| |

বিশ্ব ভালবাসা দিবস

আপডেটঃ 3:09 am | February 13, 2016

Ad

সেলিম হোসাইনঃ
ভালবাসা (খড়াব) শাব্দিক  অর্থে কারো প্রতি অনুরক্ত হয়ে প্রীতিয্ক্তু বা আসক্ত হওয়া, পছন্দ করা, শ্রদ্ধা করা, ভক্তি করা, অনুরাগ,আসক্তি, বন্ধুত্ব, স্নেহ প্রীতি, টান।
ভালবাসা-
বিশেষ কোন মানুষের জন্য স্নেহের শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে ভালবাসা। তবুও ভালবাসাকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে ভাগ করা যায়। আবেগধর্মী ভালবাসা সাধারণত গভীর হয়, বিশেষ করে সাথে নিজের সকল মানবীয় অনুভূতি ভাগ করে নেওয়া এমনকি শরীরের ব্যাপারটাও এই ধরনের ভালবাসা থেকে পৃথক করা যায় না। ভালবাসা বিভিন্ন রকম হতে পারে। যেমন-ধর্মীয় ভালবাসা, আত্বীয়দের প্রতি ভালবাসা ইত্যাদি। আরো সঠিক ভাবে বলতে গেলে যে কোন ব্যক্তি বা বস্তুর প্রতি অতিরিক্ত স্নেহ প্রায় সময় খুবই আনন্দদায়ক হতে পারে। এমন কি কোন কাজ কিংবা খাদ্যের প্রতিও। আর এই অতি আনন্দদায়ক অনুভূতিই হল ভালবাসা।
ভালবাসার সংজ্ঞা বিতর্ক, অনুমান এবং অন্তদর্শনের উপর প্রতিষ্ঠিত। তবে সব ধরনের ভালবাসাকে শারীরিক আকর্ষণের উপর ভিত্তি করে শ্রেণী বিন্যাস করা যায়। পৃথিবীতে এমন কোন মানুষ খুজে পাওয়া যাবে না যে, তার মাঝে কোন ভালবাসা নাই এমন মানুষ অন্তত আমার চোখে পড়ে নি। ভালবাসা শব্দটি খুব সহজেই সকলের সহজ সহজাত প্রবৃত্তির সাথে মিশে যায়। কেন না মানুষ জন্মের পর থেকেই এই ভালবাসাকে কেন্দ্র বেড়ে ওঠে। তাই এই ভালবাসার দিনটিকে ঘিরে প্রত্যেক মানুষের অন্য রকম ভাবনা। ভালবাসার দিনটির গল্পটিও গোলাপের মতই রঙ্গিন।
বিশ্ব ভালবাসা দিবস বা ভ্যালেন্টাইন ডে খুঁজে দেখি ইতিহাসের পাতায়-
আমাদের দেশে ১৯৯৩ সালের দিকে এই ভালবাসা দিবসের আর্বিভাব ঘটে। সাংবাদিক ও মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব শফিক রেহমান পড়াশোনা করেছেন বিদেশে (লন্ডনে) তিনি পাশ্চাত্বের রীতি নীতিতে ছিলেন অভ্যস্থ। দেশে ফিরে তিনিই ভালবাসা দিবসের শুর করেন। এ নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও শেষ পর্যন্ত শফিক রেহমানের চিন্তুাটি তরুণ সমাজকে বেশি আকর্ষণ করে। বছর ঘুরে ১৪ ফেব্রয়ারির এই দিনটি সবার মনকে রাঙিয়ে গেলেও এই ভালাবাসা এক দিনের নয়, প্রতিদিনের।
আশা যেমন মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে তেমনি, আপন জনের ভালবাসাও মানুষকে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে। তিমনি শিখায়ছে। নতুন করে বাঁচতে। কিন্তু সে ভালবাসা কজনই বা পায়? আজকাল ভালবাসার নামে কত কিছুই না দেখছে এ সমাজ। কত কিছুই না ঘটে যাচ্ছে সমাজে। ভালবাসা দিবসে এই দিনে পার্কে, হোটেল, রেঁস্তরা গুলেতে ইভটিজিং যৌন হয়ারানির মত ঘটনা,  তার জন্য দায়ী কে ? আমার মনে হয় এর জন্য আমরাই দায়ি। তাই যদি হয় তাহলে আমরা কি পারি না আমাদের সমাজে তরুণ/তরুণীদের কে ভালবাসা দিবস এর নামে নষ্টামি, হিংস্র ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে?
সেন্ট ভ্যালেন্টাইন’স ডে এর অন্য নাম ফিস্ট অব সেন্ট ভ্যালেন্টাইন।
ভালবাসার দিবস বা সেন্ট ভ্যালেন্টাইন’ ডে- একটি বার্ষিক উৎসবের দিন যা ১৪ই ফেব্রুয়ারি ভালবাসা এবং অনুরাগের মধ্যে উদযাপিত হয়ে থাকে। বিশ্বের প্রায় অধিকাংশ দেশে এর দিবসের কোন ছুটি নেই।
ইতিহাস- খ্রিঃ পূর্ব ২৬৯ সালে ইতালির রুম নগরীতে সেন্ট ভ্যালেন্টাইন’স নামে একজন খৃষ্টানি পাদ্রি ও চিকিৎসক, সামাজিক, সদালাপি ও শিশু প্রেমি ছিলেন। ধর্ম প্রচারের অভিযোগে তৎকালীন রুম সম্রাট দ্বিতীয় ক্রডিয়াস তাকে বন্দী করেন। কারণ তখন রোমান সম্রাজ্যে খৃষ্টান ধর্ম প্রচার নিষিদ্ধ ছিল। সেন্ট ভ্যালেন্টাইন বন্দী থাকা কালে অনেক যুবক/যুবতী তাকে দেখতে আসত। তাদের মধ্যে একজন কারারক্ষীর দৃষ্টিহীন মেয়েও ছিল। তার সাথে অনেক সময় ধরে কথা বলত। এবং একসময় তার প্রেমে পড়ে যায়। এ অবস্থায় তিনি জনৈক কারারক্ষীর দৃষ্টিহীন মেয়েকে সেন্ট ভ্যালেন্টাইন আধ্যাত্বিক চিকিৎসার মাধ্যমে মেয়েটিকে সুস্থ করে তুলেন এবং মেয়েটি তার দৃষ্টি শক্তি ফিরে পায়। এতে সেন্ট ভ্যালেন্টাইন এর জনপ্রিয়তা অনেক বেড়ে যায় এবং তাকে কারাগারে অনেক যুবক/যুবতী দেখতে যান। সেন্ট ভ্যালেন্টাইন এর জনপ্রিয়তার প্রতি ইর্ষান্বিত হয়ে রাজা তাকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করেন। সেই দিনটি ছিল ১৪ই ফেব্র“য়ারি।
অতঃপর ৪৯৬ সালে পোপ সেন্ট জেলাসির্ডও প্রথম জুলিয়াস ভ্যালেন্টাইন’স স্বরণে ১৪ই ফেব্র“য়ারী কে বিশ্ব ভালবাসা বা ভ্যালেন্টাইন’স ডে হিসেবে ঘোষণ করেন। খ্রিস্ট্রীয় জগতে পাদ্রী-সাধু সন্তানদের স্বরণ ও কর্মের জন্য এ ধরনের অনের দিবস রয়েছে। যেমন ২৩ই এপ্রিল সেন্ট মার্টিন ডে, ১১ই নভেম্বর জজ ডে প্রভৃতি।
খ্রিষ্টান ইতিহাস মতে রোমান সম্রাট ক্রডিয়াসের দরকার ছিল এক সৈন্য বাহিনী। এক সময় তার সৈন্য দলে সৈন্য সংকট দেখা দেয়। কিন্তু কেউ তার সৈন্য বাহিনীতে যোগ দিতে আগ্রহ দেখাত না। রাজা জানত, অবিবাহিত যুবকরা যুদ্ধের কঠিন মুহুর্তে অত্যাধিক ধৈর্যশীল হয়। তাই তিনি যুবকদের বিবাহের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। যুবক/যুবতীরা তার এর ঘোষণায় ক্ষেপে যায়। সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামে এক যুবক কিছুতেই এ ঘোষণা মেনে নিতে পারে নি। সেন্ট ভ্যালেন্টাইন রাজার নিষেধ অমান্য করে ভালবেসে বিয়ে করেন। এবং গোপনে মোমবাতি জালিয়ে অনেক যুবক/যুবতীর বিয়ের কাজ সম্পন্ন করেন সেন্ট ভ্যালেন্টাইন। রাজা বিষয়টি জানতে পেরে তাহার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যার নির্দেশ দেন। আর সেই দিনটি ছিল ১৪ই ফেব্র“য়ারি।
পাশ্চাত্যের সবক্ষেত্রে ভোগের বিষয়টি মুখ্য। তাই তারা গির্জার অভ্যন্তরে মদ্য পান করতে কোন দিধাবোধ করত না। খৃস্ট্রীয় ভ্যালেনটাইন দিবসের চেতনা হারিয়ে যাওয়ায় ১৭৭৬ সালে ফ্রান্স সরকার কর্তৃক ভ্যালেন্টাইন উৎসব নিষিদ্ধ করা হয়। এছাড়াও সময়ের পালাক্রমে বিভিন্ন সময় এ দিবসটি অনেক দেশে  নিষিদ্ধ হয়েছে। বর্তমান কালে পাশ্চাত্যে এ উৎসব মহাসমারোহে উদযাপন করা হয়। নষ্ট হয় অনেক সময়। আবার অপচয় বা ব্যয় হয় কোটি কোটি টাকা। এক তথ্যমতে শুধুমাত্র যুক্তরাজ্যে মোট জনসংখ্যার অর্ধেক প্রায় একশত কোটি পাউন্ড ব্যয় করে এই ভালবাসা দিবসের জন্য কার্ড, ফুল, চকলেট সহ অন্যান্ন উপহার সামগ্রী ক্রয় করে। আনুমানিক ২.৫ কোটি শুভেচ্ছা কার্ড আদান প্রদান করা হয়। এবং বাংলাদেশে যুবক/যুবতীরা ভালবাসা দিবসে কার্ড, ফুল, চকলেট সহ অন্যান্য উপহার সামগ্রী ক্রয় করে লক্ষ লক্ষ টাকা অপব্যয় করে। ফোনালাপে মাধ্যমে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলে উড়িয়ে দিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। এতে ক্ষতি হচ্ছে লেখা-পড়া, নষ্ট হচ্ছে সামাজিক পরিবেশ, সৃষ্টি হচ্ছে সামাজিক বিশৃঙ্খলা, বাড়ছে পারিবারিক কলহসহ নানাবিধ সমস্যা।

ব্রেকিং নিউজঃ