| |

আজ পবিত্র আশুরা

আপডেটঃ ৩:৪৯ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯

Ad

আজ মঙ্গলবার, ১৪৪১ হিজরি বর্ষের ১০ মহররম, পবিত্র আশুরা। বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের কাছে দিনটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্র্ণ ও তাৎপর্যময়। ইসলাম ধর্মমতে, মহান আল্লাহ এই দিনেই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। এই দিনেই বিশ্বে সংঘটিত অলৌকিক অনেক ধর্মীয় ঘটনার কারণে সব আসমানি কিতাবের অনুসারীদের কাছেই ১০ মহররম বিশেষভাবে মহিমান্বিত। মানব জাতির আদি পিতা হজরত আদম (আ.) ও মা হাওয়া (আ.) বেহেশত থেকে পৃথিবীতে এই দিনেই আগমন করেন। বহু বছরের প্রার্থনার পর এই দিনেই তাঁরা মহান আল্লাহর ক্ষমা লাভ করেন এবং আরাফার ময়দানে তাঁদের পুনরায় সাক্ষাৎ ঘটে। এ ছাড়া এই দিনেই ঐতিহাসিক কারবালা প্রান্তরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) সপরিবারে মর্মান্তিকভাবে শাহাদাতবরণ করেন। হিজরি ৬১ সালের ১০ মহররম কারবালা প্রান্তরে ইসলামের সুমহান আদর্শের পতাকা সমুন্নত রাখতে ১০ দিন অবরুদ্ধ থেকে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) নির্মমভাবে শাহাদাতবরণ করেন। তবু মদ্যপ, ব্যভিচারী ও বেনামাজি ইয়াজিদকে ইসলামের খলিফা হিসেবে মেনে নেওয়ার অন্যায় দাবির কাছে নতিস্বীকার করেননি তিনি। এভাবেই নবী-দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) উম্মতে মোহাম্মদীর সামনে কোনো ধরনের অন্যায়, জুলুম ও অত্যাচারের কাছে নতিস্বীকার না করার দৃষ্টান্ত রেখে যান। ইসলামের ইতিহাসের মর্মান্তিক ও বিয়োগান্তক এ ঘটনা বেদনার বিশেষ মাত্রা দিয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে দিনটি পালনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। আশুরা উপলক্ষে বাংলাদেশে আজ সরকারি ছুটি। শিয়া সম্প্রদায় দিনটিকে শোক ও মর্সিয়া দিবস হিসেবে পালন করে থাকে। রাজধানীতে হোসনি দালান ও মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আজ তাজিয়া মিছিল বের করবেন শিয়া সম্প্রদায়ের সদস্যরা। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ পৃথক বাণী দিয়েছেন।

সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রস্তুতি : পবিত্র আশুরা ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শিয়া সম্প্রদায়ের এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানের তাজিয়া শোকমিছিল ও অন্যান্য অনুষ্ঠান ঘিরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পাশাপাশি এলিট ফোর্স র‌্যাব রাজধানীসহ দেশের সব কটি শিয়া অধ্যুষিত এলাকায় নিয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। মূলত জঙ্গি হামলার আশঙ্কা থেকেই বিভিন্ন সংস্থা নি-িদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। রবিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের মাসিক (আগস্ট) অপরাধ পর্যালোচনা সভায় আশুরায় নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়। পরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘শিয়া সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা শোকমিছিলের রুট নির্ধারণ করেছি।

নির্ধারিত রুট ও সময়সীমা মেনে এবং নির্ধারিত সময়ে তাজিয়া মিছিল শুরু ও শেষ করতে হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে শোকমিছিলে ব্যবহƒত নিশানের উচ্চতা ১২ ফুটের বেশি হবে না। মিছিলে কোনো পাইক অংশগ্রহণ করতে পারবে না। তাজিয়া শোকমিছিলকে ঘিরে পর্যাপ্তসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করবেন আয়োজকরা। স্বেচ্ছাসেবকরা নির্ধারিত পোশাক, আর্মড ব্যান্ডসহ ছবি-সংবলিত আইডি কার্ড প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে রাখবেন।’ তিনি যোগ করেন, শোকমিছিলে কেউ অংশগ্রহণ করতে চাইলে তাকে মিছিল শুরুর স্থানে যেতে হবে। রাস্তার মধ্যে বিভিন্ন অলিগলি থেকে তাজিয়া শোকমিছিলে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না।

এর আগে নিরাপত্তার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে শনিবার পুরান ঢাকার হোসনি দালান ইমামবাড়াকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেন ডিএমপি কমিশনার। শিয়া সম্প্রদায়ের নেতাদের উপস্থিতিতে হোসনি দালান ইমামবাড়ায় আশুরা ও তাজিয়া শোকমিছিলের নিরাপত্তা সম্পর্কে ডিএমপি কমিশনার বলেন, তাজিয়া শোকমিছিল উপলক্ষে বড় কাটারা ইমামবাড়া, খোজা শিয়া অনুসারী ইমামবাড়া এবং বিবিকা রওজায় নেওয়া হয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা মাথায় রেখেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে।

পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ২০১৫ সালের ২৪ অক্টোবর গভীর রাতে পুরান ঢাকার হোসনি দালান ইমামবাড়ায় বোমা হামলা চালায় জঙ্গিরা। এতে অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটে। সেই থেকে প্রতিবছরই জঙ্গি হামলার আশঙ্কা মাথায় রেখে নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে পালিত হবে তাজিয়া শোকমিছিল। পুরো অনুষ্ঠান আনা হয়েছে সিসি ক্যামেরার আওতায়। এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগদানকারীদের, অর্থাৎ প্রত্যেক দর্শনার্থীকে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে দেহ তল্লাশি করে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করানো হবে। ডিএমপির ডগ স্কোয়াড অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বে প্রতিটি অনুষ্ঠানস্থল সুইপিং করবে। যেসব রুট দিয়ে শোকমিছিল যাবে সেসব রুটে থাকবে রোড ব্যারিকেড ব্যবস্থা, গাড়ি ও ফুট প্যাট্রলিং। মিছিলের আগে, মাঝে, পাশে ও পেছনে থাকবে পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শোকমিছিলের নিরাপত্তায় সাদা পোশাকে ও ইউনিফর্মে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। সেই সঙ্গে তাজিয়া শোকমিছিলে কোনো ধরনের ধারালো অস্ত্র, ধাতব পদার্থ, দাহ্য পদার্থ, ব্যাগ, পোঁটলা, চায়ের ফ্লাস্ক, প্রেশার কুকার, লাঠি, ছোরা, চাকু, তলোয়ার, বর্শা, ঢাক-ঢোল বাজানো, উচ্চ শব্দে পিএ সেট বাজানো, আগুন ও আতশবাজির ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে। পোশাকেও ধাতব পদার্থ, ছুরি, চাকু, ব্লেড, তলোয়ার প্রভৃতি ব্যবহার করা যাবে না। এর আগে হোসনি দালান ইমামবাড়ায় বোমা হামলার ঘটনায় অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘পবিত্র আশুরা উপলক্ষে র‌্যাবের প্রতিটা ব্যাটালিয়নকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যে কোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় র‌্যাব সদস্যরা প্রস্তুত। কোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে পোশাকে এবং সাদা পোশাকে র‌্যাব সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। ইতিমধ্যে ডিএমপি থেকে এ-সংক্রান্ত কিছু নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি এসব বিষয় মাথায় রেখেই অনুসারীরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।’

ব্রেকিং নিউজঃ