| |

চাকরি দেয়ার নামে কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা সাবেক এমপি মুক্তি

আপডেটঃ ১১:৫৪ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ১৮, ২০১৯

Ad

ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত সাবেক এমপি সালাহ উদ্দিন আহমেদ মুক্তি চাকরি দেয়ার নামে স্থানীয় এলাকাবাসীর কোটি টাকা মেরে এখন লাপাত্তা। টাকা পেতে প্রতিদিন এলাকার অসংখ্য মানুষ ভিড় করছেন সাবেক এই ক্ষমতাধর এমপির ময়মনসিংহ নগরীর কলেজ রোড ও মুক্তাগাছার বাসভবনে। কিন্তু তার কোন হদিস মিলছে না। ‘বাসায় নেই’ বলে দুই বাসায় অবস্থানরত সাবেক এমপির দুই স্ত্রী পাওনাদারদের প্রতিদিন বিদায় করছেন।

এমপি থাকাকালে নানা কেলেঙ্কারির ঘটনায় বিতর্কিত সাবেক এই এমপির প্রতারণার এমন ঘটনায় স্থানীয় জাপা নেতৃবৃন্দসহ ক্ষুব্ধ ও হতবাক এলাকাবাসী। ময়মনসিংহ সদরের বাদেকল্পা এলাকার পাওনাদারদের একজন জানিয়েছেন, ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা বেগম রওশন এরশাদ এমপিকে অবহিত করা হয়েছে। প্রতারণার শিকার এই পাওনাদারের দাবি, তার মতো এমন পাওনাদারের সংখ্যা অর্ধশতাধিক। চাকরি দেয়ার কথা বলে যাদের কাছ থেকে সাবেক এই এমপি ৩ লাখ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন। এ ব্যাপারে বক্তব্য জানার জন্য সাবেক এমপি সালাহ উদ্দিন আহমেদ মুক্তির মোবাইল ফোনে (নম্বর-০১৭১১-৭১৫১৩২ ও ০১৭১২-৭১১৪১৬) একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

বক্তব্য নেয়ার জন্য সাংবাদিক পরিচয়ে এসএমএস পাঠিয়েও কোন সাড়া মেলেনি। ময়মনসিংহ মহানগর জাপার সভাপতি জাহাঙ্গীর আহমদ জানান, এসব নিয়ে ক্ষুব্ধ বেগম রওশন এরশাদ এমপি তাঁর বাসভবনে নিষিদ্ধ করেছেন মুক্তাগাছার সাবেক এই এমপিকে। স্থানীয় পাওনাদার সূত্রগুলো জানায়, গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে জাতীয় পার্টি থেকে এমপি নির্বাচিত হন জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা ও জাপার সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান বেগম রওশন এরশাদ এমপির কথিত পুত্র মুক্তাগাছা উপজেলা জাপার আহ্বায়ক সালাহ উদ্দিন আহমেদ মুক্তি। এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর নানা কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন মুক্তি।

এ সময় চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ময়মনসিংহ ও মুক্তাগাছার অসংখ্য পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের নগদ টাকা হাতিয়ে নেন। চাকরির আশায় অনেকে জমি বিক্রি করে নগদ টাকা তুলে দেন সাবেক এই এমপির হাতে। অথচ এমপি থাকাকালে এসব পরিবারের কোন সদস্যের চাকরি হয়নি। গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসে পাওনাদারদের ধাওয়াসহ তোপের মুখে পড়েন মুক্তি। স্থানীয় দাওগাঁও ইউনিয়ন জাপার সভাপতি মোঃ শাহজাহান অভিযোগ করে জানান, মাদ্রাসায় পিয়ন পদে নিয়োগের জন্য ২০১৭ সালে পাঁচ লাখ টাকা নেন সাবেক এই এমপি। নিয়োগ দিতে না পারায় এক লাখ টাকা ফেরত দিলেও বাকি টাকা নিয়ে টালবাহানা করছেন তিনি। বাসায় থেকেও নেই বলে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে পাওনাদারদের।

পাওনাদারের এরকম ১৯ জনের তালিকা তার হাতে রয়েছে বলে জানান স্থানীয় এই জাপা নেতা। এমতাবস্থায় হতাশ চাকরি প্রার্থী পরিবারের সদস্যরা মুক্তির বাসভবনে ভিড় জমাতে থাকলে প্রতারণার বিষয়টি জানাজানি হয়। মুক্তাগাছা ও ময়মনসিংহের চাকরি প্রার্থী সূত্রের দাবি, বাসভবনে ভিড় জমানো ১৯ জনের কাছ থেকেই মুক্তি এক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এখন ফোনও ধরছেন না মুক্তি। বাসভবনে দেখা করতে গেলে স্ত্রীর পরিচয়ে বলা হচ্ছে, তিনি বাসায় নেই। এমনকি টাকার জন্য খোঁজ করতে গেলে এখন রীতিমতো অপমান অপদস্থ করে বাসা থেকে বের করে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাসায় গেলে মুক্তির দুই স্ত্রী পাওনাদারদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন অনেকে। বিষয়টি আওয়ামী লীগের স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ বাবুসহ মুক্তাগাছা উপজেলা চেয়ারম্যানকে অবহিত করে প্রতিকার চেয়েছেন ভুক্তভোগীরা। প্রচার রয়েছে, নারী কেলেঙ্কারিসহ জুয়ার টাকা যোগাড় করতেই এমন প্রতারণার আশ্রয় নেন মুক্তি। সরকারের স্থানীয় একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছেও রয়েছে জাপার সাবেক এমপি সালাহ উদ্দিন আহমেদ মুক্তির এসব কেলেঙ্কারির খবর।

ব্রেকিং নিউজঃ