| |

ময়মনসিংহে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নে জড়িতরা গোয়েন্দা নজরদারিতে

আপডেটঃ ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ | অক্টোবর ০৯, ২০১৯

Ad

ময়মনসিংহে সরকারদলীয় প্রভাব বিস্তার করে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন এমন নেতারা রয়েছেন একটি গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারিতে । সংশ্লিষ্ট  সূত্র জানায়, নানান কেলেঙ্কারি, ঘুষ, দুর্নীতি, তদবির বাণিজ্য, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নে জড়িতদের তালিকা তৈরি হচ্ছে ।

ইতিমধ্যে তাদেরকে নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে । সূত্রে দাবি, এদের কেও কেও ছাত্রদল, যুবদল এবং বিএনপির’ রাজনীতি করত ।
ইতিমধ্যে সরকারি দলে যুক্ত হয়ে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে । এ তালিকায় রয়েছে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিশকিছু নেতা । সূত্র জানায়, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সরকারি অফিস পুলিশ, সিটি করপোরেশন, বিদ্যুৎ বিভাগ, পানি বিভাগ ইত্যাদি বিভিন্ন সেক্টরে এই নেতারা প্রভাব বিস্তার করেছেন ।

সংশ্লিষ্ট অসাধুদের সাথে আঁতাত করে বদলি, নিয়োগ ,তদবির বা ঘুষ বাণিজ্য লিপ্ত হয়েছে দলীয় প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে ।
আরেক শ্রেণির তথাকথিত নেতারা যুক্ত হয়েছেন মাদক কারবারে । অনেক নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, কমিটি বাণিজ্য করে  ‘আঙুল ফুলে কলা গাছ’ হয়েছেন । নামে বেনামে জমি- জমা, ফ্ল্যাট, ব্যাংক ব্যালেন্স, গাড়িসহ বিত্ত বৈভবে চলেন এবং বিলাসী জীবন যাপন  করেন ।
চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও কমিটি বাণিজ্যের মতো জঘন্য সব অভিযোগে অভিযুক্ত এরা । এতে শিক্ষানগরী ময়মনসিংহের সুনাম বিনষ্ট হয়েছে । এদের কার্যক্রমে অসুন্তুষ্ট হয়ে অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাসও দেয়া হয়েছে । এসবও সংগ্রহ করেছে গোয়েন্দা সংস্থা ।

এদিকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্যাসিনোতে অভিযান ও টেন্ডারবাজ-চাঁদাবাজদের গ্রেফতারের পর নানা শঙ্কায় আছেন ময়মনসিংহের আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সুবিধাবাদী নেতারা।
বিশেষ করে যারা দলীয় পদবি ও সরকারের নাম ভাঙিয়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত তারাই মূলত বেকায়দায় আছেন। নজরদারিতে আছেন এইসব নেতৃবৃন্দ ।

এ কারণে তাদের মধ্যেও আতঙ্ক ভর করেছে। গ্রেফতার হতে পারেন আরও কয়েক রাঘববোয়াল। এদের নামের তালিকাও গোয়েন্দা সংস্থাটির হাতে দেয়া হয়েছে। সবুজ সংকেত পেলেই তালিকাভুক্তদের গ্রেফতার করা হবে।
শুধু চাঁদাবাজ ও টেন্ডারবাজই নয়, বিভিন্ন দুর্নীতি ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে মারামারি-খুনোখুনির সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেকেই নিজেদের গুটিয়ে ফেলেছেন।

গ্রেফতার এড়াতে অনেকের মোবাইল ফোন বন্ধ, উপস্থিতি নেই ফেসবুক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও। নিজস্ব কার্যালয়েও নেই আগের মতো আনাগোনা।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতার কার্যালয়, দলীয় কার্যালয়ে তাদের উপস্থিতি চোখে পড়ছে না। অভিযান আতঙ্কে নিজ বাসায়ও থাকছেন না কেউ কেউ।
কিছু দিন আগেও যারা উঁচু গলায় কথা বলতেন, এখন তাদের অনেকেরই মুখে কুলুপ। জানা গেছে, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও দলীয় রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে দলের বিতর্কিতদের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তালিকায় ময়মনসিংহের সুবিধাবাদী অনেক নেতার নাম রয়েছে। আছে , বিভাগীয় , জেলা উপজেলা পর্যায়ের বেশ কিছু কর্মকর্তার নামও। এলাকায় মাদক, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি, জুয়া, নিজ দলের মধ্যে বলয় সৃষ্টি করতে গিয়ে খুন-খারাবি করা বর্তমান ও সাবেক এমপি,  ও প্রভাবশালী নেতাদের বিরুদ্ধে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করছে গোয়েন্দা সংস্থাটি ।
এসব করে বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছেন । নেতার পদবী ব্যবহার করে কোটিপতি হওয়াদের বিষয়য়েও নজরদারি শুরু করেছে গোয়েন্দা সংস্থাটি ।
সংস্থাটির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অপারগতা প্রকাশ করে জানান, এদের সম্পদের খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের অর্থের উৎস নিয়েও অনুসন্ধান চলছে।

সংস্থাটি বলছে, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিয়েছে, যারা জুয়া, মাদক ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত তাদেরই আইনের আওতায় আনতে হবে। এক্ষেত্রে কারও রাজনৈতিক পরিচয় না দেখার নির্দেশনা আছে ।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বলেছেন, চলমান শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে । আ.লীগ সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে যে অভিযান শুরু করেছেন সেটা শুধু ঢাকায় নয় সারাদেশ তথা ময়মনসিংহেও চলমান রাখতে হবে ।
তারা বলেন, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার জন্য শেখ হাসিনা মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছেন।

কিছু অনুপ্রবেশকারী দলে প্রবেশ করে আমাদের সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগ বিশাল রাজনৈতিক দল, কত দল এদেশে এসেছিল কিন্তু আজকে খুঁজে পাওয়া যায় না, আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ