানান, সোমবার দিবাগত রাতে কামরুল ফোন করে জানিয়েছে শিউলীকে পাওয়া যাচ্ছেনা। ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম আরো জানান, ঘটনাটি অনেক রহস্য জনক মনে হচ্ছে। আমার স্ত্রী শিউলীকে লুকিয়ে রেখে বা গুম করে তারা আমার সাথে মিথ্যা ছলনা করছে। আমার স্ত্রীকে ফিরিয়ে না দিয়ে তারা শিউলীকে নিয়ে নানা প্রকার ষড়যন্ত্র করছে। আমি আমার শশুর নুরু মিয়ার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানিয়েছেন শিউলীকে তার বড় মেয়ে জামেলা ও কামরুল তার স্বামীর বাড়ী মনাটিতে নিয়ে গেছে। বর্তমানে শিউলীকে পাওয়া যাচ্ছেনা। বিশিষ্ট অটো ব্যাবসায়ী আলহাজ্ব মো: আব্দুল হালিম এর দ্বিতীয় স্ত্রী শিউলী আক্তার নানা প্রকার প্রতারনা ও ছলনার আশ্রয় নিয়ে অভিনব কায়দায় ৫৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে শিউলী স্বামী সংসার রেখে পালিয়ে যায়। একপর্যায়ে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব আব্দুল হালিম সম্প্রতি স্ত্রী অথবা টাকা ফেরত চাওয়ায় শিউলী ও তার পরিবারের লোকজন আব্দুল হালিমকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে বলে জানাগেছে। ময়মনসিংহ শহরের ৪নং জেসিগুহ রোড, আদমজী পাটগুদাম এলাকার বাসিন্ধা হালিম এন্টারপ্রাইজের মালিক আলহাজ্ব আব্দুল হালিম জানান, গত ১৬/৬/১৯ইং তারিখ বিকাল আনুমানিক ৪টার সময় আমার সাথে থাকা সঙ্গীয় সোহেল মিয়া, শ্রাবন, আবুল কালাম সহ আমার শশুর নুর হোসেন ওরফে নুরু মিয়ার মুদির দোকানে যাওয়ার পরে আমার পাওনা টাকা পয়সা চাইতে গেলে ও আমার স্ত্রী শিউলী আক্তারকে আনতে চাইলে সে আসবেনা ও টাকা পয়সাও দিবেনা এবং আমার ঘর সংসার করবেনা বলে আমার শশুরের সহযোগিরা হুমকি দিয়ে বলে শিউলী আক্তারকে আনার চেষ্টা করলে তারা আমাকে খুন জখম করে ফেলবে। আমি নিরুপায় হয়ে আমার শশুরবাড়ীতে হতে আমার বাসার উদ্যেশ্যে রওনা হয়ে ঘটনার দিন রাত অনুমান সাড়ে ৭টায় রামপুর ইট ভাটার পশ্চিম পার্শে পাঁকা রাস্তার ফাঁকা জায়গায় পৌছা মাত্রই আমার শশুর মো: নুর হোসেন ওরফে নুরু মিয়ার হুকুমে আমার স্ত্রী মোছা: শিউলী আক্তার, আমার বৌ এর বড় বোন মোছা: জামেলা খাতুন, শ্যালক নয়ন মিয়া, শাশুরী নুরজাহান, শশুর নুর হোসেন ওরফে নুরু মিয়া সহ কয়েকজন আমাকে হত্যা করার উদ্যেশ্যে তাদের হাতে থাকা দাও, লাঠি, লোহার রড, ছুড়ি সহ দেশীয় অস্ত্রে সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনী ভাবে জনতাবন্ধে একত্রিত হয়ে রাস্তা অবরোধ করে পুর্বে থেকেই উৎ পেতে থাকা পরিকল্পিত ভাবে আমাকে ঘেড়াও করে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালগালিজ করে। তখন আমি গালিগালি করতে নিষেধ করলে সকলেই আমাকে এলাপাথারী ভাবে পিটিয়ে আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা ফুলা গুরুতর জখম করে। আমার স্ত্রী শিউলী আক্তারের হাতে থাকা দা দিয়ে আমাকে খুন করার উদ্যেশ্যে মাথার বাম পার্শে স্বজোরে কুপ মারে। আমি কাত হয়ে পড়লে পুনরায় স্বজোরো কুপ দিয়ে বাম পায়ের হাটুর উপরে গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম করে। জামেলা খাতুন তার হাতে থাকা দা দিয়ে আমাকে খুন করার উধ্যেশ্যে মাথার উপরে স্বজোরে কুপ মেরে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় নয়ন মিয়া তার হাতে থাকা দা দিয়ে খুন করার উদ্যেশ্যে বাম পায়ের উপরে কুপ মেরে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। নুর হোসেন ওরফে নুরু মিয়ার হাতে থাকা লোহার রড় দিয়ে খুন করার উদ্যেশ্যে বাম হাতের কুনই এর উপরে স্বজোরে বারি মেরে গুরুতর হাড় ভাঙ্গা জখম করে। নুর জাহানের হাত দিয়ে আমার গলা চেপে ধরে স্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। তখন আমার ডাক চিৎকারে আমার সাথে থাকা সঙ্গী ও পথচারী হাবিবুর রহমান হাবিব, হাশিম উদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম সহ লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাননাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। আমার সঙ্গী ও পথচারীরা গুরুতর জখম অবস্থায় আমাকে উদ্বার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের তামিলনাড়– প্রদেশের ভেলু খ্রিষ্টান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহন করি। পরবর্তীতে সুস্থ হয়ে তারাকান্দা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করি। যার মামলা নং ১৪, তারিখ ২৩/৭/২০১৯ইং। বর্তমানে আলহাজ্ব মো: আব্দুল হালিম তারাকান্দা থানায় মামলা দায়ের করা এবং আসামীদের গ্রেফতার না করায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। শিউলী আক্তার ও তার লোকজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হালিম অটো এন্টারপ্রাইজের ব্যবসা

ব্রেকিং নিউজঃ