| |

বিদ্যাদায়িনী সরস্বতী ‘শুদ্ধ জ্ঞানময়ী শুভ তোমার আগমন শুভ্রতার পরশে তাই জেগে ওঠে মন’

আপডেটঃ 8:02 pm | February 11, 2016

Ad

শুভ্রবসনা ভুবনমোহিনী বিদ্যাদায়িনী মা সরস্বতী। ঈশ্বরের জ্ঞানশক্তির প্রকাশ হচ্ছেন শ্রী শ্রী সরস্বতী। তিনি বিদ্যার ও জ্ঞানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। মাঘ মাসের  শুক্লা শ্রী পঞ্চমীর পূণ্যতিথিতে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সকল জ্ঞানের ভান্ডার সূর্যাগ্নিরূপে ব্রক্ষ্রা,  বিষ্ণু- মহেশ্বর এর শক্তি জ্যোতিরূপা সরস্বতী। এর অমিয় জ্যোতিধারা সর্বব্যাপী,  চির ভাস্বর আলাকে সাধকের অজ্ঞান দূরীভূত হয় এবং অন্তর পূর্ণ হয় জ্যোতিতে —– এই জ্যোতিই সরস্বতী। জ্যোতির্ময়ী বলে সর্বশুক্লা। তিনি বাক্, বুদ্ধি, জ্ঞান,বিদ্যা, সমৃদ্ধি এসবের আরাধিতা দেবী। ইনি আলোকময়ী, চারু ও কারুশিল্পের দেবী। সরস্বতীর গুণ ও রূপ বর্ণনায় সাত্ত্বিক ও আধ্যাত্মিক ভাবের বিকাশ অতি সমৃদ্ধ। কবি ভরত চন্দ্রের ভাষায় দেবী সরস্বতী-
‘শ্বেত বর্ণ শ্বেতবাস  শ্বেতবীনা শ্বেতহাঁস
শ্বেত সরজিত – নিবাসিনী।

বেদবিদ্যা তন্ত্রমন্ত্র বেনু বীনা আদিযন্ত্র
নৃত্যগীত বাদ্যের ঈশ্বরী।’

শ্বেতপদ্ম সরস্বতীর আসন। হংস তাঁর বাহন। দেবীর বাহন হংসের তাৎপর্য হল হংস দুধ ও জলের মিশ্রন থেকে শুধু দুধটুকুই খুঁজে বের করে নিতে পারে। হংস আবার কর্দমমিশ্রিত স্থান থেকে খাদ্য বের করে আনতে পারে। হংসের এই বিচক্ষণতা বুঝতে প্রয়াস পায় জ্ঞানী ব্যক্তিরা। সৎ ও অসতের মধ্য থেকে সৎ ও সুন্দর জিনিসটি বেছে নেওয়ার শিক্ষাই এখানে প্রকাশিত। নিজের কল্যাণ, সমাজের কল্যাণ ও জীবের কল্যাণের জন্য মা সরস্বতীর আর্শিবাদ প্রার্থনা করা হয় এ পূজায়। বিভিন্ন পুরাণে দেবী সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেওয়া হয়েছে। তন্মধ্যে মার্কেন্ডেয় পুরাণ, বায়ুপুরাণ ও গড়ুরপুরাণ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বেদে সরস্বতী, ‘দেবীতমে’, ‘অম্বিতমে’ ও ‘নদীতমে’ নামে আখ্যায়িতা। এভাবে সরস্বতীর মহিমাও ত্রিবিধ- দেবী, মাতা ও নদীরূপা। জ্যোতিরূপিনী- প্রকাশময়ী, জ্ঞানদায়িনী মা সরস্বতী । তাই তিনি বাগ্দেবী বা বিদ্যাদেবী। দেবীকে পুস্পাঞ্জলি দেয়া হয় এই মন্ত্রে-
‘ওঁ সরস্বত্যৈ নমোনিত্যং ভদ্রকাল্যৈ নমো নম ঃ ।

বেদ বেদাঙ্গ বেদান্ত বিদ্যাস্থানেভ্য এব চ স্বাহা।
এষ সচন্দন পুস্প বিল্ব পত্রাঞ্জলিঃ ওঁ  সরস্বতৈ নমঃ

অর্থাৎ দেবী ভদ্রকালী সরস্বতীকে নিত্য’ পুনঃপুনঃ প্রনাম এবং বেদ বেদান্ত ও বিদ্যাস্থান সমূহে প্রণাম করি। দেবী সরস্বতীর নিকট আমাদের প্রার্থনা- তুমি আমাদের জ্ঞান দাও, বুদ্ধি দাও ভক্তি দাও। শুভ ও মঙ্গলের বার্তা ও আবহ দিয়ে জগৎকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত কর।

আলোকের ঝর্নাধারায় ধুয়ে মুছে যাক নীচতা, হীনতা, দীনতা ও সাম্প্রদায়িকতার ভেদবুদ্ধি। ঐক্যবদ্ধ বাঙ্গালি জাতি আজ সগর্বে মাথা উচু করে ঘোষণা করছে- ধর্ম যার যার উৎসব সবার। বাংলার হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ খ্রিস্টান সবাই মিলে যুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে হলে বাঙ্গালির হাজার বছরের ঐতিহ্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখতে হবে যে কোন মূল্যে।

সে লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন আমাদের প্রাণ প্রিয় নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। সব হারিয়েও যিনি আমাদেরকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আলোকিত কান্ডারি। ‘দেশররত্ম’ থেকে ‘বিশ্বরত্ন’র মর্যাদায় আসীন শেখ হাসিনা দেশবাসীর জন্য উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির মন্ত্রে এক হয়ে কাজ করার অনুপ্রেরণা। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে সকলের কল্যাণ নিশ্চিত হোক তাঁরই সূচিত ভিশন ২০২১ এর আলোকে। সরস্বতী পূজার শুভলগ্নে এই প্রার্থনা ।

ব্রেকিং নিউজঃ