| |

তৃণমূলের কোন্দলের জন্য দায়ী কেন্দ্রীয় নেতারাই

আপডেটঃ ৬:০১ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯

Ad

আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিরোধ নিয়ে কড়া অবস্থানে গেলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সুত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনে কঠোর অবস্থানে গ্রহণ করেছেন এবং তিনি গতকাল দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এটা স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, তৃণমূলের কোন্দলের জন্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাই দায়ী। তৃণমূলকে পকেটস্থ করতে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতারা নিজেদের মত করে স্থানীয় কমিটি সাজাতে চায়, তৃণমূলের নেতৃত্বে নিতে চায়। কেন্দ্রীয় নেতার পছন্দের হলেই তৃণমূলের নেতৃত্ব পাওয়া যাবে এবং পছন্দ না হলে তাকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে যতই অবসান দলে থাকুক না কেন। এই নীতি থেকে সরে আসতে বলেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে আগামী ২০ এবং ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন হবে। এই কাউন্সিল অধিবেশনের আগেই স্থানীয় পর্যায়ের সম্মেলনগুলো সম্পন্ন করার নির্দেশনাও তিনি দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মোট ৭৮ টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে মাত্র একটিতে সম্মেলন অনুষ্ঠিত করা সম্ভব হয়েছে। বাকিগুলোতে করা সম্ভব হয়নি। আওয়ামী লীগ সভাপতি আগামী দুইমাসের মধ্যে বাকি সাংগঠনিক জেলাগুলোতে সম্মেলন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে তিনি সুনির্দিষ্ট গাইডলাইনও দিয়েছেন দলের নেতাকর্মীদের। এর মধ্যে রয়েছে-

১.  সম্মেলনগুলো আয়োজন করতে হবে স্বচ্ছতার সঙ্গে।

২. সম্মেলনের নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ভোটের মাধ্যমে।

৩. এসব সম্মেলনে স্থানীয় এমপি, কেন্দ্রীয় নেতা বা মন্ত্রীদের হস্তক্ষেপ চলবে না। সম্মেলনকে স্বচ্ছতার সঙ্গে স্বতস্ফুর্তভাবে করতে হবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এখন দলকে একটি মেধা মননভিত্তিক রাজনৈতিক দল হিসেবে মনন্তরের প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা। তিনি বলেছেন যে, তিনি এখন দলে সন্ত্রাসী, চাদাবাজ বা দলকে ব্যবহার করে যারা বিভিন্ন রকম ব্যবসা বাণিজ্য বা ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করে তাদেরকে প্রশ্রয় দিবেন না। এসব ব্যাপারে তিনি শূন্য সহিষ্ণুতা গ্রহণ করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, আওয়ামী লীগ সভাপতি একাধিক বৈঠকে বলেছেন দলে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে দলের মধ্যে সুবিধাবাদীদের প্রভাব বেড়ে যায়। তারা নিজেদের আখের গোছানোর জন্য, ব্যবসায়িক স্বার্থহাসিলের দলকে ব্যবহার করতে চায়। এটা কঠোরভাবে দমন করতে হবে। দল যেন জনগণের আস্থা না হারায় সে ব্যাপারেও নজরদারি বাড়াতে হবে। আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো বলছে, আগামী কাউন্সিলের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ একটি নবযাত্রার সূচনা করবে। যেখানে যাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বা অন্যরকম অভিযোগগুলো রয়েছে সেই অভিযুক্তরা কেউই দলের নেতৃত্বে ঠাঁই পাবে না এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি এ ব্যাপারে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতিতে রয়েছেন।

ব্রেকিং নিউজঃ