| |

‘ব্রহ্মপূত্রর খননকৃত মাটি দিয়ে দু’পাড়ে বাঁধ ও মহাসড়ক নির্মাণের নির্দেশ’

আপডেটঃ ৫:৩৯ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৯

Ad

মো. নজরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ : প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনার একান্ত আগ্রহ মৃতপ্রায় পুরাতন ব্রহ্মপূত্র খননের মাধ্যমে এ অঞ্চলে আরো বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করা। তিনি বলেন ব্রহ্মপূত্র পূর্বতীর দেওয়ানগঞ্জ থেকে ভৈরব বাজার পর্যন্ত বেরীবাঁধ নির্মাণ করে বাঁধের উপর সুপ্রশস্ত সড়ক ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের জন্য সড়ক পরিবহন ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। এটি নির্মিত হলে নৌপথের পাশাপাশি সড়ক পথেও যাত্রী ও মালামাল পরিবহন আরো সহজতর হবে।
নৌপরিবহন সচিব মোঃ আব্দুস সামাদ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্প সম্পন্ন করতে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করে বলেছেন, ব্রহ্মপূত্রে খননকৃত মাটি দিয়ে নদের দুতীরে বাঁধ নির্মাণ ও বাঁধের উপর প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ করার উদ্দ্যোগ হবে একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। সেইসাথে ব্রহ্মপূত্র নদের দুতীরে সীমানা নির্ধারণ কাজ সম্পন্ন করে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে বুড়িগঙ্গার মতো মজবুত পিলার স্থাপন করা হবে। তিনি আরো বলেন, ব্রিকস ফিল্ডের জন্য খননকৃত ব্রহ্মপূত্রের মাটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
আন্তর্জাতিক নৌ প্রটোকল রুট হিসেবে পণ্য ও যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল নিশ্চিত করর লক্ষ্যে এককালের খর¯্রােতা এশিয়া মহাদেশের গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘতম নদ পুরনো ব্রহ্মপুত্র খনন কাজের শুরুতেই মাটি ফেলা নিয়ে নানা বিপত্তি দেখা দিয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ৯০ কিলোমিটার খনন কাজে ব্যবহৃত ২৪ ড্রেজারের মাঝে মাত্র ৯টি চালু হয়েছে। মাটি ফেলার জন্য জায়গা এখনো নির্ধারিত না হওয়ায় ১৫টি ড্রেজার অলস বসে আছে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ।
ব্রহ্মপূত্র নদ খনন সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে এমসিসি’র শাহাবুদ্দিন হলরুমে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ব্রহ্মপূত্র নদ ড্রেজিং এর উপর বিস্তারিত প্রেজেন্টেশন ও বক্তব্য উপস্থাপন করে বিআইডব্লিউটিএ-এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা উন্নয়ন ও পূনরুদ্ধার প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক রকিবুল ইসলাম তালুকদার।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নৌপরিবহন সচিব মোঃ আব্দুস সামাদ, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমোডর এম. মাহবুব উল ইসলাম, ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি, ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মোঃ মিজানুর রহমান, ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার শাহ মোঃ আবিদ হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকা, জেলা নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান খান, মহনগর আওয়ামীলীগ সভাপতি এহতেশামুল আলম, পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল হক, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম চুন্নু, অ্যাডভোকেট শিব্বির আহমেদ লিটন, ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম, গৌরীপুরে ভাংনামারি ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মফিজুন নূর খোকা, বালিপাড়া ইউপি চেয়াম্যান গোলাম মোহাম্মদ বাদল, মোঃ শহীদুল্লাহ, মোঃ সুলায়মান হোসেন প্রমূখ।
সমন্বয় সভায় ড্রেজিং এর উপর বিস্তারিত প্রেজেন্টেশন ও বক্তব্য উপস্থাপন করে বিআইডব্লিউটিএ-এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা উন্নয়ন ও পূনরুদ্ধার প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক রকিবুল ইসলাম তালুকদার জানান, নদের বাক সমূহের ভাঙ্গণ রোধে বাকসমুহকে সোজা করে খনন করা হবে। নদের উপরিভাগ এক কিলোমিটারের মধ্যে নীতিমালা অনুসারে সরকারী, বেসরকারী, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠ, ঈদগাহ, হাট-বাজার, খাস জমিসহ ইত্যাদি। এসব স্থান না পাওয়া গেলে বেসরকারী জমি ভাড়া নিয়ে মাটি স্তুপ করে রাখা হবে এবং তা সরকারী নিয়মে বিক্রি করা হবে।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ-এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা উন্নয়ন ও পূনরুদ্ধার প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক রকিবুল ইসলাম তালুকদার জানান, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্য ফিরিয়ে আনতে দুই হাজার ৭শত ৬৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে যমুনা-ব্রহ্মপুত্রের সংযোগস্থল জামালপুরের কুলকান্দি থেকে গাজীপুরের কাপাশিয়ার টোক পর্যন্ত ২২৭ কিলোমিটার নদের ময়মনসিংহ অংশের ৯০ কিলোমিটার খননের কাজ চলছে। ৩২০ ফুট প্রশস্ত এবং শুকনো মৌসুমে ১০ফুট গভীরতা নিশ্চিত করে নদটি খনন করা হবে। ব্রহ্মপূত্র নদের ২২৭ কিলোমিটার খননে মোট ৮.৮ কোটি ঘন মিটার মাটি উত্তোলন করা হবে। এতে প্রচুর জায়গার প্রয়োজন রয়েছে। তবে খননকৃত মাটি ফেলা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে জটিলতা। তিনি আরো বলেন, মাটি অবশ্যই নদীর উপরিভাগে ফেলব। উপরে ফেলতে না পারলে নদী কাটা যাবে না। এজন্য সকলকে সহায়তা করতে হবে।
অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম আরো জানান, ইতিমধ্যেই জামালপুর অংশের ব্রহ্মপূত্র নদের খনন কাজের দরপত্র আহবান করা হয়েছে। আগামী মাসে দাখিলকৃত দরপত্রগুলোর মূল্যায়ন করা হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ