| |

ছাত্রলীগে পক্ষ থাকবে না, সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবো, বললেন লেখক ভট্টাচার্য

আপডেটঃ ১০:৫৭ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯

Ad

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের। চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগে বাদ পড়া শোভন-রাব্বানীর কমিটির এ প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাঙালি জাতির বিভিন্ন সঙ্কটে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করা এ সংগঠনটির ইতিবাচক ভাবমূর্তি বিনির্মাণের মাধ্যমে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে চান।

দায়িত্ব নিয়েই স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, সামনের দিনগুলোতে ছাত্রলীগে আর কোন পক্ষ থাকবে না। সংগঠনের সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবে। বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ছাত্রলীগ কাজ করবে। নেত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সঙ্গে কাজ করবে ছাত্রলীগ।

রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম কালের আলো’র সঙ্গে আলাপে এসব কথা বলেন লেখক ভট্টাচার্য। যশোরের মনিরামপুরের এ সন্তান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যের ভাতিজা। শোভন-রাব্বানীর কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ও জগন্নাথ হল শাখার বিগত কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

নেত্রীর উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে
লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ছাত্রলীগের একমাত্র অভিভাবক জননেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আস্থা রেখেই আমাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছেন। দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আমরা দেশরত্ন শেখ হাসিনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সর্বাত্নক চেষ্টা করবো।

এক ব্যানারে থাকবে ছাত্রলীগ
‘আমরা বিভিন্ন সময় খেয়াল করেছি যে বিভিন্ন কমিটিতে আসলে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের অনুসারী একটা পক্ষ আর তাদের যারা অনুসারী নয় তাদের আরেকটা পক্ষ তৈরি হয়ে যায়। কিন্তু আমাদের সময়ে ছাত্রলীগে কোন পক্ষ থাকবে না। সবাই এক এবং ঐক্যবদ্ধ থাকবো। বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে এক ব্যানারে দাঁড় করানোই হচ্ছে আমাদের প্রধান লক্ষ্য’ দৃঢ়তার সঙ্গেই বলেন ছাত্রলীগের নতুন এ সাধারণ সম্পাদক।

সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত হতেই জেলা কমিটি পূর্ণাঙ্গ
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নতুন এ কান্ডারি বলেন, সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করবো। প্রথমেই আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির সবাইকে নিয়ে একটা কর্মী সভা করবো।

বিগত কমিটির পর বিভিন্ন কমিটির ক্ষেত্রে আমরা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলাম। সে হিসেবে কোন জায়গায় কোন কমিটি কী অবস্থায় আছে, সে সম্পর্কে আমাদের ধারণা আছে। নথিও আছে আমাদের কাছে।

তিনি বলেন, ‘একসাথে তো আর সবকিছু করা সম্ভব না। তবে যত দ্রুত সম্ভব আমরা এসব করে ফেলবো। প্রথমেই আমাদের টার্গেট হবে, সামনের সম্মেলনের জন্য প্রত্যেকটা জেলা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করে সম্মেলনের জন্য পুরো প্রস্তত হওয়া।’

নিয়মিত ছাত্ররাই ছাত্রলীগ করবে
কালের আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে ছাত্রলীগের বিগত তিন কমিটির তিন শীর্ষ নেতার প্রত্যাশার সঙ্গে একমত পোষণ করে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ‘অবশ্যই নিয়মিত ছাত্ররা ছাত্রলীগ করবে। আমাদের দেশরত্ন শেখ হাসিনা সব সময় যে কথাটা বলেন যে, শুধুমাত্র ভাল কর্মী হলেই হবে না, ভাল ছাত্রও হতে হবে।

ভাল ছাত্রের যে গুণাবলি সেই গুণাবলিও থাকবে যাতে রাজনৈতিকভাবে সফলতা না আসলেও আমাদের ক্যারিয়ারের ওপর কোন প্রভাব না পড়ে। এভাবেই প্রতিটি কর্মীকে গড়ে তুলতে চাই আমরা।

ছাত্রলীগ নিয়ে নেত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চাই
ছাত্রলীগ নিয়ে নেত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চাই, আশাবাদী উচ্চারণ লেখক ভট্টাচার্যের। সংগঠনটির এ নতুন সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা ছাত্রলীগকে এমন একটা জায়গায় নিয়ে যেতে চাই, যেখানে ছাত্রলীগের কথা মনে হলেই যেন নেত্রীর মনে প্রশান্তি তৈরি হয়। ছাত্রলীগ নিয়ে নেত্রী যে স্বপ্ন দেখেন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চাই।

ব্রেকিং নিউজঃ