| |

প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলেই প্রশাসনে শুদ্ধি অভিযান

আপডেটঃ ১:৪৫ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ০৬, ২০১৯

Ad

প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে শুরু হবে প্রশাসনের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান। বর্তমানে যে শুদ্ধি অভিযান চলছে তা শুধু আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান হিসাবে অভিহিত করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের ভিতরে থেকে অনুপ্রবেশকারীরা যারা আওয়ামী লীগের ভেতরে ঢুকে আওয়ামী লীগের ভাবমুর্তি নষ্ট করছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে এবং এই অভিযানে দেখা যাচ্ছে যে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তারা কী পরিমাণ সম্পেদের মালিক হয়েছেন এবং অবৈধ তৎপরতার মাধ্যমে তারা দলের ভাবমুর্তি নষ্ট করেছেন সেটি প্রমাণ করা হচ্ছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

শুদ্ধি অভিযান নিয়ে অনুসন্ধান এবং তদন্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্তদের প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, রাজনীতিবিদের কারা খারাপ করেছে, রাজনীতিবিদরা কাদের যোগসাজশে এসমস্ত অবৈধ তৎপরতা করেছে সেটাও খুঁজে বের করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনার প্রেক্ষিতে গোয়েন্দা সংস্থার একটি উচ্চ পর্যায়ের দল, আইন প্রযোগকারী সংস্থাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে অনুসন্ধান করে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে। গোয়েন্দাসূত্রে জানা গেছে যে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে এই ব্রিফিং প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হবে।

জানা গেছে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রশাসনের বিভিন্ন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরী করা হয়েছে এবং কারা কারা অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন তাদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেলেই শুদ্ধি অভিযানে দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হবে এবং সেটা ‘প্রশাসনে শুদ্ধি অভিযান’ হিসেবে অবিহিত করা হবে জানা গেছে। তিনটি গোয়েন্দা সংস্থা এ ব্যাপারে অনুসন্ধান পরিচালানা করেছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর জন্য ইতিমধ্যে যে ব্রিফ তৈরী করা হয়েছে  যেটি প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে দেওয়া হবে তাতে দেখা যাচ্ছে যে, সাত জন সচিবের বিপুল সম্পদের খবর পাওয়া গেছে। একজন প্রাক্তন সচিব যিনি মুক্তিযুদ্ধা সার্টিফিকেট জাল করে চাকরি থেকে অব্যহত নিয়েছিলেন ঢাকার উপকণ্ঠে তার বিশাল বাগান বাড়ি এবং কয়েকশ বিঘা জমির সন্ধান পাওয়া গেছে। সচিবদের মধ্যে থেকে বর্তমান ও সদ্য অবসরে যাওয়া সচিবদের তিনজনের বিদেশে বাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং তাদের পরিবার সেখানে অবস্থান করে। একজন উর্ধ্বতন যুগ্মসচিবের বিশাল বাগান বাড়ি পাওয়া গেছে  এবং সেই বাগান বাড়িতে অনেক রাজনৈতিক নেত্রীবৃন্দ যান বলে জানা গেছে। বিভিন্ন অধিদপ্তর, সংস্থা এবং মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলীদের  শতশত কোটি টাকার সম্পদের হিসাব পাওয়া গেছে। এদের অধিকাংশ সম্পত্তি তারা স্ত্রী ছাড়া নিকট আত্মীয়দের নামে এফডিআর বা বিভিন্ন ভাবে বিনিয়োগ করেছেন। একাধিক প্রকৌশলীর নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের খবর পাওয়া গেছে। পুলিশ, কিছু দুদকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচার, বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার তথ্য প্রমাণ এখন গোয়েন্দাদের হতে। জানা গেছে যে, সচিবদের মধ্যে অন্তত দশজন সচিবের ঢাকায় একাধিক বাড়ি রয়েছে। এই বাড়িগুলো বিপুল ব্যায়বহুল। উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের জীবন যাত্রার সাথে তাদের আয়ের কোন সামঞ্জস্য নেই।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩০শে ডিসেম্বর নির্বাচনের পরে দূর্নীতির বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান ঘোষণা করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, প্রশাসনের কর্মকর্তারা দুর্নীতি করলে তাঁদেরকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না। যখন আওয়ামী লীগের ভেতরে দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন এবং টেন্ডারবাজির অভিযোগ এসেছে তখন প্রধানমন্ত্রী আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে বলেছেন যে, রাজনীতিবিদদের একার পক্ষে এইসমস্ত অন্যায়, অনিয়ম করা সম্ভব না। নিশ্চয়ই প্রশাসনের যোগসাজশে এটা করা হয়। কাজেই এটার সঙ্গে প্রশাসনের কারা জড়িত এবং তারা কীভাবে লাভবান হয়েছে, তাদের সম্পদের বিবরণও খুজে বের করতে হবে।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, অন্যান্য অভিযানের সঙ্গে এই অভিযানের মৌলিক পার্থক্য হলো প্রত্যেকটি অভিযানে শুধুমাত্র রাজনীতিবিদদেরকে কালিমালিপ্ত করা হয়, অন্যকাউকে অভিযুক্ত করা হয় না। কিন্তু এই অভিযানে দেখা যাচ্ছে যে, যারা অপকর্ম করে এবং দুর্নীতি করে তারা একটি চক্র। এই চক্রে শুধু রাজনীতিবিদরা না প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সম্মিলিতভাবে একটা অনিয়ম ঘটায়। এই শুদ্ধি অভিযানে এদের সবাইকে শনাক্ত করা হবে এবং সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই একাধিক কর্মকর্তার ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিনান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স।

ব্রেকিং নিউজঃ